Logo
Logo
×

রাজনীতি

ফের মাঠ দখলের প্রস্তুতি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:৫৯ পিএম

ফের মাঠ দখলের প্রস্তুতি
Swapno

 

# আলাদা কৌশল নিয়ে তৃণমূলকে সংঘবদ্ধ করছে দুই বড় দল

 

 

পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ফের উত্তপ্ত হচ্ছে রাজপথ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি রাজপথ দখলে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই দলই। মাঠের রাজনীতিতে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে নানা প্রস্তুতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। সেই সাথে তারা নির্বাচনী প্রচারনায়ও নেমেছে। পাশাপাশি বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলা এবং অপপ্রচারের জবাব ও উন্নয়ন প্রচারে মাঠে নামার নির্দেশনা দিয়েছে দলীয় হাই কমান্ড। অপরদিকে বিএনপিও ক্ষমতাসীন  দলকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য একের পর এক কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন করে যাচ্ছে। এমনকি ঈদুল ফিতরের আগে রমজান মাসেও তাদের এই আন্দোলন চলমান রেখেছে বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ।

 

এদিকে ঈদের পর অফিস আদালত খোলার পরপরই নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতা কর্মীরা মামলার হাজিরা দেয়ার জন্য আদালত পাড়ায় ভীর জমান। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতা কর্মীদের একাধিক নেতৃবৃন্দ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে আসলে কয়েকজন নেতৃবৃন্দর জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন। আর এতে করে জেলা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

 

এদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ঈদের পর ভোটের প্রস্তুতি আরও জোরালো করে মাঠ দখলে রাখতে চায় ক্ষমতাসীনরা। একই সাথে এখানকার স্থানীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকার দাবী জানিয়ে আসছে। আর এজন্য একাধিক প্রার্থী মাঠেও নেমেছেন। এছাড়া ক্ষমতাসীন দল যখন আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের রণকৌশল প্রস্তুত করছেন ঠিক সেই সময়ে সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের পরিকল্পনা প্রায় শেষ করেছে বিএনপি। আর তারই অংশ হিসাবে ঈদের পর আন্দোলনের গতি বাড়াবে দলটি।

 

অপর দিকে আগামী  পহেলা মে মহান মে দিবসে ঢাকায় বড় শোডাউনের মধ্য দিয়ে ঈদের পর মাঠে নামছেন দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। ওইদিন রাজধানীতে শ্রমিক মহাসমাবেশ বা র‌্যালি করার উদ্যোগ নিয়েছে তারা। এরপর তৃণমূল থেকে পুনরায় সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করতে চায় দলটি। ঢাকা থেকে বিভিন্ন বিভাগ অভিমুখে রোডমার্চ বা লংমার্চ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এভাবে ধারাবাহিক কর্মসূচি দিয়ে রাজপথ দখলে রাখতে চায় বিএনপি। ধীরে ধীরে তা বেগবান করে সময় ও সুযোগ বুঝে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে অলআউট মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

 

রমজান মাসেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপি রাজপথে মাঠে থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। সেই সাথে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন ঝাঁঝালো বক্তব্য দিয়ে নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত রেখেছেন। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদেন খয়রাতি এমপি বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। তার বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানও বিএনপি নেতাদের ছেড়ে কথা বলেন নাই। তিনি বিএনপি নেতাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, এখানে কে কী বললো তাদেরকে ফ্যক্টর মনে করি না আমরা। এই দুই নেতার কথার লড়াই নিয়েও নারায়ণগঞ্জ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সেই সাথে তাদের মন্তব্যের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনের আগে যে রাজপথ গরম হতে যাচ্ছে তাই রাজনৈতিক বোদ্ধমহল ভালো ভাবেই বুঝতে পেরেছে।

 

জেলা আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন ঈদের আগে এক সভায় বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়াসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমাদের এ আন্দোলনে দিন দিন সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে। শিগগিরই চলমান আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই দেওয়া হবে কর্মসূচি। তাতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এক সময় গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেবে বলে আশা করি। তিনি বলেন, সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মানুষের সঙ্গে আমাদের ঐক্য সুদৃঢ় হয়েছে। আমাদের এই আন্দোলন দমাতে সরকার নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু এসব করে এবার তাদের পতন ঠেকাতে পারবে না। কেননা এই সরকারকে মানুষ এখন আর চায় না।  

 

আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি :

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলনে আছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে তারা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় এমপিদের মাঠে নেমে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সাথে এবার আগে থেকে নির্বাচনের জন্য মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশনা মতে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের সংসদস্যরা ইতোমধ্যে নিজেদের মত করে মাঠ গুছিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।  

 

দলীয় সূত্রমতে, তিন মেয়াদে টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনেও জয় পেতে আগেভাগেই মাঠ গোছানো শুরু করেছে দলটি। এত লম্বা সময় ক্ষমতায় থাকায় তৃণমূলে বেড়েছে দ্বন্দ্ব। তা নিরসনে এবার সরাসরি পদক্ষেপ নিচ্ছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে জেলা, উপজেলা ও মহানগরের নেতাদের গণভবনে ডেকে কথা বলছেন তিনি। এছাড়া বেশ কয়েকটি জেলায় জনসভা করেছেন। দলীয় প্রার্থী বাছাই, জোটের ইশতেহার তৈরি, সদস্য সংগ্রহসহ অন্যান্য কাজও শুরু করেছে। ঈদের পর এসব কর্মসূচিতে গতি বাড়াতে পারে দলটি।

 

বিএনপির আন্দোলনের প্রস্তুতি :

সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের পরিকল্পনা প্রায় শেষ করেছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। এরই অংশ হিসাবে ঈদের পর আন্দোলনের গতি বাড়াবে দলটি। মহান মে দিবসে ঢাকায় বড় শোডাউনের মধ্য দিয়ে মাঠে নামছেন তারা। ওইদিন নারায়ণগঞ্জ জাতীয়তাবদী দল বিএনপি সহ অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ সেখানে অংশ গ্রহন করবে বলে জানান স্থানীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ। সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করতে চায় দলটি। ঢাকা থেকে বিভিন্ন বিভাগ অভিমুখে রোডমার্চ বা লংমার্চ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে তাদের। এভাবে ধারাবাহিক কর্মসূচি দিয়ে দখলে রাখা হবে রাজপথ। ধীরে ধীরে তা বেগবান করে সময় ও সুযোগ বুঝে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে অলআউট মাঠে নামবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। সে লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে সার্বিক প্রস্তুতি।

 

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানান, রাজপথে নামার আগে যুগপৎ আন্দোলনে থেকে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে, চলমান আন্দোলনে যাতে স্থবিরতা না আসে সেজন্য পবিত্র রমজান মাসেও কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থেকেছে বিএনপি। রমজান মাসেও জেলা, থানা-উপজেলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বিএনপির। ১১ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশের অধিকাংশ ইউনিয়নে পালন করা হয় অবস্থান, মানববন্ধন ও গণসংযোগ কর্মসূচি।

 

এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রমজানেও নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখা হয়। আগামী দিনে রাজপথে আন্দোলনের বার্তা নিয়ে ঈদে নেতাদের এলাকায় পাঠানো হয়। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন আগামী নির্বাচনের আগে আন্দোলন এবং প্রতিরোধের মাধ্যমে রাজপত উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে। সেই সাথে ঈদের পর আন্দোলনের মাধ্যমে মাঠ দখলে রাখতে বিএনপি কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে নামতে যাচ্ছে। আর তা শুরু হচ্ছে আগামী পহেলা মে শ্রমিক দিবসের মাধ্যমে। আগামী নির্বাচনের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত দুই দলই রাজপথে থাকছে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন