Logo
Logo
×

রাজনীতি

পাকা খেলোয়ারদের নতুন কৌশল

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৩, ০৮:৩০ পিএম

পাকা খেলোয়ারদের নতুন কৌশল
Swapno

 

# আওয়ামীলীগে প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান
# রাজনৈতিক কৌশলে বিএনপির মাস্টার মাইন্ড গিয়াসউদ্দিন

 

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি মূলত সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি এলাকা ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে গঠিত। শহর ঘেঁষা এই আসনটিতে ব্যাপক শিল্প-কারখানাসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অবস্থান। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার রাজনীতিতে এই আসনটির গুরুত্ব অনেক। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের ন্যায় এই আসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোও এখন খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচন ছাড়াও এই আসনের রাজনীতি নিয়ে জেলা জুড়ে বছরের প্রায় সব সময়ই চলে আলোচনা, সমালোচনা ও বিচার বিশ্লেষণ।

 

তবে এবারের জাতীয় নির্বাচন নিয়েও বেশ জমে উঠেছে এই আসনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। এই আসনটিতে বরাবরই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমানতালে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এবারও সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এই আসনে মূলত আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যেই এই নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দি¦তা থাকবে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি প্রতীকের বাইরে গিয়ে ব্যাক্তির উপরও অনেকটা নির্ভর করবে বলে মনে করেন তারা। একদিকে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনবারের নির্বাচিত সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে বিএনপি থেকে গিয়াসউদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এখানকার নির্বাচন অনেকটাই সেয়ানে হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

 

এরা দুইজনই নিজ নিজ দল থেকে হেভিওয়েট নেতা হিসেবে পরিচিত। যদিও এই দুই জনকে মুখোমুখি হতে হয়েছে মাত্র একবার। আর সেই নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন। তবে উভয় প্রার্থীকেই তাদের নিজস্ব বা দলীয় আভ্যন্তরীণ কোন্দল কিছুটা ভোগাবে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকগণ। তবে যেহেতু এই দুই নেতারই এই আসনে বেশ কিছু সমর্থকগোষ্ঠী ও ভোট ব্যাংক আছে বলে জানা যায় তাই এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি হতে এই দুই প্রার্থীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখা যাবে বলে এখানকার রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি।

 

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে এর আগে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নুকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ কমান্ডার)। এরপর ১৯৯৬ এর ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হন শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী। এরপর ’৯৬এর জুনের নির্বাচনে নির্বাচিত হন একেএম শামীম ওসমান। ২০০১ সালের নির্বাচনে শামীম ওসমানকে হারিয়ে আসনটি উদ্ধার করেন বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন। ২০০৮ সালে শামীম ওসমান দেশের বাইরে ছিলেন এবং এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হন অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী।

 

এরপর ২০১৪ সালে বিনা প্রতিযোগিতায় এবং ২০১৮ সালে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীকে পরাজিত করে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন শামীম ওসমান। শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা। এরই মধ্যে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন আলোচনার টেবিল কিংবা আড্ডায় প্রায় সব সময়ই আলোচনায় থাকেন আওয়ামী লীগ মনোনীত স্থানীয় বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। তার নানান ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন ধরণের আলোচনাও সমালোচনা প্রায় প্রতিনিয়তই হতে দেখা যায়।

 

এর আগে ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমান আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি ভারত এবং কানাডায় আত্মগোপনে চলে যান। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ২০০৯ সালের এপ্রিলে নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসেন শামীম ওসমান। এরপর ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিযোগিতায় ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর কাছে হেরে যান তিনি। তারপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সালের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন তিনি।

 

যদিও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কিছুটা আভ্যন্তরীণ কোন্দলের খবর প্রায় সব সময়ই পাওয়া যায়। তবে শামীম ওসমানের একটি নিজস্ব ভোট ব্যাংক এবং বিশাল একটি কর্মী বাহিনী আছে বলে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে তার তেমন কোন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তার সাথে দলীয় প্রতীকের সুযোগতো আছেই। যদিও গত নির্বাচনের মতো এবারও কাউসার আহমেদ পলাশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে কানাঘুষা আছে। তাই এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে শামীম ওসমানকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে অনেকটা নিশ্চিত মনে করেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা।

 

অন্যদিকে ২০০৬ এর পর রাজনীতি থেকে অনেকটাই নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন। তবে এতদিন যাবত তিনি সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় অবস্থান না করলেও তার একটি বিরাট সমর্থকগোষ্ঠী সেই কাজ চালিয়ে নিয়েছেন বলেও জানা যায়। তাই এবার বিএনপির পক্ষ হতে এই আসন থেকে কাকে মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে সে বিষয় নিয়ে ছিলে ধোঁয়াশা। কিন্তু নতুন করে দলে ফিরে যখন সভা সমাবেশ এবং বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রাখা শুরু করেন তখন থেকেই এবারের মনোনয়ন দৌড়ে তাকে এগিয়ে রাখেন রাজনৈতি বিশ্লেষকগণ।

 

অন্যদিকে এই আসন থেকে মনোনয়ন চাওয়ার মতো বিএনপির প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর তালিকায় ছিল শিল্পপতি শাহ আলমের নামও। তবে তিনি নিজেকে রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে বিএনপি থেকেও এই আসনে গিয়াসউদ্দিন ছাড়া অন্য কারও নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে না। কিন্তু এই আসনেও কিছু বিএনপির আভ্যন্তরীণ কোন্দল গিয়াস উদ্দিনকে কিছুটা ভোগাতে পারে বলে জানা গেছে। সব কিছু মিলিয়ে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে গিয়াস উদ্দিন এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শামীম ওসমানকে মনোনীত করলে এবার নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন