খয়রাতি এমপির লজ্জা নিয়ে আবার আমাদের হুমকি দেন: গিয়াসউদ্দিন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৩, ০২:৩৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেছেন, আমি দীর্ঘদিন বিভিন্ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ছিলাম। আমি লজ্জাবোধ করি। আপনাদের দলের অনেক নেতা বলেন বর্তমানে যারা এমপি তারা হল খয়রাতি এমপি। এই লজ্জা নিয়ে আবার আমাদের নিয়ে কথা বলেন, হুমকি দেন। জনগণের কাছে আপনাদের কী ভিত্তি সেটা দেখেন।
শনিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণের সাথে আছি। আমি দীর্ঘদিন প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলাম। প্রশাসনের অনেক লোক আমার পরিচিত। তাদের কাছে গল্প শুনি এখনকার সরকারি দলের এমপি মন্ত্রীরা প্রশাসনের কাছে আবদার নিয়ে গেলে তারা যদি বলে করতে পারবো না তখন এমপি মন্ত্রীরা মেজাজ দেখায়। তখন প্রাশসনের কর্মকর্তারা বলে বড় বড় কথা বলবেন না। আপনারা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হননি। আমরা আপনাদের নির্বাচিত করেছি। আপনাদের কতটুকু জনপ্রিয়তা আমরা জানি।
তিনি বলেন, মানুষ বাজারে গেলে দ্রব্যমূল্য দেখে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এই পবিত্র মাহে রমজানে সেহরি খায় তো ইফতার খেতে পারে না ইফতার খায় তো সেহরি খেতে পারে না। এমন অবস্থায় দেশ চলছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষক কিছু সুবিধাবাদী ছাড়া সকলে কষ্টে আছে। আর সরকারে যারা আছে তারা দেশেই মানুষের অর্থ লুট করে, তারা মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে কোন কাজ করতে পারে না। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবী মানুষের কল্যাণে কাজ করুন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করুন। তারা সেটা করোনি।
তাই মানুষ আজ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর তাই তাদের ক্ষোভ বিএনপির ওপর। সরকার বার বার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে। আমি মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার ছিলাম। এভাবে শাসকরা দেশ লুট করবে দেশ বিদেশিদের হাতে তুলে দেবে, একারণে সেদিন যুদ্ধে যাইনি। দেশের মানুষের কল্যানে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, সেজন্য গিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, তারা শুধু তাদের স্বার্থ বোঝে। বিদেশে কিভাবে কোটি কোটি টাকা পাচার করবে তাদের সন্তানদের জন্য। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বাক স্বাধীনতার জন্য আজ বিএনপিকে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে। আমাদের আন্দোলন কোন ব্যাক্তি কোন সরকারের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের আন্দোলন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। গত চৌদ্দ বছরে তাররা বিরোধী দল ছাড়া দেশ শাসন করছে। সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে তারা সরকারকে বিপথে যাওয়া থেকে বাঁচায়।
কিন্তু এ সরকার গত চৌদ্দ বছর কোন বিরোধী দল হতে দেয়নি। রাজপথে বিএনপি কথা বলছে, সেটাও তারা সহ্য করে না। বিএনপি রাজপথে না থাকলে এ রাষ্ট্রের কী অবস্থা হত তা কেউ ভাবতেও পারবেন না। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে আমরা সরকারের সহায়তা করতে চাই। মুখে যত ভাল কথা বলুক অন্তরে বিষ। অন্তরে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের আকাঙ্খা। এই দাবী মেনে নিন। নয়ত ভবিষ্যতে ক্ষমতাচ্যুত হলে রাজপথে রাজনীতি করতে পারবেন না। এখনই তো পারেন না।
প্রশাসনের ওপর ভর দিয়ে রাজনীতি করছেন।এই দুরবস্থার জন্য বিএনপিকে দায়ী করতে পারবেন না। এর জন্য দায়ী আপনাদের চরিত্র। আপনারা ন্যায় নিষ্ঠা, মানবিকতা ভুলে গেছেন। তিনি আরো বলেন, আজ প্রশাসনের যা অবস্থা এটা দেশের জন্য অমঙ্গলজনক। তাদের যখন অন্যায় কাজে পরিচালনা করা হয় তারা চাকরির খাতিরে প্রতিবাদ না করলেও মনে মনে ঘৃণা প্রকাশ করে। এন.হুসেইন/জেসি


