# বিএনপির ভেতরে গভীর উদ্বেগ উৎকন্ঠা
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এবার জেলা বিএনপির আহবায়ক ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে ঠেকাতে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বস্ত একটি সূত্র। আর এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে বলে সূত্রটি জানায়। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির একজন নেতাকে হত্যা করে এই হত্যাকাণ্ডের দায় গিয়াস উদ্দিন এবং তার ছেলেদের উপর চাঁপানো হতে পারে। যদিও আরো কয়েক বছর আগে গিয়াস উদ্দিন ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে একটি খুনের মামলা দেয়া হয়েছিলো।
এক কিশোরকে তার বন্ধুরা হত্যা করে লাশ গিয়াস উদ্দিন মডেল কলেজের পুকুরে ফেলে রেখেছিলো। এই হত্যা মামলা দিয়ে গিয়াস উদ্দিন ও তার পরিবারকে ব্যাপক হয়রানী করা হয়েছিলো। কিন্তু পরে এই হত্যা মামলায় জড়িতরা গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের জবানবন্দীতেই প্রমাণ হয় ওই কিশোর হত্যায় গিয়াস উদ্দিন বা তার সন্তানরা জড়িত ছিলেন না। মূলত ওই সময় যারা কিশোরকে হত্যা করেছিলো তারা গ্রেফতার হওয়ায় তাদের দেয়া জবানবন্দীর কারণে গিয়াস উদ্দিন ও তার সন্তানরা রেহাই পান।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিশোররা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কিভাবে এবং কেনো ওই হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয় তার বিষদ বিবরন দেয়। তখন তাদের দেয়া বর্ণনায়ই পরিস্কার হয়ে যায় এই ঘটনা গিয়াসউদ্দিন বা তার ছেলেরা কোনো ভাবেই জড়িত নয়। তখনো একজন প্রভাবশালী এমপির নির্দেশে গিয়াস উদ্দিন ও তার সন্তানদেরকে এই হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছিলো বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছিলো।
এদিকে এবার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গিয়াস উদ্দিন যাতে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন ছক আঁকা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে বিএনপির গিয়াস বিরোধী নেতা হিসাবে পরিচিত জেলা বিএনপির একজন যুগ্ম আহবায়ককে টার্গেট করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়। তবে এরই মাঝে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায় এবং ষড়যন্ত্রের বিষয়টি বিএনপির ভেতরেও চাউর হয়। তাই এখন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক উদ্বেগ উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে গিয়াস উদ্দিনের অনুসারী বিএনপি নেতাদের মাঝে এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। আর এটা করে এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের টার্গেট করা হয়েছে বলে সূত্র দাবি করছে। কারন গিয়াস উদ্দিন ও তার প্রতিপক্ষ ওই নেতা দুই জনেই আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাই এদের একজনকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া গেলে এবং অপরজনকে ওই মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া গেলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে এবং আগামী নির্বাচনে দূর হবে পথের কাঁটা। তাই এ ব্যাপারে বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এস.এ/জেসি


