মূল্যায়ন না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন খোকন সাহা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৩, ০৭:৪২ পিএম
# দলকে বিভক্ত করার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও ওসমান পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান একেএম শামীম ওসমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেশ কয়েকজন বন্ধু ও সহযোদ্ধা ছিলেন। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল (ভিপি বাদল), মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বাবু চন্দন শীল ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা।
এর মধ্যে আনিসুর রহমান দিপু সেই বলয় থেকে বের হয়ে আসলেও এখনও আছেন বাকি তিন বন্ধু। এদের মধ্যে বিভিন্ন সময় মান অভিমান থাকলেও ঘুরে ফিরে তারা এখন পর্যন্ত সেই শামীম ওসমানের সাথেই রয়েছেন। এরই মধ্যে বন্ধু শামীম ওসমান দলীয়ভাবে মূল্যায়ন পেলেও তার বন্ধুরা সেই অনুযায়ী কোন মূল্যায়ন পায়নি বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠে। এবার যখন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচনের সময় যখন বাবু চন্দন শীলকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন তখনই বাকিদেরও প্রত্যাশা বাড়ে বলে মিডিয়ায় খবর আসে। বিষয়টি নিয়ে ওসমান পরিবার থেকেও (নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান) দাবি জানানো হয়।
তবে এবার সরাসরি এডভোকেট খোকন সাহার বক্তব্যেও প্রকাশ পেল সেই অধিকারের সুর। শনিবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের এক শান্তি সমাবেশে এডাভোকেট খোকন সাহা এবারের জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেনের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনিতো অনেক পেয়েছেন! অন্যদেরকেও পাওয়ার সুযোগ করে দেন। আপনি বলেন, ‘দল আমাকে অনেক দিয়েছে এবার অন্যরাও কিছু পাওয়ার দাবি রাখে।’ সেটা না করে দলকে আপনারা বিভক্ত করছেন। আমি কেন্দ্রে জানিয়ে দিয়েছি, ইতিমধ্যে তা নেত্রীর কাছে পৌঁছেও গেছে।
এর আগে ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে মনমালিন্য তৈরি হয় তার খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত আনিসুর রহমান দিপুর। তখন শামীম ওসমানের আরেক বন্ধু ভিপি বাদলকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তবে এডভোকেট খোকন সাহার সাথেও বেশ কয়েবার মনমালিন্য কিংবা দূরত্ব তৈরি হয়েছে শামীম ওসমানের।
তবে ঘুরে ফিরে খোকন সাহা আবারও সেই পুরানো বন্ধু শামীম ওসমানের সঙ্গী হন। এর মাঝে ২০১৯ সালের নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে খোকন সাহা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নেয়ার জন্য জোর লবিং চালিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এর আগেরকার নির্বাচনে তিনি ওসমান পরিবারের পক্ষে কাজ করেছেন তাই তাকে তারা ফিরিয়ে দিবে না বলে ধারণা করেছিলেন তিনি। তবে সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মোহসীন মিয়াকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এর আগেও জেলা ও মহানগর আওয়ামী যুব মহিলা লীগের কমিটি গঠন ও পাল্টা কমিটি গঠন নিয়ে খোকন সাহার সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল শামীম ওসমানের। তবে তারা দীর্ঘদিন যাবত একসাথে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন একে অপরের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে বন্ধুর মতো কাজ করেছেন। তাই এক বন্ধু একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হলে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে কথা ওঠে।
বছর দুয়েক আগে বন্দরের ধামগড়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় সাংসদ সেলিম ওসমান ভিপি বাদলকে মেয়র পদে নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি অনুরোধ করেছি আবু হাসনাত বাদলকে; তুমি আগামীতে (২০২২ সালের) মেয়র নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নাও। এ সময় তিনি আরও বলেন, খোকন সাহা, চন্দন শীল, নিজাম, হেলাল, সাজনু, নিপু, ওরা অনেক সময় (আওয়ামী লীগের হয়ে) পার করেছে। শামীম ওসমান যদি সংসদ সদস্য হতে পারে, তাহলে তারাও সংসদ সদস্য হতে পারে। তাদের শুধুমাত্র সিদ্ধান্ত নিতে হবে কে কোন পদে লড়বে।
২০২২ সালের নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে দলীয় ফরম সংগ্রহ করে জমা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগরের সহসভাপতি বাবু চন্দন শীল ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা। তবে সেই নির্বাচনে মেয়র পদের জন্য আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে। এছাড়া একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে যারা দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তাদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দীপু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল (ভিপি বাদল)।
এস.এ/জেসি


