# ডিশলাইন নিয়ে, রিকশা লাইন নিয়ে মারামারি হয়, চাঁদা চাওয়া হয়
# সন্ত্রাসী করবা, জায়গা দখল করবা কোন ছাড় দিব না
# ভুল হয়ে থাকে তাহলে আমাদের মাফ করে দিয়েন
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বলেছেন, আপনারা আমাকে একটু সহযোগিতা করেন। আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা যাতে ঠিকমত স্কুলে যেতে পারে। আপনাদের কাছে আমি বিনীত অনুরোধ রাখবো একটাই, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যে স্কুলে যায়, সেই স্কুলের পরিবেশটা যেন ভালো থাকে। শান্তিপূর্ণ বন্দরকে অশান্ত করবেন না। সন্ত্রাসী হিসেবে গণ্য হইবেন না। আপনি যে-ই হন; থাকতে পারবেন না। এখনও সময় আছে সংশোধন হন। আসুন ক্ষমা চান। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিব।
কিন্তু সন্ত্রাসী করবা, জায়গা দখল করবা কোন ছাড় দিব না। তিনি বলেন, আমি উপলব্দি করেছি, একেকটা ইউনিয়নে একেকটা মাস্তান আছে। সবাই যদি একত্রিত হয় তাহলে মাস্তানরা আর মাস্তান হতে পারে না। প্রত্যেকটি চেয়ারম্যানকে আমি বলে দিলাম প্রতিরোধ কমিটি গড়েন। নতুন করে সাইনবোর্ড লাগানো শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ একেএম নাসিম ওসমানের নবম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় সাংসদ সেলিম ওসমান আরও বলেন, কলাগাছিয়ায় আমার মেম্বারের কাছে ১ লাখ টাকা চায়। কোন সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দিবেন না। জনপ্রতিনিধিদের বলছি। বন্দরের পবিত্রতা রক্ষা করেন। প্রত্যেকটা ইউনিয়নে, প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে প্রতিরোধ কমিটি তৈরি করেন। কে সন্ত্রাসী করে বেড়ায় তার তালিকা দেন। বন্দরে সাইনবোর্ড সাটানো বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আবার নতুন করে সাইনবোর্ড লাগানো শুরু হইছে। ডিশলাইন নিয়ে, রিকশা লাইন নিয়ে মারামারি হয়, চাঁদা চাওয়া হয়। এসব বন্ধ করতে হবে।
আমি সৎ পথে থাকবো, সৎ পথে উপার্জন করবো। জোর গলায় সামনে বলতে পারবো, হারাম খাব না, হারাম খেতেও দিব না। যখন ডাক আসবে তখন চলে যেতে হবে, সে জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। যতক্ষণ দম চলবে ততক্ষণ ওসমান পরিবারের সদস্য, খান সাহেব ওসমান আলীর নাতি, জোহা সাহেবের সন্তানেরা মানুষের গোলামী করে যাবে। গোলামী ছাড়া অন্যকিছু চলবে না। আমি প্রথম থেকেই বলেছি, আমি গোলামের চাকরি নিয়েছি। আপনাদের কাছে আমি বিনীত অনুরোধ রাখবো একটাই, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন স্কুলে যায়, সেই স্কুলের পরিবেশটা যেন ভালো থাকে।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান বলেন, আমার বাবার যে অবস্থান ছিল তিনি ইচ্ছে করলে নারায়ণগঞ্জের অর্ধেকটাই কিনে নিতে পারতেন, কিন্তু তারপরও তিনি চলে যাওয়ার সময় (মৃত্যুর সময়) আমাদের জন্য কিছুই রেখে যাননি। আমরা আমার বাবার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনারা ওসমান পরিবারের কথা বলেন, কিন্তু ওসমান পরিবারে আমরা একা না, শুধু আমাদের ভাইবোন ও নাতি নাতনী নিয়েই ওসমান পরিবার না।
ওসমান পরিবার হলো নারায়ণগঞ্জের মানুষ, যাদের সাহস ও ভূমিকায় নির্বাচিত হয়ে আমরা কিছু কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তারা সবাই এই ওসমান পরিবারের সন্তান। এই পরিবারের জন্য তাদের ঋণ আমরা কোনদিনও শোধ করতে পারবো না। আমাদের যদি কোন ভুলত্রুটি থাকে আমি সবার কাছে মাফ চাই। যদি কালকে না থাকি, আমরাতো মানুষ, ফেরেশতা বা শয়তান না। তাই আমাদেরও ভুল হতে পারে। যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে আমাদের মাফ করে দিয়েন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দন শীল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ রশিদ, বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কুদরত এ খোদা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালিমা হোসেন শান্তা, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোদাচ্ছেরুল হক দুলাল, সাধারণ সম্পাদক ও নাসিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও জাতীয়পার্টির নেতা, কর্মী এবং সমর্থকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এস.এ/জেসি


