Logo
Logo
×

রাজনীতি

শামীম-মামুনের বাকযুদ্ধ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৩, ০৭:৪২ পিএম

শামীম-মামুনের বাকযুদ্ধ
Swapno

 

# আমার সাথে তার দু’একবার দেখা হয়েছে, কথাও হয়েছে : শামীম ওসমান
# দু’বার দেখা হয়েছে, কখনও কথা হয়নি : মামুন মাহমুদ

 

 

দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের সাথে আঁতাত করে রাজনীতি করার অভিযোগ ছিল দলীয় নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের পক্ষ হতে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিডিয়ায়ও একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

 

মামুন মাহমুদকে ওসমান পরিবারের লোক উল্লেখ করে তাদের কাছ থেকে টাকা খেয়ে নিজেদের দলীয় শক্তিকে বৃদ্ধির বিষয়টিকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজের আখের গোছানোসহ অর্থের বিনিময়ে কমিটিতে পদ দেওয়া এবং আওয়ামী পন্থী অর্থাৎ যারা আওয়ামী লীগের সুযোগ নিয়ে রাজনীতি করার মনমানসিকতা সম্পন্ন লোকদের নেতৃত্বে নিয়ে আসার অভিযোগ ছিল বিভিন্ন সময়। বিষয়টি নিয়ে দলীয় বিভিন্ন স্তর থেকে প্রতিবাদও হয়েছে কয়েকবার। অন্যদিকে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের সাথেও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে দলের মধ্যেই গিয়াসকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলাদা একটি বলয় সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ আসে।

 

তবে এবার আওয়ামী লীগের এই এমপির মামুন মাহমুদের প্রতি প্রীতি ও ভদ্রতা প্রকাশ করে একই সাথে গিয়াস উদ্দিনকে মামুন মাহমুদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করে হেয় করার চেষ্টা এবং মামুন মাহমুদকে খুবই সম্মানের সাথে নাম উচ্চারণ করে বক্তব্য দেওয়া শুরু করার বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে চলছে আলাপ আলোচনা ও বিচার বিশ্লেষণ। এমনকি সম্প্রতি সময়ে মামুন মাহমুদকে ভদ্র লোক উল্লেখ করে বক্তব্য দেওয়া এবং তার সাথে দু’একাবার দেখা ও কথা হওয়ার কথা বলছেন শামীম ওসমান। তবে তার সাথে দুবার দুটি অনুষ্ঠানে দেখা হলেও তার সাথে কখনও কোন কথা হয়নি বলে জানিয়েছেন মামুন মাহমুদ।

 

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্পর্ক অনেকটাই সাপে নেউলের মতো। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে বিএনপির প্রতিষ্ঠা লগ্নের পর থেকে নারায়নগঞ্জে এই দুটি দলের সম্পর্ক কখনও ভালো হতে দেখা যায়নি। তবে ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে এবং নিজেদের স্বার্থ আদায়ের লক্ষ্যে উভয় দলেই বেশ কিছু সুবিধাবাদী নেতা কর্মী আছে বলে দুটি দল থেকেই বিভিন্ন সময় অভিযোগ আসে। আওয়ামী লীগ থেকেও অভিযোগ করা হয় এখানে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি থেকে লোক প্রবেশ করছে, যাদেরকে হাইব্রীড কিংবা কাউয়া মার্কা আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

 

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একাধিক নেতার বিরুদ্ধেও সরকারী দল থেকে সুবিধা নিয়ে নিজেরে দলের স্বার্থ বিরোধী কাজ করা হয় বলেও দলীয় সূত্র থেকে বিভিন্ন সময় দাবি করা হয়। তবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের প্রত্যাবর্তনের কথা শোনা যাওয়ার পর থেকেই এমপি শামীম ওসমান মামুন মাহমুদের উপর সহানুভূতি প্রকাশ করাসহ তাকে ভদ্রলোক আখ্যায়িত করে অনেকটা আকস্মিকভাবেই তার পাশে দাঁড়ান তিনি। যা ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

 

বিশেষ করে একজন আওয়ামী লীগের রানিং সাংসদ নিজের মুখে নাশকতা সহ প্রায় আড়াই ডজন মামলার আসামিকে ভদ্রলোক হিসেবে সম্বোধন করা বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলেছে। যা গত আগস্ট থেকে শুরু হলেও গত পরশু সদর উপজেলায় এক অনুষ্ঠানে এবং ঠিক একইভাবে গতকাল ফতুল্লার একটি ইফতার পার্টিতেও তিনি একই বক্তব্য প্রদান করেন তিনি। যেখানে মামুন মাহমুদকে ভদ্রলোক উল্লেখ করাসহ কিছুদনি আগে তার উপর আক্রমণ হওয়া আক্রমণের খুব সুন্দর করে বর্ণনা দেন তিনি। এমনকি সেই ঘটনায় তিনি হয়তো মারাও যেতে পারতেন উল্লেখ করে খুবই দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। একই সাথে প্রত্যেকটি জায়গায়ই মামুন মাহমুদের সাথে দু’একবার দেখা হওয়াসহ কথা হয়েছে বলেও দাবি করেন এই সাংসদ।

 

তবে বিষয়টির সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন বিএনপির এই নেতা। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের এই সাংসদের একাধিক বক্তব্যের দাবি করা তার সাথে কথা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে একটি মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাতকারে প্রথমে তিনি শামীম ওসমানের সাথে কখনও দেখা হয়নি বলে উল্লেখ করেন। তবে এরপর তিনি বলেন, উনার সাথে আমার একবার এক টকশোতে দেখা হয়েছিলো এবং আরেকবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিলো। কিন্তু শামীম ওসমানের সাথে তার কখনও কথা হয়নি বলে দাবি করেন মামুন মাহমুদ। উনার সাথে জীবনে কোনোদিন কথা হয়নি, যোগাযোগতো পরের কথা।

 

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে একজনের সাথে আরেকজনের দেখা সাক্ষাৎ হওয়াটা দোষের কিছু না। তবে দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন এই বিষয়টি জনগণসহ আমার দলের নেতাকর্মীরা মূল্যায়ন করবে। তার প্রতি দলের আস্থা আছে বলেই তিনি ধারাবাহিভাবে যুবদল, থানা বিএনপি, জেলা বিএনপির তো জায়াগায় দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আমি কোনো আঁতাত বা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করি নাই।

 

তাহলে এত মামলা আমাকে খেতে হতো না। এতবার কারাগারেও যেতে হতো না। যে এমি প্রায় সব সময়ই বিএনপিকে বিএনপির নেতৃবৃন্দকে গালমন্দ করেন অথচ তাকে কেন এমন ভদ্রলোক বলে সম্বোধন এরকম প্রশ্নের উত্তরে মামুন মাহমুদ বলেন, আমি রাজনীতিতে বিভিন্ন ধাপ পার করে আজ মূলদলে এসেছি। আমার রাজনীতির ধারা সর্বজন স্বীকৃত। তাই আমি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ এবং মুরুব্বীদের স্নেহবোধ সবসময়ই পেয়ে আসছি। সেটা শামীম ওসমান কি অন্যজন কি কেউ আমাকে প্রশ্ন উত্থাপন করবে এমন কোনো কাজ আমি করি না।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন