# কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে জেলার নেতারা
আগামী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক দলগুলো। এমনকি পবিত্র রমজান এবং ঈদকে কেন্দ্র করেও রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা তাদের যে সমস্ত কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন তার বেশির ভাগই ছিল নির্বাচনকে টার্গেট করে। একদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তার সমমনা দলগুলো সরাসরি নির্বাচনের প্রতিদ্বদ্বিতাসহ নির্বাচনে নিজেদের দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করছেন। চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মী সংযোগসহ গণ সংযোগ।
অন্যদিকে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, একই সাথে যেকোন মুহুর্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রয়োজন হলে দলীয় মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে ত্রুটি করছেন না। এরই মধ্যে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের শরীক বা জোট দলগুলোর অবস্থানও বিচার বিশ্লেষণ করছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। এখানকার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের দলের সমর্থন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন নিজস্ব প্রক্রিয়ায়।
গণসংযোগ, সভা সমাবেশে বক্তব্য প্রদান, বিভিন্ন সংগঠনের কাজে অংশগ্রহণ, দলীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে গোগদান, নিজ দলের এবং নিজেদের প্রশংসা ও যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা একই সাথে বিরোধী পক্ষের কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের দোষত্রুটি তুলে ধরাসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
বিভিন্ন সূত্রমতে এবারের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জর প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের তালিকায় পুরাতনরাই অনেকটা এগিয়ে আছেন। অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বর্তমান সাংসদ এবং মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতীক), নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বর্তমান সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বর্তমান সাংসদ একেএম শামীম ওসমান মনোনয়নের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন বলে জানা যায়। তবে এসব আসন থেকেও জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো যোগ্য আরও বেশ কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন। তবে সবকিছু নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের উপর।
অন্যদিকে বাকী দুটি আসন অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নে পেতে দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের সাথে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রের নজরদারীতে আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল (ভিপি বাদল), মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহাসহ বেশ কয়েক জন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আছেন বলে জানা গেছে। যাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলেন, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার, স্বাচিপের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু এবং আওয়ামী লীগের তরুন প্রজন্মের নেতা এরফান হোসেন দ্বীপ। এর বাইরেও দলীয় সমর্থন পেতে একাধিক নেতা ও সমর্থক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, একদিকে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও নির্বাচনের বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তাই যেকোন পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে দলীয় মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন বিএনপির একাধিক নেতা। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, কার্যনির্বাহী পরিষদের আরেক সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান মনির। বর্তমানে মূলত এই দুইজনের নাম প্রকাশ্যে থাকলেও হাল ছাড়ছেন না বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার।
তিনিও দলে ফেরার জন্য এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য সর্বপ্রকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে আলোচনায় আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, বিএনপির তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, তার ভাতিজা এবং বিএনপির সাবেক ধমির্বষয়ক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি বদরুজ্জামান খান খসরুর ছেলে সাবেক যুবদল নেতা মাহমুদুর রহমান সুমনসহ বেশ কয়েকজনের নাম।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আলোচনায় আছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, তালিকায় আছেন বিএনপি থেকে একটানা চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম। এর বাইরেও এবার জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে এই আসন থেকে নতুন মুখ আসলেও অবাক হওয়ার কিছুই নেই বলে মনে করেন সচেতন মহল।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এক সময় একাধিক নাম শোনা গেলেও বর্তমানে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন চৌধূরীর নামটিই বেশ গুরুত্বের সাথে শোনা যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় তেমন জোরালোভাবে কোন নেতার নাম আলোচনায় না আসলেও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। তাছাড়া বিএনপির তিনবারের নির্বাচিত সাবেক এমপি এডভোকেট আবুল কালামের নামও শোনা যাচ্ছে। এই আসন থেকেও নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন দলীয় একাধিক সূত্র।
নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির অনেকটা শক্ত অবস্থান আছে বলে মনে করেন অনেকে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বর্তমান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার নাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান এমপি একেএম সেলিম ওসমানের নাম এককভাবে শোনা যাচ্ছে। তারা দুজন এই দুটি আসন থেকে দলীয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে নাগরিক ঐক্য থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ এসএম আকরামও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তবে এই চিত্র অনেকটাই নির্ভর করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না তার উপর। যদি বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় তাহলে টোটাল পরিকল্পনাও পরিবর্তন হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
এস.এ/জেসি


