না.গঞ্জ-৫ আসনে আ.লীগের প্রার্থী নিয়ে আলোচনা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৩, ০৫:৪৮ পিএম
# ছাড় পাচ্ছে না জাপা
# আ.লীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে
আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ভাবে উত্তপ্ততার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করছে আওয়ামী লীগ বিএনপি। এক দিকে টানা চতুর্থ বারের মত ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বাচনের প্রচারনায় ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থেকে হটানোর জন্য রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছে বিএনপি। দুই দলই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক মাঠে রয়েছেন। বিএনপি যুগপুৎ আন্দোলন করলে তাদের বিপরীতে আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করে। রমজানের আগ পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন জোরালো ভাবে চালিয়ে গেছে। তাদের এই আন্দোলনে রমজানেও চলমান রয়েছে। রমজান মাসেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ বিএনপি মাঠ ছাড়েন নাই।
এদিকে আগামী নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার দাবী নিয়ে জোরালো ভাবে মাঠে নেমেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তাদের এই দাবী দিনের পর দিন আরও জোরালো হচ্ছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারাও ২০১৮ সনের নির্বাচনের পর থেকে সদর বন্দর এলাকায় জোরালো ভাবে নৌকার প্রার্থীর দাবী জানিয়ে আসছে। কেননা এই আসনটি দীর্ঘ দিন যাবৎ জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। তাদের থেকে কোন ভাবেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ উদ্ধার করতে পারছে না।
তাই উদ্ধারের জন্য তারা দাবী জানিয়ে আসছে। তারা আর জাতীয় পার্টির উপর ভর করে থাকতে চান না। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার এমপি না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের অভিযোগ এখানে দীর্ঘ দিন যাবৎ জাতীয় পার্টির এমপি থাকায় তারা অবহেলিত হয়ে আছে। তাই তারা আর অবহেলিত থাকতে চান না। আর এজন্য এখানে নৌকার প্রার্থী দেয়ার জন্য দাবী তুলেছেন স্থানীয় নেতা কর্মীরা।
দলীয় সূত্রমতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন নিয়ে নৌকার প্রার্থী বাছাই তালিকায় দলীয় সভানেত্রীর নজরে আসারা জন্য একাধিক প্রার্থী মাঠে নেমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। সেই সাথে মানুষের মাঝে গিয়ে এখন থেকে মাঠ গুছিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের মাঝে একাধিক প্রার্থী নৌকা পেতে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। প্রতিযোগিতার তালিকায় আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু রয়েছেন। তিনিও বিভিন্ন সভায় তার বক্তব্যের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার দাবী জানিয়ে আসছেন।
সেই সাথে সদর বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। গত নির্বাচনেও তিনি নৌকার মনোনয়ন চেয়ে দলীয় ফরম ক্রয় করেন। তার সমর্থকদের দাবী আগামী নির্বাচনে তিনি নৌকার প্রার্থী হিসেবে এখানে তাকে যোগ্য মনে করছেন তৃনমূল নেতা কর্মীরা। পাশাপাশি নৌকার জন্য ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। কেননা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এই বছরের শুরু থেকে নির্বাচনী প্রচারনা নেমেছেন। এবং নেতা কর্মীদের নামার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে সদর বন্দর এলাকায় এড. আনিসুর রহমানের দিপুর সমর্থকরা তাকে নৌকার প্রার্থী চেয়ে ব্যনার ফেস্টুন টানান।
আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু জানান, আমরা আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জ ৫ এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নৌকার দাবী জানিয়ে আসছি নেত্রীর কাছে। কেননা নৌকার মালিক দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যাকে নৌকা দিবেন আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। আমি ২০০৮ সনের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম সংগ্রহ করি। পরে ২০১৮ সনের নির্বাচনেও নৌকার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করি।
তিনি আরও বলেন, সদর বন্দর এলাকায় আওয়ামী লীগের এমপি না থাকায় আমাদের দলীয় নেতা কর্মীরা অবহেলিত হয়ে আছে। সেই সাথে আমরা অন্যের উপর ভর করে থাকতে চাই না। এখানে জাতীয় পার্টির এমপি থাকায় দলীয় নেতা কর্মীরা তাদের দুঃখ কষ্ট কারো সাথে শেয়ার করতে পারেন না। তাই আমরা এখানে নৌকার প্রার্থী চাই। আগামী নির্বাচনে এখানে আমিও নৌকার মনোনয়ন চেয়ে দলীয় ফরম সংগ্রহ করবো। নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়ে মূল্যায়িত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
তার সাথে পাল্লা দিয়ে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা। তিনিও এখন থেকে নেতা কর্মীদের নিয়ে মাঠে রয়েছেন। দলকে সাংগঠনিক ভাবে গুছিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনিও ২০১৮ সনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে দলীয় ফরম সংগ্রহ করেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন কে নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন সভায় নানা মন্তব্য করেন।
আনোয়ারকে উদ্দেশ্য করে গত ৮ এপ্রিল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা বলেন, নেত্রী আপনাকে যথেষ্ঠ সম্মান দিয়েছে। আপনি অনেক পেয়েছেন। যারা পায় নাই তাদেরকে পাওয়ার সুযোগ করে দিন। তিনি দলকে বিশ টুকরো করেছেন। আজ তিনি নৌকা চেয়ে পোষ্টার টানাচ্ছেন। আবার তার দেখাদেখি অনেকেই নৌকা চেয়ে ব্যানার ফেস্টুন টানিয়েছেন। আনোয়ার ভাইকে নাসিক মেয়র বানানোর জন্য আমরা কাজ করেছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি ২০০৮ সন থেকে টানা জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। এখনো পর্যন্ত তাদের দখলে রয়েছে। ২০০৮ সনে আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির মহাজোট থাকায় তখন এই আসন থেকে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সনের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মারা যাওয়ার পর এখানে+ ওই বছরে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে সেলিম ওসমান সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
পরে তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেন কী না তা এখনো পরিস্কার করেন নাই। তবে তার সমর্থকরা বলছে তিনি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারেন। কিন্তু গত দুই বারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরীক দল হওয়ায় তার পক্ষে ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দও কাজ করেছেন। কিন্তু এবার তাদের শরীক না থাকায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা ধোয়াশায় রয়েছেন। আর এদিকে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নৌকার দাবী জোরালো হচ্ছে। সেই দিক দিয়ে তিনি কিছুটা বেকায়দায় পড়তে পারেন।
কেননা এবার আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা মাঠে নেমেছে। এছাড়া এখানে ক্ষমতাসীন দলের মাঝে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়ার নামও রয়েছে। অন্যান্য নির্বাচনের তুলানায় আগামী নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী বাছাই তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদলের নামও রয়েছে। সেই সাথে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামও পিছিয়ে নেই। তিনি নৌকার প্রার্থী হয়ে সদর বন্দর এলাকায় ব্যনার ফেস্টুন টানিয়েছেন। তবে তিনি ২০১৬ সনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত হয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হন।
দলীয় বিশ্লেষকদরে মতে আগামী নির্বাচান হবে প্রতিদ্বন্দ্বিপুর্ণ নির্বাচন। তাই এই বছর আওয়ামী লীগ আগে থেকে মাঠে নেমে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া গত দুইবারের নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রীর সাপোর্ট পাওয়ায় অনেকেই সহজে জয় পান। কিন্তু এবার আগে থেকেই নেত্রীর দিকে না তাকানোর জন্য বলছেন ক্ষমতাসীন দল সভা নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাছাড়া বিগত দিনে যারা বিতর্ক কর্মকান্ডে লিপ্ত তাদের আমল নামা দেখে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হবে।
তাই রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আসতে পারে। আর এজন্য এখন থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন বাছাইয়ে এগিয়ে থাকার জন্য এখন থেকে মাঠে রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে কে আসবে তা নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটে তা পরিষ্কার হবে।
এস.এ/জেসি


