# রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার ভয় থেকেই এতো কাণ্ড
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমানের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন। বিগত বছরগুলিতে এড. তৈমুর আলম খন্দকার এবং কাজী মনিরুজ্জামানও জেলা বিএনপির দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তারা কখনোই শামীম ওসমানের টর্গেট হননি। এই এমপিকে কখনো তৈমুর আলম বা কাজী মনিরের কোনো সমালোচনা করতে দেখা যায়নি। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন আহবায়ক হওয়ার পর থেকেই নানা ভাবে গিয়াস উদ্দিনকে ঘায়েল করার চেষ্ঠা করছেন শামীম ওসমান।
এমপি যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই গিয়াস উদ্দিনের সামলোচনা করছেন। বিপরীতে শামীম ওসমানের সামালোচনার জবাব দিচ্ছেন গিয়াস উদ্দিন। তিনি তাকে ভয় না পেয়ে বেশ দৃঢ়রতার সাথে এবং যুক্তিসঙ্গত ভাবে এমপি শামীম ওসমানের সত্য-মিথ্যা অভিযোগের জবাব দিচ্ছেন এবং পাল্টা আক্রমন করে বক্তব্য রাখছেন। তাই শামীম ওসমান ও গিয়াস উদ্দিনের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বেশ জমে উঠেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি।
অপরদিকে এরই মাঝে গিয়াস উদ্দিনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায় থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে এমপি শামীম ওসমান রাজনৈতিক ভাবে গিয়াস উদ্দিনকে মোকাবেলা করতে না পেরে ষড়যন্ত্রের পথ বেঁছে নিয়েছেন। নানা রকম ফৌজদারী মামলা দিয়ে গিয়াস উদ্দিনকে ঘায়েল করার চেষ্ঠা করছেন শামীম ওসমান। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এই পথ বেঁছে নিয়েছেন বলে গিয়াস উদ্দিন ও তার সমর্থক নেতাকর্মীদের অভিযোগ।
কিন্তু প্রশ্ন হলো শামীম ওসমান কেনো গিয়াস উদ্দিনকে এতোখানি গুরুত্ব দিচ্ছেন বা ঘায়েল করতে চাইছেন? এই প্রশ্নের বেশ কয়েকটি উত্তর রয়েছে। ১) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি অংশগ্রহন করে তাহলে ওই নির্বাচনে শামীম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন গিয়াস উদ্দিন। আর নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হয় তাহলে শামীম ওসমানের হেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের বহু মানুষ। তাই শামীম ওসমান এখনই গিয়াস উদ্দিনকে নানা ভাবে ঘায়েল করার চেষ্ঠা করছেন।
২) এডভোকেট তৈমুর আলম আর কাজী মনির জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন কিন্তু তারা শামীম ওসমানের নিজের আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন না। তাই শামীম ওসমান হয়তো মনে করতেন তারা তাদের রাজনীতি করুক শামীম ওসমানেরতো কোনো ক্ষতি করবে না। তাই এদের বিরুদ্ধে তিনি কোনো কথা বলেন ন। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়নকে টার্গেট করেই মাঠে নেমেছেন। তাই শামীম ওসমানের দুশ্চিন্তার কারন হয়েছেন গিয়াস উদ্দিন।
৩) ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্রিশ হাজারের বেশি ভোটে গিয়াস উদ্দিনের কাছে হেরেছিলেন শামীম ওসমান। তাই এখন নতুন করে সেই জ্বালা মনে পড়েছে তার। তাই গিয়াস উদ্দিনকে তিনি সহ্য করতে পারছেন না। ফলে গিয়াস উদ্দিনকে আক্রমন করছেন শামীম ওসমান।
এছাড়া এসব কারণ ছাড়াও আরো একটি বড় কারণ হলো গিয়াস উদ্দিন একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ। বিগত ১৫/১৬ বছরে তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা থেকে শুরু করে দুদকের মামলা সহ নাশকতার বহু মামলা হয়েছে। কিন্তু এসব মামলায় তাকে কিছুতেই ঘায়েল করা যায়নি। এতে প্রমান হয়েছে গিয়াস উদ্দিনকে জব্দ করা মোটেও সহজ নয়। শত হামলা মামলার পরেও গিয়াস উদ্দিন দেশ ত্যাগ করেননি। তাই এখন তার বয়স ৭০ বছর হলেও শামীম ওসমান তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ভয় পাচ্ছেন। আর এ কারণেই তিনি বিএনপির এই বর্ষিয়ান নেতাকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছেন বলে মনে করেন অনেকে।
এস.এ/জেসি


