সহযোগী হিসেবে ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছে জেলা ছাত্রদল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৩, ০৬:৩৭ পিএম
# দফায় দফায় পোগ্রামে ফ্লপ শোডাউন জেলা ছাত্রদলের
প্রাচ্যের ড্যান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জকে আন্দোলনের সুঁতিকাগার বলা হয়ে থাকে। তার কারণ, ৫২‘র ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১‘র মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ৬৬‘র ছয় দফা থেকে ৬৯‘র গণ্যঅভ্যুন্থান, সর্বক্ষেত্রেই নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা ছিল ব্যাপক। যার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনীতি থেকে শুরু করে সকল বিষয়েই অন্য জেলাগুলো থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার উপরে চোখ থাকে সকলের।
এরই মাঝে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির সব থেকে সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল। বিগত দিনে সকল আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে জেলা ছাত্রদলকে। কিন্তু বর্তমানে নয়া কমিটি হওয়ার পর জেলা ছাত্রদল বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে।
বিগত দিনের মশিউর রহমান রনি ও খাইরুল ইসলাম সজিবের মতো জুটি হয়ে রাজপথে বিশাল বড় বড় শোডাউন দিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে দফায় দফায় ব্যর্থতার প্রমান দিচ্ছে তারা।
১ মে মহান দিবস ও আন্তজার্তিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ থেকে জেলা বিএনপি ও তার সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শত শত নেতাকর্মী নিয়ে রাজধানীর শ্রমিক দলের আয়োজিত সমাবেশে যোগদান করেন কিন্তু সহযোগী সংগঠন হিসেবে পুরো জেলার দায়িত্ব নিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ৪০/৫০জন নেতাকর্মী নিয়ে মিছিল নিয়ে সেই সমাবেশে যোগদান করেন এমনি অভিযোগ পাওয়া গেছে নেতৃবৃন্দদের কাছ থেকে।
এ ছাড়াও তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, সভাপতি রূপগঞ্জ ও সাধারন সম্পাদক আড়াইহাজার হওয়ার কারণে শহরের নেতাকর্মীদের সাথে তাদের সমন্বয়তা অনেকটাই কম যার কারণে জেলা ছাত্রদল হয়েও দফায় দফায় তারা সকল পোগ্রামে ফ্লপ শোডাউন করছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করতে ৯ সদস্য বিশিষ্ট জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তার পর থেকেই জেলা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে একটি মোনমালিন্ন দেখা দেয়। যার কারণে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ছাড়া কমিটি থেকে বাকিরা মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলেন।
কিন্তু দলের কথা চিন্তা বা নানা চাপে নিজেদের মধ্যে একটি ঐক্য সৃষ্টি হয়। কিন্তু এখনো কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ তাদের সাথে এখনো একত্মতা প্রকাশ করেননি। আর যারা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলেন তারা তাদের সাথে ঐক্য দেখালে ও এখন পর্যন্ত শক্ত ঐক্য পরিনত হয়নি।
এ ছাড়াও কমিটি হওয়ার পর কেন্দ্র বলেছিল আগামী ৩ মাসের মধ্যে কমিটি পূর্নাঙ্গ করতে কিন্তু ৪ মাস অতিবাহিত হলেও কমিটি পূর্নাঙ্গ করতে পারছে না সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক। অপর দিকে নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ ভূইয়াকে বর্তমানে ছাত্রদল করার সময়েই নিজ এলাকা রূপগঞ্জে তাকে দেখা যায় না।
এমনকি নেতাকর্মীদের সাথে সংগঠন গোছাতে কোন পদক্ষেপ ও নেই তাদের। যার কারণেই বিগত দিনের মতো শক্ত অবস্থানে যেতে পারছে না জেলা ছাত্রদল। তার প্রমান পাওয়া গেছে, ১ মে মহান শ্রমিক দিবসে আয়োজিত সমাবেশে।
নেতাকর্মীরা বলছে এতো বড় দায়িত্ব নিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক যে ফ্লপ শোডাউন দিয়েছে তা নেতাকর্মীরা কখনো সহযোগী সংগঠন হিসেবে কেউই আশা করেনি। তাই তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, বর্তমানে জেলা ছাত্রদলের নানা ব্যর্থতায় আগামীতে পিছিয়ে পরার আকাঙ্খা রয়েছে।


