Logo
Logo
×

রাজনীতি

একত্রিত হতে পারছেনা আ.লীগ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৩, ০৭:২৮ পিএম

একত্রিত হতে পারছেনা আ.লীগ
Swapno

 

# নির্বাচনের আগে জটিলতা কাটার সম্ভাবনা ক্ষীণ
# বিভক্তিতে প্রভাব পড়ছে জেলা ও মহানগর আ.লীগে

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগে নানাবিধ রাজনৈতিক সমীকরণে শীর্ষ নেতারা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ায় এক টেবিলে নেই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতি। কারণ নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক একে অপরে বিপরীত মেরুতে বিভক্ত হয়ে রাজনীতি করছেন।

 

এছাড়া জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে তৃণমূলের কর্মীরা ত্যাক্ত বিরক্ত এবং সাম্প্রতিক সময়ে জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে সৃষ্ট জটিল সমীকরণেরও নিরসনের কোন রকম সম্ভবনা তৈরী হচ্ছে না। কারণ নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ দুই নেতা কোন ক্রমেই নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এক টেবিলে বসতে না পাড়ায় সহসা নিরসন হচ্ছে না জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সৃষ্ট জটিল সমীকরণ।

 

সূত্রে বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের আন্তকোন্দল নির্বাচনী বছরেও প্রকাশ্যে রূপ নিচ্ছে। যার কারণে জাতীয় নির্বাচনের বেশ কয়েক মাস হাতে থাকলেও এর আগ মুহুর্তে শীর্ষ নেতাদের আন্তকোন্দল গড়িমসিতে জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগে দৈন্যদশা সৃষ্ট হচ্ছে। গত বছরের শেষ দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে আগের নেতৃত্বে থাকা সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলকে মূল্যায়ন করেই জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করা হয়।

 

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের সময় কমিটি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের শর্ত জুড়ে দিলে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক একগ্রতা প্রকাশ করলেও নয়া নেতৃত্ব পাওয়ার পর শ্রদ্ধা নিবেদন থেকেই সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে পৃথকভাবে দেখা যায়। এছাড়া নয়া নেতৃত্ব পাওয়ার পর থেকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক উভয়ই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রচীনতম দুই বলয় উত্তর দক্ষিণ বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আর এই বলয় ভিত্তিক রাজনীতিকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মসূচিতেও জেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক একে অপরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনের চিত্র দেখা যায়।

 

যার কারণে এখনো দলীয় কোন কার্যক্রমে এক টেবিলে দেখা যায়নি জেলার সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে। এছাড়া কেন্দ্র থেকে জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ক্ষেত্রে তাগিদ দেয়ার গুঞ্জন শোনা যায়। তবে সে সময় জানা যায়, সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ক্ষেত্রে উভয়ই আলাদাভাবে খসড়া কমিটি করার। কিন্তু এখনো নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে কোন রকম বার্তা শোনা যায়নি। তবে জেলার নেতারা বলছেন শীর্ষ নেতাদের এক টেবিলে বসে সকল সিদ্ধান্তই হতে পারে জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে চলমান সকল সমস্যার সমাধান কমিটি নিয়ে জটিলতা।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগে সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাকে বেশ কয়েকদিন একত্রে এক টেবিলে বসে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ওয়ার্ড সম্মেলন করা এবং সম্মেলনে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক একই সূরে কথা বললেও হঠাৎ আচমকা ওয়ার্ড সম্মেলনে নেতা নির্বাচনে বনিবনা নিয়ে তাদের বিভাজন প্রকাশ্যে রূপ নেয়। পরবর্তীতে মহানগর আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে বিভক্ত দেখা দিলে এখনো কমিটিগুলো গঠনের ক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্তে ও এক টেবিলে বসতে দেখা যায়নি।

 

এছাড়া আজ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের শান্তি সমাবেশ নিয়ে দেখা দিয়েছে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতানৈক্য। কারণ নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বিএনপির কর্মসূচিকে সামনে রেখে শান্তি সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। সেখানে মহানগররের প্রতিটি এলাকা এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি শান্তি সমাবেশের বিষয়ে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের পক্ষে ‘শান্তি সমাবেশ’ আমার জানা নেই।

 

কেন্দ্রীয় কর্মসূচী হয়ে থাকলে আমরা শনিবারে শান্তি সমাবেশ করবো। তবে মহানগরের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের এমন পাল্টাপাল্টি কর্মকান্ডে মহানগরের নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ। কারণ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন কিংবা সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা কেউই দলের নেতাকর্মীদের সাথে একত্রে কোনরকম আলোচনা করেন না। তারা নিজেরা নিজেদের মন মত কর্মসূচী ঘোষণা ও পালন করেন। বিগত দিনেও নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করেননি কিংবা তাদের সাথে আলোচনা করে কোন কর্মসূচী তারা করেননি।

 

আলোচনা বা কর্মসূচীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে জানানো হয়না কোন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকেও। এ নিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের মধ্যে ভয়ংকর আঁকারে বিভাজন বিভেদের রাজনীতি রূপ নিচ্ছে। তাই আমারা চাই মহানগর আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে চাই ঐক্য এবং সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের একক সিদ্ধান্ত।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন