Logo
Logo
×

রাজনীতি

দ্বন্দ্ব থাকলেও সক্রিয় বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৩, ০৮:০২ পিএম

দ্বন্দ্ব থাকলেও সক্রিয় বিএনপি
Swapno

 

# বিভক্তি থাকলেও কর্মসূচি পালনে সকল কর্মীরা একত্রিত

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিতে চলছে নিজেদের নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি। মহানগর বিএনপির কমিটির পর থেকে দফায় দফায় অবহৃত রয়েছে পৃথকভাবে সভা-সমাবেশ। অপর দিকে জেলা বিএনপির ও নবাগত কমিটি গঠনের পর থেকে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ কমিটিতে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার তাল বাহানা করছে যা বর্তমানে প্রকাশ্যে। এছাড়া জেলা ও মহানগর বিএনপিতে কখনো কখনো আক্রামনাত্মক বক্তব্যে তোলপাড় সৃষ্টি হচ্ছে।

 

তবে নিজের মধ্যে শত বিবাদেও কেন্দ্রে ঘোষিত সকল নির্দেশনা ও কর্মসূচী পালনে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপকভাবে উজ্জ্বীবিত রয়েছে বিএনপির নেতামকর্মীরা। বর্তমানে বিরোধী দল বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে রাজপথে ব্যাপক সক্রিয় রয়েছে। নেতাকর্মীদের দাবি, আমাদের মধ্যে যতই হামলা-মামলা নির্যাতন করা হোক না কেন তারা রাজপথের আন্দোলন আরও হার্ডলাইনে নিয়ে যাবে। তারা আরো বলছে বিগত ২০১৪, ২০১৮ সালের নির্বাচনের মত আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দিবে না।

 

তবে, আগামী নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে পুরনো মামলা ও গ্রেফতারে। তার পরেও তাদের দাবিয়ে রাখাটা অসম্ভব হয়ে উঠছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছে, আর মাত্র কয়েক মাস বাকি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। এই নির্বাচনটিতে এই স্বৈরাচারী সরকার বিগত নির্বাচনের মত না করতে পারে সে বিষয়ে সকল নেতা কর্মীদের আরো সোচ্চার হতে হবে। আর চলতি বছর বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি চূড়ান্ত আন্দোলনের বছর। তাই বর্তমানে নেতাকর্মীদের মধ্যে যে বিভেদ রয়েছে সেগুলো ভূলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরো বলছে, নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে কোন কোন্দল সৃষ্টি না করে। সকলে মনোমালিন্য হয়ে আলাদা আলাদা রাজপথে না থেকে একত্রিত হয়ে রাজপথে থাকা দরকার।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের আগস্ট মাস থেকে নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ ক্ষমতাচুত্য অবস্থায় থাকা দলটি। তারই মাঝে দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালীতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের মধ্যে নিহত হন যুবদল কর্মী মো. শাওন। সেই হামলার পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে তাদের সক্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করেছে। তখন থেকেই তাদের সক্রিয়তা দেখে হাইকমান্ড বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচির ঘোষনা দেয়। যার সর্বশেষ সমাবেশের দিন ধার্য করা হয়েছিল ১০ ডিসেম্বর সেই সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির সমাবেশের পূর্বে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

এতে করে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী আহতসহ একাধিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপির শত শত নেতাকর্মীর নামে মামলা করে পুলিশ। কিন্তু কোনভাবেই এই স্বৈরাচারি সরকার তাদেরকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে আরো শক্তিশালী করার লক্ষে প্রথমে মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আবার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিকে বিলুপ্ত করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই জেলা বিএনপি একের পর এক চমক দেখিয়ে যাচ্ছে।

 

যা বিগত কমিটিতে থাকা নেতৃবৃন্দরা দেখাতে অসক্ষম ছিলেন। যার কারণে এই কমিটিতে থাকা ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক যিনি বিগত কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন মামুন মাহমুদ তিনি তাদের কমিটির সক্ষমতা দূর্বল করার লক্ষে একটি নিজেই তার লোক দ্বারা একটি বলয় তৈরি করেছেন। কিন্তু একে অপরের মধ্যে বাকযুদ্ধ থাকলে ও সকলেই দলীয় কর্মসূচিগুলোতে ব্যাপকভাবে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে সফল করছে সকল কর্মসূচি। যার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা বিএনপির অভয় নেতাকর্মীরাই রাজপথে ব্যাপক সক্রিয়। অপর দিকে মহানগর বিএনপির কমিটি হওয়ার পর মহানগর বিএনপি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পরে।

 

আর পাল্টাপাল্টি সকল কার্যক্রমই বিদ্রোহীরা মূল মহানগর বিএনপির কমিটির সাথে করে থাকছে। কিন্ত দলীয় কোন প্রোগ্রামে কোন কর্মীরই অবহেলা নেই। সকলেই যার যার মতো করে দলীয় নির্দেশনা পালন করে যাচ্ছে। আর নেতাকর্মীদের এতো উৎফুল্লতায় বিএনপির হাইকামান্ড দীর্ঘ ১ বছর যাবৎ দফায় দফায় আন্দোলন সংগ্রামের কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। যা পালনে নেতাকর্মীরা সর্বক্ষেত্রে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। কিন্তু নেতাকর্মীদের অভিযোগ প্রত্যেকটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বিনা উস্কানিতে হামলা করেছে আওয়ামী পুলিশ বাহিনী কিন্তু আমাদের মধ্যে যাই থাককু আমাদের আর দাবিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

 

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা দল করি বিএনপি। দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের দল ক্ষমতাচুত্য রয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো এই দলের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি। কারণ আমরা এই দলকে মনে প্রানে ভালোবাসি। আর সংগঠন করতে গেলে নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্যে ঠিক রাখতে হবে। আর বর্তমানে আমাদের সকল নেতাকর্মী অনেকটাই উজ্জ্বীবিত হয়ে রয়েছে। তারা কোন বাধাকে আর বাধা মনে করে না। সকল বাধাকে উপেক্ষা করে রাজপথে সর্বক্ষেত্রে আমরা প্রস্তুত ছিলাম, আছি আর সর্বদা থাকবো।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন