গিয়াসউদ্দিনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চাঁদাবাজি মামলার নয়া ড্রাফট
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৩, ০৭:২৪ পিএম
# আগে আসামীর সংখ্যা ছিলো ১০ এখন ১৪
# বাদীর অভিযোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি পূর্ব পাড়া এলাকার সেই শরীফ আহম্মেদ এবার জেলা বিএনপির আহবায়ক গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে যে চাঁদাবাজির অভিযোগটি করেছেন; সেটার ড্রাফট পরিবর্তন করেছেন। নতুন ড্রাফট করে আসামীদের নামের পরিবর্তন এনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন এই শরীফ আহম্মেদ। নতুন ড্রাফটে এবার আসামীর সংখ্যা গিয়াস উদ্দিন সহ চৌদ্দ।
এবার কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক বিল্লাল হোসেন এবং বিএনপি নেতা শামীম ঢালির নাম আসামীর তালিকায় রাখা হয়েছে। আগে আসামীর সংখ্যা ছিলো ১০, এখন করা হয়েছে ১৪। গতকাল কয়েকটি বিশ^স্থ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রধান টার্গেট হলেন গিয়াস উদ্দিন।
তাই এসব অসঙ্গতি থেকে বুঝা যায় গিয়াস উদ্দিন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে কতোটা নোংড়া খেলা শুরু করেছে প্রতিপক্ষ। তবে জেলা বিএনপির এই শীর্ষ নেতাকে ঘায়েল করাই তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রধান টার্গেট। তাই গিয়াস উদ্দিন ও তার কর্মীদেরকে নানা রকম নেগেটিভ উপাদী দিয়ে এই মামলা দায়েরের চেষ্ঠা চলছে। কিন্তু এরই মাঝে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি জেনে গেছে এবং বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বিএনপির জেলা পর্যায়ের এই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা নিতে সতর্কতা অবলম্বন করছে।
যদিও জেলার একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এই মামলাটি গ্রহন করার জন্য পুলিশের উপর চাঁপ প্রয়োগ করছেন বলে জানা গেছে। তবে শরীফ আহম্মেদের তথাকথিত এই চাঁদাবাজীর অভিযোগের ড্রাফ পরিবর্তন করার মধ্য দিয়েই বুঝা যাচ্ছে জেলা বিএনপির আহবায়ক গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে কি ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। গতকাল দৈনিক যুগের চিন্তার পক্ষ্য থেকে অনুসন্ধান চালিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে এই অভিযোগের বাদী শরীফ আহম্মেদ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি কোনো ব্যবসায়ী বা শিল্পপতি নন। তেমন কোনো টাকাপয়সা নেই তার। সরকারকে তেমন কোনো ইনকাম ট্যাক্সও দেন না তিনি। তাহলে তার কাছে ১৭ লাখ টাকা চাঁদা কেনো গিয়াস উদ্দিন চাইবেন সেই প্রশ্ন রয়েছেন। তিনি যদি কোটিপতি হতেন তাহলে তার কাছে লাখ টাকা চাঁদা চাইলে কিছুটা বিশ্বাসযোগ্য হতো। এক লাখ টাকা দেয়ার সক্ষমতাও শরীফের নেই।
বিপরিতে গিয়াস উদ্দিন এই জেলার একজন বিত্তশালী রাজনীতিবিদ। তার টাকাপয়সার কোনো অভাব নেই। তিনি একাধিক স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসা চালান। তিনি মার্কেট ভাড়া পান। তাহলে গিয়াস উদ্দিনের মতো একজন বিত্তশালী রাজনীতিবিদ কেনো তার কাছে এই মোটা অংকের টাকা চাঁদা চাইবে সেই প্রশ্ন উঠেছে খোদ শরীফ আহম্মেদের এলাকার মানুষের মাঝে। তাদের পরিস্কার বক্তব্য হলো গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে শরীফ যে অভিযোগ দায়ের করেছে সেটা একেবারেই মিথ্যা।
প্রশাসন এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে। আসলে শরীফ কারো গুটি হিসাবে ব্যাবহার হচ্ছে। কারো নির্দেশে এবং প্ররোচনায় শরীফ এই অভিযোগ দায়ের করেছে। তাও এ সময়ে এসে আবার অভিযোগটি পরিবর্তন করেছে। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রাখার কোনো বিকল্প নেই বলেই নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহলের দাবি। কেনোনা রাজনীতির এই নোংড়া খেলার শেষ পরিনতি আরো খারাপ হতে পারে বলেই সচেতন মহল মনে করেন। এ ক্ষেত্রে শরীফকে টার্গেট করা হতে পারে।
তাকে গুম, খুন করার আশংকাও রয়েছে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে। তাকে শারীরিক ভাবে আরো বড় ধরনের ক্ষতি করে দায় চাঁপানো হতে পারে গিয়াস উদ্দিনের উপর। তাই এখনই তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব গোলাম ফারুক খোকন স্বাক্ষর করে এই বিবৃতিটি পাঠান। বিবৃতিতে একজন অতি উৎসাহী সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির আহবায়ক দিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জেলা বিএনপির বিবৃতিতে বলা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরে কে সন্ত্রাসের জনক এবং সারা দেশে গডফাদার হিসাবে পরিচিত সেটা সারা দেশবাসী জনে।
কাদের ছত্রচ্ছায়ায় এখানে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হয় এবং নারায়ণগঞ্জে কারা গুম, খুন ও চাঁদাবাজী সহ সকল অপকর্মের সাথে জরিত সেটা বিগত দিনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট দেখলেই পরিস্কার হয়ে যাবে। তাই গিয়াস উদ্দিনের মতো একজন জাতির শ্রেষ্ট সন্তার বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে এই ধরনের ঘৃন্য ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া যায় না। জেলা বিএনপি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং প্রশাসনকে এখনই যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করার জন্য দাবি জানাচ্ছে। এন.হুসেইন/জেসি


