আ.লীগের নেতাদের প্রচারণায় ভীত সেলিম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৩, ০৬:৫৮ পিএম
# পোষ্টার দেখে এত ভীত হয়ে গেছে : আনোয়ার হোসেন
# আমার দলের জন্য প্রচারনা চালাবো এটাই স্বাভাবিক: দিপু
আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে পুরো জেলা জুড়ে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী তুলেছেন। সেই সাথে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারনা চালাচ্ছেন। পাশা পাশি এখন থেকে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে স্থানীয় রাজনীতি অনেকটা উত্তপ্ত হয়ে পরে।
আওয়ামী লীগ বিএনপি উভয় দলে নিজের্দে মাঝে একে অপরকে খোঁচা দিয়ে বক্তব্য রাখতে কার্পণ্য করেন না। বিশেষ করে সম্প্রতি জেলার অন্যান্য আসনের পাশা পাশি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জোরালো ভাবে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন। সেই সাথে এখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট একাধিক নেতৃবৃন্দ মনোনয়নের জন্য মাঠে নেমেছেন।
তাদের মাঝে আবার কেউ কেউ ব্যানার পোষ্টার টানিয়ে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরছেন। সেই সাথে তাদের সমর্থকরা পোষ্টার টানিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নৌকার এমপি হিসেবে পেতে চান। এবার পোষ্টার টানানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম ওসমান।
এদিকে সেলিম ওসমান বলেছেন, আর কিছু দিন পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সময়টা যদি আমাকে জনপ্রতনিধিরা সহযোগীতা না করে, তাহলে বন্দরের প্রতিটি মা-বোন ভাইয়ের কাছে সহযোগীতা চেয়ে সময়টা কাটাতে চাই। তারপর আমি চিন্তা করবো, আগামীতে নির্বাচনে আসবো কি, আসবো না। কাউকে যদি আমার থেকেও ভালো মনে হয়, তাহলে আমি তার মনোনয়নে সমর্থনকারী হিসেবে স্বাক্ষর দিবো। তবে, ভালো কিছু করতে হবে।
বড় বড় পোস্টার দিয়ে ভোট নিতে পারবেন না। খামাখা পোষ্টার লাগিয়ে নিজের অর্জিত পয়সা নষ্ট করবেন না। অরাজকতা লাগাইয়েন না, পোস্টার লাগাইয়েন না। আসেন আমার সাথে কাজ করেন, আপনি যদি ভালো হন, আপনার নির্বাচনের জন্য আমিই মনোনয়নপত্র আবেদন করবো। আমি নিজে জনগণের গোলাম, যাদের নিয়ে কাজ করতে চাই, তাদেরকেও দেখতে চাই জনগণের গোলাম হিসেবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপুর সমর্থকরা তাকে এমপি হিসেবে পেতে চাই লিখে সদর বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার পোষ্টার টানিয়েছেন। সেই সাথে পোষ্টারের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড তুলে ধরছেন। এছাড়া সম্প্রতি দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য তুলে ধরে পোষ্টারের মাধ্যমে প্রচারনা চালাচ্ছেন।
এই পোষ্টারে সরকারের উন্নয়ন হিসেবে পদ্মা সেতু নির্মান। মেট্রোরেল প্রকল্প চালু। সমুদ্র সীমানা বিজয়, বয়স্ক ভাতা প্রদান, সারাদেশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন, কৃষি খাতে সফলতা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন, মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা প্রদান। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইকোনমিক জোন নির্মাণ। রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলমান সহ আরও একাধিক উন্নয়ন বিষয় তুলে ধরেন এড. আনিসুর রহমানের দিপুর সমর্থকরা।
পোষ্টারের নিচে লেখা রয়েছে প্রচারে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সদর বন্দরের জনগণ। এছাড়া স্থানীয়দের মতে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতার বাড়ি বন্দরে হওয়ায় এখানে তার বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। আর এজন্য তার সমর্থকরা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এড. আনিসুর রহমানকে নৌকার এমপি হিসেবে পেতে চান।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামও ব্যনার পোষ্টারের প্রচারণায় দেখা যায়। তাকেও তার সমর্থকরা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার এমপি হিসেবে পেতে চেয়ে সদর বন্দরের পুরো এলাকায় প্রচারনা চালাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেনকে সমর্থন করে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা আগামী সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চাই লিখে রঙিন পোস্টার নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে নির্বাচনী এলাকায় সদর বন্দরের এলাকা জুরে লাগানো হয়।
এই আসনে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদলকেও তার সমর্থকরা এমপি হিসেবে পেতে চান। আর এজন্য তার সমর্থকরা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে পোষ্টারের মাধ্যমে প্রচারনা চালাচ্ছেন। তবে সরাসরি নির্বাচনী সভার মাধ্যমে মাঠে নেমেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা।
শুক্রবার বিকেলে বন্দরের ২২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মী সভার মাধ্যমে নির্বাচনী সভা করেন। ওই সভায় তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচন বাচাঁ মরার নির্বাচন। দুই একটি পত্রিকায় লিখবেন এট্ ানির্বাচনী সভা। আমি বলবো ইয়েস এটা নির্বাচনী সভা। বন্দরের ২২, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে নির্বাচনী সভা শুরু করলাম। শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিবেন তার জন্যই আমরা কাজ করবো।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবার জাতীয় পার্টির উপর আর ভর করে থাকতে চান না। তারা এবার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকায় ভোট দিতে চান। আর এজন্য এখানে ২০১৮ সনের নির্বাচনের পর থেকে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা কর্মীরা জোরালো ভাবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার দাবী জানিয়ে আসছেন। যতই দিন যাচ্ছে ততোই তাদের এই দাবী জোরালো হচ্ছে।
ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের অভিযোগ এখানে আওয়ামী লীগের এমপি না থাকায় তারা অবহেলিত হয়ে আছে। কেননা ২০০৮ সন থেকে টানা তৃতীয় বারের মত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। ২০০৮ সনে এই আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত হয়ে প্রয়াত নাসিম ওসমান সংসদ সদস্য হন। পরে তিনি ২০১৪ সনে ভারতে মারা যাওয়ার পরে তার আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে উপনির্বাচনে সেলিম ওসমান নির্বাচিত হন।
২০১৮ সনেও এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেন আওয়ামী লীগ। তখন আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির মহাজোট থাকায় ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও লাঙ্গলের পক্ষে প্রচারনা চালান। কিন্তু এবার জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামী লীগের শরীক না থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের দাবীতে আশার আলো দেখছেন। এছাড়া সাংসদ সেলিম ওসমানের বক্তব্যকে ভিন্ন ভাবে দেখছে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তিনি হয়ত ভীত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের পোষ্টারের প্রচারনা মেনে নিতে পারছেন না।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, র্দীঘ দিন যাবৎ নারায়নগঞ্জ- আসনের এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা নৌকায় ভোট দিতে পারছে না। জনমত সৃষ্টির জন্য এখানে আমার সমর্থকরা আমাকে নৌকার এমপি হিসেবে পেতে চেয়ে সদর-বন্দর এলাকা জুড়ে পোষ্টার টানিয়ে দলের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। আমিতো এখনো প্রার্থী হই নাই। আমরা আমাদের নেত্রীর কাছে নৌকার মনোনয়ন চাইতেই পারি।
আমাদের পোষ্টার দেখে জাতীয় পার্টির এমপি এত ভীত হয়ে গেছে। প্রার্থী হলে কী করবেন। তাদের পায়ের তলায় যে মাটি নেই তা জাতীয় পার্টির সাংসদের বক্তব্যে সুষ্পষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চায়। নেত্রী এখানে যাকে নৌকা দিবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। তাও আমরা এখানে নৌকার প্রার্থী চাই। নেতা কর্মীরা জাতীয় পার্টির উপর ভর করে আর থাকতে চায় না।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড.আনিসুর রহমান দিপু বলেন, আমরা আমাদের দলের ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে দলের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরবো এটাই স্বাভাবিক। পোষ্টার ব্যনারের পাশা পাশি দেয়াল লিখনের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরতে পারি। এতে কে কিভাবে দেখলো তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। তাছাড়া আমার সমর্থকরা আমাকে নৌকার এমপি হিসেবে চাইতেই পারে।
আমরাও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার জন্য নেত্রীর কাছে দাবী জানিয়ে আসছি। নেত্রী যাকে নৌকা দিবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। এখন আমাদের সমর্থকদের পোষ্টারের প্রচারনায় যদি কেউ ভীত হয়ে যায় সেটা তার বিষয়। আমি আমার দলের জন্য প্রচারনা চালাবো এটাই স্বাভাবিক।
তাছাড়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সাংসদ সেলিম ওসমানের বক্তব্য নানাভাবে বিশ্লেষণ করছেন। কেউ কেউ বলছে তিনি আাগমী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রচারনায় ভীত হয়ে গেছে। তাছাড়া এখানে নৌকার প্রার্থী দেয়া হলে তার জয় পাওয়াটা কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধমহল। তবে আগামী নির্বাচনে কী হবে তা সময় বলে দিবে। এন.হুসেইন/জেসি


