চাঙ্গা হচ্ছে না.গঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৩, ০৮:১৮ পিএম
# দলটাকে ১০ টুকরা করে নৈতিকতা হারিয়েছে : খোকন সাহা
# আগামী নির্বাচন জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এই নির্বাচন বাচা-মরার নির্বাচন
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা বলেছেন, আমি পার্লামেন্টের কোন প্রার্থী না। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী হয়ে যারা দলটাকে ১০ টুকরা করেছে আমি মনে করি তারা নৈতিকতা হারিয়েছে। নেত্রী বলেছেন সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার জন্য। আজকে পত্রিকার পাতা খুললে দেখা যায় দল অনৈক্যে এগিয়ে। আমি নির্বাচন করার জন্য এখানে আসি নাই। নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করার জন্য আমরা এখানে এসে একত্রিত হয়েছি।
আপনারা যারা নিজেদের হিরো ভাবতাছেন তারা হিরো না। শেখ হাসিনা বলেছেন যতই লাফা লাফি করেন মনোনয়ন দিবো আমি। আপা কাকে মনোনয়ন দিবেন তা তিনি নির্ধারণ করে রেখেছেন। নেত্রী যদি জোটের কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেন আমরা তার পক্ষে কাজ করবো। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে যাকেই মনোনয়ন দিবেন তাদের জয় আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আগামী নির্বাচন জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচন বাচা-মরার নির্বাচন। গতকাল বন্দরের এক সভায় তিনি এই কথা বলেন।
এদিকে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের নৌকার দাবী জানিয়ে আসছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৩ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টিদের ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। কেননা বাকি ৩টি আসনে বর্তমানে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সংসদ সদস্য থাকায় সেখানে তাদের কোন শব্দ নেই। তবে ওই আসন গুলোতে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মাঠে নেমে নিজেদের প্রচার প্রচারনা চালাতে পিছিয়ে নেই।
অপর দিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেয়ার জন্য জোরালো ভাবে দাবী তুলেছেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। বর্তমানে এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম ওসমান এমপি হিসেবে জনপ্রতিনিথি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও নৌকার প্রার্থী দেয়ার জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতারা দাবী জানিয়ে আসছেন। এই আসনেও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
তাদের এই দাবীর প্রেক্ষিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা এবার আশার আলো দেখছেন। কেননা গত দুই বারের নির্বাচনের আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টি মহাজোটের শরীক দলে ছিলেন। তখন ক্ষমতাসীন মহজোটের সাথে থাকায় তারা জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। কিন্তু এবার আগে থেকেই জাতীয় পার্টি ক্ষমতাসীনদের সাথে শরীক দলে না থাকায় এই দ্ইু আসনের আওয়ামী লীগের স্থানীয় সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আশার আলো দেখছেন।
সেই সাথে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জোরালো ভাবে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে ২০২২ সনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যখন এখানে দায়িত্ব পালন করেন তখন তাদের এই দাবী পুরনের আশ্বাস দেন তারা। সেই আশার প্রেক্ষিতে এবার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। সেই সাথে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।
দলীয় সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে এখন থেকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া,জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসমনাত মো. শহিদ বাদলও মাঠে নেমেছেন। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসনের নামও শুনা যাচ্ছে। তবে এখানে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিজেদের প্রার্থী দিবে নাকি আগের মত শরীক দলের প্রার্থী দিবেন তা এখনো পরিস্কার হয় নাই।
এড খোকন সাহা বলেন, আপনারা যারা দল ভাগ করতেছেন তাদের মেসেজ দিয়ে দিবেন আমরা কোন ভাইয়ের লোক না। আমরা শেখ হাসিনার লোক। আপনারা বড় ভাইদের বইলেন প্রার্থী না হয়ে দলটাকে ঐক্যবদ্ধ করুন। আগামীকাল দুই একটি পত্রিকায় লিখবেন এটা নির্বাচনী সভা। আমি বলবো ইয়েস এটা নির্বাচনী সভা। বন্দরের ২২, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে নির্বাচনী সভা শুরু করলাম। শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিবেন তার জন্যই আমরা কাজ করবো।
কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যাচাই বাচাই করে ভালো লোকদের কমিটিতে নিয়ে আসবো। একটা কথা মনে রাখবেন কে নেতা হলো আর কে হলো সেদিকে না তাকিয়ে দলের জন্য কাজ করে যেতে হবে। নিজেদের দুর্বল ভাবার কোন কারন নাই। খান মাসুদকে মাইনাস করার চেষ্টা কইরেন না।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিএনপির বন্ধুরা দিনের বেলায় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখতাছেন। ওরা আগুন সন্ত্রাসী। তাদের হাত থেকে কোন মানুষ রক্ষা পায় না। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করেছি। আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে যদি আপনাদের প্রার্থীরা জয়যুক্ত হয় তাহলে আপনাদের স্যালুট দিবো। জনগনের জন্য আপনারা এমন কিছু করেন নাই যাতে জনগণ আপনাদের ভোট দিবে। বিএিনপির ভাইয়েরা কি পরিমান অপকর্ম করেছেন তা বন্দরের মানুষ ভুলে নাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সক্রিয় হয়ে নেতা কর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই সাথে এখন নেতা কর্মীরা এবার নৌকার জন্য ঐক্যবদ্ধ্য হয়ে জাতীয় পার্টিকে হটানোর জন্য মাঠে নামছেন। কিন্ত নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেই তা পরিস্কার হয়ে যাবে।
এস.এ/জেসি


