যোগ্যতার চেয়ে পছন্দের মূল্যায়ন উভয় কমিটিতে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৩, ০৮:২৫ পিএম
# সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিজ পরিবারের সদস্যদের নামও তালিকায়
সম্মেলনের দীর্ঘ ৮ মাস পর কেন্দ্রের চাপে পৃথকভাবে জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা জমা দিয়েছেন সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। তবে জমা দেয়া দুই কমিটিতেই যোগ্যতার চেয়ে পছন্দের মূল্যায়নই বেশি করতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যুক্ত এবং দুঃসময়ে পাশে থাকা ব্যক্তিদের অনেকেরই ঠাঁই হয়নি খসড়া কমিটিতে। চেনা-জানা নেই, আওয়ামীলীগের রাজনীতির ইতিহাসও নাতিদীর্ঘ এমন ব্যক্তিরাই খসড়া তালিকায় স্থান পাওয়াটাও রহস্য জনক।
পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকায় কারা স্থান পাবে সেটি নিয়ে সম্মেলনের পরপরই বিভেদে জড়িয়ে পড়েন সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছায় কর্মসূচির অনুষ্ঠানেও পাল্টাপাল্টি করতে দেখা যায়। বিষয়টি কেন্দ্রে গড়ানোর পরও কেন্দ্রও সমাধান করতে বেগ পেতে হয়। গোপনীয়তায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একত্রিত হলেও তাতে কোন সুরাহা হয়নি। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের কঠোর চাপে পৃথকভাবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা আওয়ামীলীগের খসড়া তালিকা জমা দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৩ অক্টোবর খুব জাঁকজমকভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে আবদুল হাইকে সভাপতি ও আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একই সাথে তিনি খুব দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হবে বলেও আশাব্যক্ত করেন। কিন্তু নতুন ঘোষিত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখেনি বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী ও সমর্থকগণ।
সম্প্রতি সময় বিভিন্ন কর্মসূচীও তাদের আলাদাভাবে পালন করতে দেখা যায়। গত ২৬ মার্চে মহান স্বাধীনতা দিবসেও তারা উভয়ে আলাদা আলাদাভাবে কর্মসূচী পালন করেন। ভিপি বাদলের পক্ষ হতে রাত ২টায় এবং আবদুল হাই সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। নতুনভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা তৈরি করার বিষয়ে তারা উভয়ে নিজেদের মতো করে ইচ্ছে প্রকাশ করায় এই বিরোধ আরও অনেক বেড়ে যায় বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানায়।
সেই বিষয়টিই নতুন করে প্রকাশ পেয়েছে দলীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য উভয়ের আলাদা আলাদা প্রস্তাবনা কমিটি পাঠানোর মাধ্যমে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য গত ১৮ মার্চ সভাপতি আবদুল হাই ৭৫ জনের এবং গত ৩০ এপ্রিল সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল ৩৯ জনের নাম কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রস্তাবনা করে তালিকা পাঠান।
গত ১৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের স্বাক্ষরিত জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির প্রস্তাবনায় যাদের নাম দেওয়া হয় তারা হলেন, সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই, সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. কাদির, এডভোকেট হোসনে আরা বাবলী (সাবেক এমপি), আদিনাথ বসু, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, খন্দকার আবুল বাসার টুকু, মো. ছানাউল্লাহ ও হাজী জসিমউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ্ব ইকবাল পারভেজ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মফিজউদ্দিন আহমেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুদ-উর রউফ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. সেলিম, তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ নার্গিস আক্তার, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এড. কবির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক এমএ রাসেল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবু দাইয়ান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সালাউদ্দিন সিকদার, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাইউম খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. জালালউদ্দিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এড. নুরুল হুদা।
যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এরফান হোসেন দীপ, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোনতাজউদ্দিন মর্তুজা, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক উদ্দিন জার্জিস, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আলম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন ভূঁইয়া নাদিম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সুন্দর আলী, আবু সুফিয়ান ও তাবিবুল কাদির তমাল, উপদপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জুলহাস মিয়া, কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান (সাবেক চেয়ারম্যান)।
সদস্য পদে একেএম শামীম ওসমান (এমপি), গাজী গোলাম দস্তগীর (এমপি), নজরুল ইলাম বাবু (এমপি), আব্দুল্লাহ আল কায়সার (সাবেক এমপি), এনাজুর রহমান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা মহিউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন টুলু, এড. আনিসুর রহমান দিপু, এমএ সালাম (চেয়ারম্যান), আজিজুল হক আজিজ, মেজর (অবঃ) মশিহুর রহমান, মো. শাহজালাল মিয়া, মিয়া আলাউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. শামসুল ইসলাম ভূইয়া, ইঞ্জিনিয়ার মাসুম রহমান, মাহফুজুর রহমান কালাম, কাওছার আহমেদ পলাশ, এড. সেলিনা আক্তার, মো. আবদুল মান্নান।
ব্যারিস্টার খান মোহম্মদ শামীম আজিজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফাজ খান, হাজী আমজাদ হোসেন, মো. তানভীর হাই, মো. খোরশেদ আলম, আশরাফ আলম ফিরোজ, শাহজাহান ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সাইফুল ইসলাম, মাহবুবুল ইসলাম রাজন, ডা. আউয়াল, হালিম সিকদার, এড. তায়েবুর রহমান, মতিউর রহমান, আলতাফ হোসেন, আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর মাস্টার চেয়ারম্যান, মো. শাহজাহান মিয়া।
অন্যদিকে গত ৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল (ভিপি বাদল) স্বাক্ষরিত জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির প্রস্তাবনায় যাদের নাম রাখা হয়েছে তারা হলেন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই, সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভী/বাবু চন্দন শীল, ফয়েজ আহমেদ উদ্দিন লাভলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনির হোসেন, শরফুদ্দিন আহমেদ, মো. সিরাজুল ইসলাম, খন্দকার আবুল বাশার টুকু, কাজী বেনজীর আহমেদ, মো. সানাউল্লাহ (খাদেম), অনুপ কুমার সাহা, মাসুদ চৌধুরী মজনু, সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, নাজমুল আলম সজল, মীর সোহেল, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুদ-উর রউফ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক দীপক কুমার বণিক দিপু, তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হক জুয়েল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলমাছ ভূইয়া, দপ্তর সম্পাদক এমএ রাসেল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সামসুদ্দিন খান আবু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন নাসির, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন পান্নু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মেজর মশিউর রহমান বাবুল।
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদা আক্তার ফেনসি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদনী টুলু, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মীর্জা সোহেল, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. হায়দার আলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক আরমান হোসেন জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রোমান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আলহাজ্ব ফায়জুল ইসলাম, উপ দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম রাজন, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জিল্লুর রহমান লিটন, কোষাধ্যক্ষ কাজী সুমন।
সদস্য পদে একেএম শামীম ওসমান (এমপি), নজরুল ইলাম বাবু (এমপি), গাজী গোলাম দস্তগীর (এমপি), বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, আব্দুল্লাহ আল কায়সার (সাবেক এমপি), মো. শাহজাহান ভূইয়া, এমএ রশিদ, মো. সাইফুল্লাহ বাদল, মো. শওকত আলী, তোফাজ্জেল হোসেন মোল্লা, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, কাজিম উদ্দিন প্রধান, মানজারী আলম টুটুল, আজিজুল হক ভূইয়া, খোরশেদ আলম, মিয়া মো. আলাউদ্দিন, হালিম শিকদার, মনির শিকদার, এড. আবু তাহের ফজলে রাব্বী, মনিরুজ্জামান বুলবুল (পিপি)।
নাহিদা হাসনাত, প্রফেসর শিরিন বেগম, ফেরদাউসি নীলা, সীমা রানি পাল, এহসানুল হক নিপু, শাহাদাত হোসেন সাজনু, এড. হাসান ফেরদাউস জুয়েল, এড. মো. মোহসিন, সুন্দর আলী, নজরুল ইসলাম, আলী হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজির উদ্দিন আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম ভূইয়া, শেখ সাইফুল ইসলাম, মো. আলী হোসেন ও আবু মো. শরিফুল হক।
এর আগে গত ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল হাইকে সভাপতি, তৎকালীন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে সহসভাপতি করে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিতে আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মত পার্থক্যের কারণে কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও ৬টি পদ পূরণ করা হয়নি বলে দলীয়ভাবে অভিযোগ পাওয়া যায়।
এস.এ/জেসি


