#কাফনের কাপড় পড়ে রাস্তায় নামবো : শামীম ওসমান
#বর্তমানের সংসদ সদস্যরা হলেন খয়রাতি এমপি : গিয়াস উদ্দিন
আগামী নির্বাচন ঘিরে রাজপথ দিনের পর দিন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মাধ্যমে গরম হচ্ছে। একদিকে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগের নেতাদের ইঙ্গিত করে খোঁচা মেরে বক্তব্য রাখছেন। অপর দিকে বিএনপিকেও ছাড় দিচ্ছে না আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী থেকে শুরু করে বিএনপি নেতাকর্মীদের। আজকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন বললে কালকে একই আসনের আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমান বলেন। রাজনীতির মাঠে কেউ কাউকে ছাড় দেন না।
তাদের এই বাকযুদ্ধ রমজানের আগে থেকে বিভিন্ন সভা মঞ্চে চলে আসছে। রমজানের প্রথম দিকে তাতে ভাটা পড়লেও ১৫ রমজানের পরে সেই বাকযুদ্ধ আবার শুরু হয়। আর এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা হয়। শামীম ওসমান এবং গিয়াস উদ্দিনের কথার লড়াই যেন কোনক্রমেই থামছে না। বিশেষ করে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের দুই নেতাই মাঠে নেমেছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার কথা না বললেও ভিতরে প্রস্তুতি রয়েছে। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানও মাঠে নেমেছেন। সেই সাথে আজ সংসদ ভবনে দলীয় সভা নেত্রীর সাথে সাক্ষাৎও করেন
এদিকে রমজান মাসেও আওয়ামী লীগ বিএনপি মাঠে নেমেছে। একদিকে বিএনপি অনশন করছেন অপরদিকে আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করছেন। রাজনৈতিক ভাবে দুই দলের নেতারাই একে অপরকে সমালোচনা করে বক্তব্য রাখছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিএনপিকে আগুন সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করছে। অপরদিকে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের খয়রাতি এমপি বলে মন্তব্য করছেন। তাদের এই বক্তব্য নিয়ে শহর জুড়ে রাজনৈতিক বোদ্ধমহলে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রমতে জানযায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বিরোধী দল বিএনপির উদ্দেশ্য করে সংসদে বলেছেন, পরিষ্কারভাবে বলতে চাই এবার প্রধানমন্ত্রীর কথাও শুনবো না, কারণ এইবার আমরা যারা এখানে এমপি আছি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আছি, সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে মিলে এইবার বাংলাদেশকে বাঁচানোর জন্য, নেত্রীকে বাঁচানোর জন্য, দেশের ভবিষ্যত বাঁচানোর জন্য, বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানোর জন্য মাথায় কাফনের কাপড় পড়ে মৃত্যুর সঙ্গে এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাস্তায় নামবো। আমাদের কথা যেন হালকাভাবে না নেয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা দেশে আসার পর যেখানে তার বাবার লাশ, মায়ের লাশ যেখানে ছিল সেখানে নামাজ পড়তে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জিয়াউর রহমান তখন দেন নাই। ডেকে ডেকে খাইতে হবে, খাইলে খাবি না খাইলে না খাবি, আসলে আসবি না আসলে না আসবি। নির্বাচনে আসবে না ওই ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। এইটা আর ৭৫ সাল হবে না। এবারও আমরাও ছেড়ে দিবো না।
এর আগে ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াসউদ্দিন ক্ষমাতসীন দলের এমপিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমি দীর্ঘদিন বিভিন্ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি ছিলাম। আমি লজ্জাবোধ করি। বিভিন্ন দলের অনেক নেতা বলেন বর্তমানে যারা এমপি তারা হল খয়রাতি এমপি। এই লজ্জা নিয়ে তারা আমাদের বিভিন্ন সময় হুমকি ধমকি দেন। জনগণের কাছে তাদের কী ভিত্তি তা দেখা দরকার।
বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা জনগণের সাথে আছি। আমি দীর্ঘদিন প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলাম। সেই সুবাদে প্রশাসনের অনেক লোকের সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে। তাদের কাছে গল্প শুনি এখনকার সরকারি দলের এমপি মন্ত্রীরা প্রশাসনের কাছে আবদার নিয়ে গেলে তারা যদি বলে করতে পারবো না তখন এমপি মন্ত্রীরা মেজাজ দেখায়। তখন প্রাশসনের কর্মকর্তারা বলে বড় বড় কথা বলবেন না। আপনারা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হননি। আমরা আপনাদের নির্বাচিত করেছি। আপনাদের কতটুকু জনপ্রিয়তা আমরা জানি।
তিনি দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে বলেন, মানুষ বাজারে গেলে দ্রব্যমূল্য দেখে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এই পবিত্র মাহে রমজানে সেহরি খায় তো ইফতার খেতে পারে না, আবার ইফতার খায় তো সেহরি খেতে পারে না। এমন অবস্থায় দেশ চলছে। সরকারের পৃষ্ঠপোষক কিছু সুবিধাবাদী ছাড়া সকলে কষ্টে আছে। আর সরকারে যারা আছে তারা দেশেই মানুষের অর্থ লুট করে। তারা মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে কোন কাজ করতে পারে না। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবী মানুষের কল্যাণে কাজ করুন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করুন। তারা সেটা করেনি। তাই মানুষ আজ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর তাই তাদের ক্ষোভ বিএনপির ওপর। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বাক স্বাধীনতার জন্য আজ বিএনপিকে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে। আমাদের আন্দোলন কোন ব্যাক্তি কোন সরকারের বিরুদ্ধে নয়। আমাদের আন্দোলন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। গত চৌদ্দ বছরে তারা বিরোধী দল ছাড়া দেশ শাসন করছে। কিন্তু এ সরকার গত চৌদ্দ বছর কোন বিরোধী দল হতে দেয়নি। রাজপথে বিএনপি কথা বলছে, সেটাও তারা সহ্য করে না।
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের ওপর ভর দিয়ে রাজনীতি করছেন। এই দুরবস্থার জন্য বিএনপিকে দায়ী করতে পারবেন না। এর জন্য দায়ী আপনাদের চরিত্র। আপনারা ন্যায় নিষ্ঠা, মানবিকতা ভুলে গেছেন। আজ প্রশাসনের যা অবস্থা এটা দেশের জন্য অমঙ্গলজনক। তাদের যখন অন্যায় কাজে পরিচালনা করা হয় তারা চাকরির খাতিরে প্রতিবাদ না করলেও মনে মনে ঘৃণা প্রকাশ করে।
সবকিছু মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি যেভাবে মাঠে নেমেছে তাতে আগামী নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধমহল। সেই সাথে বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন করে যাচ্ছে। তাদের বিপরীতে আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করছে। আর এতে করে দুই মাঠ পর্যায়ে দুই দলের রাজনীতিও গরম হয়ে উঠেছে। আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কথার লড়াই আরও বাড়তে থাকবে বলে মনে করেন সচেতন রাজনৈতিক মহল।
যা ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বতর্মান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে কথার লড়াই জমে উঠেছে নির্বাচনের মাঠ। আগামীতে তা আরও বাড়তে থাকবে। যা নির্বাচন পর্যন্ত তাদের এই লড়াই চলবে।
এস.এ/জেসি


