# দলীয় কার্যক্রমে অনেক পিছিয়ে
# সাংগঠনিক দুর্বলতা বাড়ছে তৃণমূলে
আগামী নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠ গরম করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও দেশের প্রধান বিরোধী দল জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি। গত বছরের ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতসীনদের মাঝে এক ধরনের ভয় তৈরী করেছে বলে মনে করেন তারা। তবে তাদের আন্দোলন বিক্ষোভ সভাকে কর্ণপাত করছে না আওয়ামী লীগ। তারা তাদের মত করে বিএনপিকে প্রতিহত করে যাচ্ছে। ২০২২ সনের ডিসেম্বরের পর থেকে এখন অব্দি পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বিএনপি পাল্টা পাল্টি কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে।
বিএনপি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদের পাশাপাশি সরকারের পদত্যাগের দাবী জানিয়ে আসছে। অপর দিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের মাধ্যমে নেতা কর্মীদের মাঠে রেখে তাদের আন্দোলনকে দমন করে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধমহল। কিন্তু এই দিক দিয়ে চুপ চাপ থেকে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টি নিরব ভুমিকায় রয়েছেন। তারা কোন পথে আগাচ্ছেন তা নিয়ে শহরের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে।
কেননা বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সাথে মহাজোট শরীক দল হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছেন। কিন্তু ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামী লীগের শরীক না থাকায় তারা নিরব ভুমিকায় থেকে সুযোগ সন্ধানে রয়েছেন। তবে এবার আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের ছাড় দিতে নারাজ। আর এজন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা এখন থেকে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার জন্য জোরালো ভাবে দাবী জানিয়ে আসছেন।
এদিকে সম্প্রতি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ইদানিংকালে শহরের হোন্ডাবাহিনী, জুট সন্ত্রীদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার এই বক্তব্য নিয়ে শহর তথা ব্যবসায়ী সমাজ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সারা ফেলেছে। তিনি জুট সন্ত্রাসী নিয়ে যে ভাবে মুখ খুলেছেন এই ভাবে যদি নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টিকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলার লক্ষ্যে মনোযোগি হন তাহলে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টি হয়ত আগের অবস্থান ফিরে পেতে পারে।
তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টি মানেই এক সময়কার সকলের পরিচিত নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানকে চিনেন। তিনি জীবিত থাকা কালীন নারায়গঞ্জ জাতীয় পার্টি সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী ছিলেন। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর এই দলটি স্থানীয় ভাবে হযবরল হয়ে আছে বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির একটি অংশ। আগামী রোববার প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের ৯ম মুত্য বার্ষিকী হতে যাচ্ছে। আর এই নিয়ে জাতীয় পার্টিতে তেমন একটা তোর জোর না থাকলেও তার অনুসারীরা বিভিন্ন স্থানে দোয়ার আয়োজন করেছে বলে জানান একাধিক সূত্র।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মাঝে ২ টি আসন জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। তার মাঝে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এই দুই আসন থেকে তারা দুই বারের এমপি নির্বাচিত নিজ নিজ আসনে উন্নয়ন মূলক কাজ করে যাচ্ছেন।
তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ প্রচারনায় নামলেও তারা নিরব ভুমিকায় রয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন থেকে আলোচনা হচ্ছে আগামী নির্বাচন খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ হবে। আগের মত সহজ জয় কেউ নাও পেতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছে নির্বাচনের গতি কোন দিকে মোড় নেয় সেই দিকে তাকিয়ে রয়েছে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। আর এজন্য জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তোলেন তারা কোন পথে হাঁটতে যাচ্ছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির এক সময়ের কর্ণদার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমান মারা যাওয়ার পর থেকে এখানে জাতীয় পার্টি সাংগঠনিক সংকটে পড়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধমহল। কেননা নাসিম ওসমান জীবিত থাকা কালীন নেতা কর্মীরা তার কাছে মনের সুখ দুঃখ বলতে পারতেন কিন্তু এখন আর পারেন বলে জানান একাধিক নেতা কর্মী। অপর দিকে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশব্যাপী দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিলেও সেই উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষকরা।
ইতেমধ্যে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। সেই সাথে তারা আবারও নৌকায় ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। যার চিত্রও ফুটে উঠেছে গত বছরের যশোরের জনসভায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকলকে আবারও নৌকা ভোট দেয়ার আহবান করেন। সেই দিক দিয়ে জাতীয় পার্টি এখনো মাঠে নামে নাই। তবে রাজনৈতিক মহলের মাঝে আলোচনা হচ্ছে তারা এখন সুযোগ সন্ধানীতে আছেন। অর্থাৎ বাংলায় একটা কথা আছে ঝোপ বুঝে কোপ মারে। রুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফল ভোগ করা। তারা এরকম কিছুর অপেক্ষায় আছে বলে মনে করেন অন্যান্য দলের নেতা কর্মীরা।
দলীয় সূত্রমতে জানাযায়, আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ এবং নারায়গঞ্জ ৩ আসনে জাতীয় পার্টির দুই সংসদ সদস্য মাঠে সক্রিয় হয়েছেন। তার মাঝে একজনের হুঙ্কারে ব্যবসায়ী থেকে অনেক জুট সন্ত্রাসীরা লড়েচরে বসেছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচনের ঘোষনা না দিলেও ইতোমধ্যে বন্দরে জেলা মহানগর জাতীয় পার্টিল কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। তবে এখানে জাতীয় পার্টি তেমন একটা শক্তিশালী হতে পারে নাই বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা।
তার বিপরীতে সাংগঠনিক ভাবে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। তার নির্বাচনী এলাকায় গত ৯ বছরে জাতীয় পার্টি অনেকটা ঘুরিয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেখানে এবার নৌকার ব্যপক প্রার্থী থাকায় কিছুটা বেকায়দায় রয়েছে তিনি। এছাড়া বিএনপির নির্বাচনে অংশ গ্রহন করলে তার জন্য আবারও এমপি নির্বাচিত হওয়া অনেকটা কষ্টকর হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধ মহল।
তাই তিনি আগামী নির্বাচনে এখন থেকে মাঠ গুছানোর পাশাপাশি সন্ধানে রয়েছেন আগামী নির্বাচনে তার দল কিভাবে এবং কোন পরিকল্পনায় আগাবে। এছাড়া উপজেলা থানা ইউনিয়ন পর্যায়ে জাতীয় পার্টির শক্তিশালি কমিটি না থাকায় দল র্দুবল হয়ে আছে। কমিটিতে নেতায় নেতায় রয়েছে দ্বন্দ্ব, পদ-পদবি নিয়ে কর্মী কর্মী দ্বন্দ্ব, স্থানীয় নেতাদের আধিপাত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে বিরোধ, কোথাও কোথায় নেতা-কর্মী সংকট, আবার কোথায় কোথায় নেই দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম। সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার জন্য ব্যাপক সাংগঠনিক কার্যক্রম হাতে নিলেও বাস্তবায়ন হয়নি সিংহভাগই।
স্থানীয় জাপার একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, এক সময়ে জাপার দুর্গখ্যাত নারায়ণগঞ্জ জাপার অবস্থান এখন নড়বড়ে। জেলা জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে সানাউল্লাহ সানু ও আবু নাইম ইকবাল আসার পর থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করনোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কতটুকু পারছেন তা তাদের দলীয় কার্যক্রমই বলে দিবে। এছাড়া মহানগর জাতীয় পার্টিতেও এখন নতুন নেতৃত্ব তৈরী হয়ে দল গুছানোর জন্য তার কাজ চলমান রেখেছেন।
মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন জানান, আগামী নির্বাচনে দল কিভাবে আগাবেন তা কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত আসবে। তবে আমরা স্থানীয় ভাবে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সেই সাথে নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে সাংগঠনিক ভাবে দলকে গুছানোর জন্য আমাদের দলীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এস.এ/জেসি


