Logo
Logo
×

রাজনীতি

আ.লীগে বাবু বিএনপিতে প্রতিযোগিতা

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:৫৭ পিএম

আ.লীগে বাবু বিএনপিতে প্রতিযোগিতা
Swapno

 

# দখলে রাখার চেষ্টায় আওয়ামী লীগ, পুনরুদ্ধারে তৎপর বিএনপি
# সুযোগের অপেক্ষায় জাতীয় পার্টি

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলার সবচেয়ে দূরবর্তী (শহর থেকে) আসন হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ-২ আসনটি। যা আড়াইহাজার আসন নামে পরিচিত। এক সময় প্রত্যন্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি থাকলেও বর্তমানে আড়াইহাজারে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিণত হচ্ছে আড়াইহাজার। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাই এখানকার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের চলছে বিরামহীন প্রচেষ্টা।

 

এরশাদ সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করার পর ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে এই আসন থেকে মাত্র একবার জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এরপর এই আসনটি হয় আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির দখলে চলে যায়। এর মধ্যে পাঁচবার আওয়ামী লীগ এবং তিনবার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এখান থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে টানা তিনবার এই আসনটি আওয়ামী লীগের অধীনে আছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও আওয়ামী লীগ বিজয়ের মাধ্যমে আসনটি দখলে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে আসনটি পুনরুদ্ধারে ব্যস্ততম সময় পার করছে এখানকার বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

 

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে সম্মিলিত বিরোধী দলের হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন এমএ আউয়াল। ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএ আউয়াল নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে। এর পর থেকে এই আসনে জাতীয় পার্টি আর কোন সংসদ সদস্যের দেখা পায়নি। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) এবং ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির মনোয়ন নিয়ে নির্বাচিত হন আতাউর রহমান আঙ্গুর।

 

অন্যদিকে ১৯৯৬ (জুন) সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এমদাদুল হক ভূঁইয়া। এরপর ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম বাবু। তাই এই আসনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরই মধ্যে এই এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

 

বিভিন্ন দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে মাঠে নেমেছেন সব দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এ আসনে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইবে বলে শোনা যাচ্ছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবীণ ও নবীন সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে জোর লবিং করছে যাচ্ছেন।

 

সূত্র মতে, নজরুল ইসলাম বাবু বর্তমান সংসদ সদস্য এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি। তাই এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ হোসেন, তালিকায় আছেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ইকবাল পারভেজসহ বেশ কয়েকজন। এরই মধ্যে এলাকায় সভা-সমাবেশ, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় আছেন তারা। সরকারের এই তিনবারের মেয়াদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো জনগণের মধ্যে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তারা।

 

তবে এই আসনে পিছিয়ে নেই বিএনপির কর্মকাণ্ড। এরই মধ্যে এবারের নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। এখান থেকে বিএনপির সমর্থন নিয়ে তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর সংস্কারবাদীর খেতাব নিয়ে অনেকটা আড়ালে থাকলেও সম্প্রতি আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরেছেন তিনি। তাই সাবেক এই সাংসদকেও একজন শক্ত মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র।

 

অন্যদিকে আতাউর রহমান আঙ্গুরের ভাতিজা এবং বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি বদরুজ্জামান খান খসরুর ছেলে সাবেক যুবদল নেতা মাহমুদুর রহমান সুমন। এদিকে আঙ্গুর এবং সুমনের রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় অবস্থানে ফিরে আসায় আড়াই হাজার বিএনপির রাজনীতিতে একচ্ছত্র অধিপত্য হারাচ্ছেন আজাদ। তাই আবার আতাউর রহমান আঙ্গুর বিএনপির মনোনয়ন পেলেও অবাক হওয়ার কিছুই নেই।

 

মনোনয়ন পাওয়ার তালিকায় আছেন মাহমুদুর রহমান সুমনও। এবারের নিবার্চনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে এই আসন থেকে দলের প্রার্থী হওয়ারও আভাস দিয়েছেন তিনি। সব কিছু মিলিয়ে এবার সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এই আসন থেকে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিদ্যমান থাকবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল।

এস.এ/জেসি

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন