# নিজের যোগ্যতায় নির্বাচন করার আহ্বান
আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মাঝে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সাথে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক সাথে কাজ করার তাগাদা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। পাশা পাশি নির্বাচনে জেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পাশ করিয়ে আনবেন এমন চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের নির্বাচন নিজেকে করার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কেননা আগামী নির্বাচন হবে খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ। তাই নির্বাচনের মাঠ গুছানোর অংশ হিসেবে জেলা পর্যায়ে ছাত্র লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ যে সকল সহযোগী সংগঠনের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে আছে সে গুলোর সম্মেলন দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে চাইলেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া যাবে না। কেননা এবার জরিপ দেখে মননোনয়ন দিবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভা নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে দলীয় সভানেত্রীর এই বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা লড়ে চরে বসেছে। সেই সাথে নেত্রীর নির্দেশে নিজেদের মত করে মাঠ গুছানোর জন্য কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে নির্বাচিত এসপিরা অংশ গ্রহন করছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন গুলোতে সম্মেলন চলমান রয়েছে। কিন্তু রমজানের কারণে এতে স্থবিরতা হয়ে আছে। রমজানের পর পরই বাকি সম্মেলন গুলো হবে বলে জানান দলীয় নেতৃবৃন্দ।
দলীয় সূত্রমতে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মাঝে ৩টি আসন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার দখলে রয়েছে। অপর দুটি আসন জাতীয় পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ২০০৮ সন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা মনোনয়ন নিয়ে টানা তিন বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ওই এলাকায় তার ব্যাপক সমর্থক রয়েছে।
এবারও তিনি নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানান এই জনপ্রতিনিধির সমর্থকরা। তবে তিনি মনোনয়ন পাইবেন কী না তা সময় বলে দিবে। কিন্তু প্রতিনিয়ত নেতা কর্মীদের আহ্বানে তিনি বিভিন্ন সভা সমাবেশে অংশ গ্রহন করে আবারও নৌকার জন্য ভোট প্রার্থনা করছেন। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আড়াইহাজার আসনে ২০০৮ সন থেকে টানা তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচতি হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে তিনিও কোন দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই।
তিনি তার এলাকায় মানুষের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। সেই সাথে স্থানীয়দের জনসমর্থনের জন্য নানা উন্নয়ন মূলক কাজ করতে পিছিয়ে নেই। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে ২০১৪ সন থেকে টানা দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান। তবে তিনি এর আগেও ১৯৯৬ সনে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তার এলাকায় উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন বলে তিনি বিভিন্ন সভায় বলেন। অবশ্য তার দৃশ্যমানও রয়েছে।
কিন্তু আগামী নির্বাচনে তিনি অংশ গ্রহন করবেন কী না তা এখনো পরিষ্কার করেন নাই। যদিও সম্প্রতি তিনি মাঠে নেমে কয়েক সভায় বলেছেন আগামী নির্বাচনে তিনি অংশ গ্রহন করবেন কী না নিজে জানেন না তা বলেছেন। কিন্ত দলীয় সূত্র বলছে এই নেতার বিপক্ষে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার মত তেমন কোন শক্তিশালী প্রার্থী নেই। দল হয়ত তাকে বেছে নিতে হবে। তবে নেত্রীর নির্দেশনা মতে তিনি ইতোমধ্যে মাঠে নেমে নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধা ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তত নির্বাচন পর্যন্ত।
অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে ২০১৪ সন থেকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা আওয়ামী লীগের শরীক দল জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনিও টানা দুইবার সংসদ সদস্য হয়ে ওই এলাকায় কাজ করছেন। যা চলমান রয়েছে। তবে বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাথে তাদের দল জাতীয় পার্টি শরীক না থাকায় তিনি নিজ দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারেন বলে জানান তার সমর্থকরা। কিন্তু তার বিপক্ষে এবার আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত সহ নৌকার মনোনয়নের জন্য একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। কিন্তু কে মনোনয়ন পাবে তা বলা যাচ্ছে না।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন ২০১৪ সনে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর এখন ওই বছরে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে সেলিম ওসমান সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেন কী না তা এখানো পরিষ্কার করেন নাই। তবে তার সমর্থকরা বলছে তিনি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারেন। কিন্ত গত দুই বারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরীক দল হওয়ায় তার পক্ষে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দও কাজ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নারায়ণগঞ্জের ৩টি আওয়ামী লীগ রয়েছে। আগামী নির্বাচনে তারা আবারও থাকার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিপুর্ণ নির্বাচন হতে পারে বলে মনে করে এবার এক বছর আগে থেকে মাঠে রয়েছে। তাছাড়া গত দুইবারের নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রীর সাপোর্ট পাওয়ায় তারা সহজে জয় পান। কিন্তু এবার আগে থেকেই নেত্রীর দিকে না তাকানোর জন্য বলছেন ক্ষমতাসীন দল সভা নেত্রী।
এস.এ/জেসি


