বাম রাজনীতিতে কার্যকারী উদ্যোগ না থাকায় এখনও অনৈক্য
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৩, ০১:১৪ পিএম
# বাম গণতান্ত্রিক জোটের সাথে ঐক্য এখন বড়ই হচ্ছে :হাফিজুল ইসলাম
# বামপন্থীরা ঐক্যবদ্ধ হই আর এই লুটেরাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠি : আওলাদ হোসেন
# ১৪ দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছি : হিমাংশু সাহা
# তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমরা অংশগ্রহণ করবো : নিখিল দাস
সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সবচাইতে পছন্দের রাজনীতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন বাম রাজনীতি। তারা বিগত দিনে মানুষের দুঃসময়ে পাশে থেকে জনগণের সকল দাবি আদায়ে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। কিন্তু হঠাৎ বাম রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনঐক্যর প্রভাব পরে যার কারণে তাদের মধ্যে বিভক্তির দেখা মিলে। যা কারণে ২০২২ সাল থেকে বাম গণতান্ত্রিক জোট বিগত দিন থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে। যার কারণে তাদের সাথে থাকা অনেক কর্মীই তাদের কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছে।
কিন্তু নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি নিয়ে ছোট পরিসরে হলেও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দরা। ইতি মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নির্বাচনকে সমানে রেখে ক্ষমতাসীন দলসহ বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দরা সক্রিয় হওয়া শুরু করেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি অঙ্গন বর্তমানে অনেকটাই উত্তপ্ত অবস্থা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত দিনে বাম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা রাজপথে সক্রিয় ছিল। কিন্তু বর্তমানে নিজেদের মধ্যে দিধাদ্বন্দ্ব ও কিছু গাফলতির কারণে বর্তমানে অনৈক্য নিয়েই ঘুরছে তারা। অপর দিকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আন্দোলন সংগ্রাম বিগত দিনে থেকে অনেকটাই কমে গিয়েছে। অপর দিকে তাদের মধ্যে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কোন পদক্ষেপ না থাকার কারণে তাদের মধ্যে সমস্যার দেখা দিচ্ছে।
কিন্তু নির্বাচনের আগে নিজেদের রাজনীতি আরো শক্তিশালী করতে চান বাম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা। তাদের ধারনা অতি শীগ্রই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি থেকে আলাদা একটি বিকল্প শক্তি প্রয়োগ করতে তারা রাজপথে। এছাড়াও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও জোটের সঙ্গে কোন কর্মসূচিতে নেই বাংলাদেশ জাসদের নেতৃবৃন্দরা। তারা বিকল্প জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। এদিকে সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি নিজেদের জোট সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছে।
তারই ধারাবাহিকতায় গণসংহতি, গণ অধিকার পরিষদ বিএনপির সাথে জোট গঠন করে নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ করেছে। আওয়ামী লীগের শরিক দলে থেকেও তারা বিরোধী দলের ভূমিকা রয়েছেন জাসদ। সব মিলিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটে অনঐক্যর শেষ নেই। কিন্তু সামনে নির্বাচনকে সমানে রেখে অনেকটাই রাজপথে শক্তিশালী হয়ে আসতে চাইছেন তারা।
যার কারণে তৃণমূলের দাবি, বাম গণতান্ত্রিক জোটের মধ্যে বর্তমানে কোন ঐক্য নেই যার কারণে যারা তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রয়েছে তারা ছোট পরিসরে হলেও দফায় দফায় রাজপথে নানা সাধারন মানুষের দাবি আদায়ের কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু বর্তমানে যে ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলো বাম গণতান্ত্রিক জোটের সাথে যুক্ত হচ্ছে যার কারণে আগামীতে বাম গণতান্ত্রিক জোট একটি আলাদা বিপ্লব ঘটাতে পারবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের ওয়াকার্স পার্টি বর্তমানে ১৪ দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছি। তাই বলে কিন্তু আওয়ামী লীগের সকল কর্মকান্ডকে আমরা বাহাবা দিয়ে থাকি না। আমার সাধারন জনগণের সকল দাবি আদায়ে তাদের পাশে রয়েছি। আর আমরা মনে করছি বাম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা ও সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নির্বাচন নিয়ে অনেকটা তোর জোর চলছে সেই ক্ষেত্রে আমাদের দাবি ছিল। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন। এই সরকারের অধীনে কোন সুষ্ট নির্বাচন করা সম্ভব না। সেই কারণেই আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আমাদের নানা দাবি রয়েছে। আর আমরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত আছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের বাম গণতান্ত্রিক জোটের থেকে অনেকে অন্য জোটের সাথে মিলিত হয়েছে। কিন্তু অন্য অন্য আরো বাম রাজনৈতিক দল আমাদের বাম গণতান্ত্রিক জোটের সাথে যুক্ত হচ্ছে তাই আমাদের বাম গণতান্ত্রিক জোটের সাথে ঐক্য এখন বড়ই হচ্ছে।
ন্যাপ নেতা আওলাদ হোসেন যুগের চিন্তাকে বলেন, বাম রাজনীতি হলো সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতি। যেখানে বৈশম্যহীন একটি সমাজ পতিষ্ঠা করা যাবে সেই লক্ষ্যে নিয়েই বাম রাজনীতিকরা কাজ করে থাকে। আমরা বাম নেতৃবৃন্দরা যে রাজনীতি করে যাচ্ছি এটা হলো অর্থনীতি মুক্তির লড়াই, মানুষের সকল চাওয়া পাওয়ার মুক্তির লড়াই। সেই লড়াই থেকে যদি নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়।
নির্বাচন যদি স্বাধীন নির্বাচন হয় যে নির্বাচনে কোন ব্যালটে ছিল না থাকবে না, ক্ষমতার প্রভাব থাকবে না। এই ধরনের নির্বাচন হলে আমরা সেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো। তিনি আরো বলেন, বাম রাজনীতিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করতে কোন কার্যকারী উদ্যোগ নেই। যার কারণে দলটি বহুভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। যেই বিভক্তির কোন নির্দিষ্ট কারণ নাই। এই বিভক্তিটা অনাকাঙ্খিত। আর এই বিভক্তিটা কর্মীরা কখানোই পছন্দ করে না। তাই আমরা দাবি সকল বামপন্থীরা ঐক্যবদ্ধ হই আর এই লুটেরাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠি।
এ বিষয়ে জেলা বাম গণতান্ত্রিক জোটের আহ্বায়ক নিখিল দাস যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা বর্তমানে ছোট পরিসরে হলে ও আমাদের রাজনৈতিক সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি। আর সামনে নির্বাচন চলে এসেছে তাই নির্বাচন নিয়েই আমরা কয়েকটি দাবি জানিয়েছে তার মূল হলো তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।
যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় তাহলে বাম গণতান্ত্রিক জোট নির্বাচনে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করতে প্রস্তত রয়েছে। আর বর্তমানে আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি আমাদের থেকে কিছু কিছু নেতাকর্মী বা জোট আলাদা হয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমানে আমরা ঐক্যর সাথে রাজপথে রাজনীতি পরিচালনা করে যাচ্ছি। এন.হুসেইন/জেসি


