Logo
Logo
×

রাজনীতি

ফতুল্লায় দাপুটে অবস্থানে বিএনপি; ভীত আ.লীগ

Icon

লিমন দেওয়ান

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৩, ০৮:৪৩ পিএম

ফতুল্লায় দাপুটে অবস্থানে বিএনপি; ভীত আ.লীগ
Swapno


# রদ-বদলের মাধ্যমে ফতুল্লা বিএনপি সকল ইউনিয়ন কমিটি গঠন সম্পন্ন
 

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি বর্তমানে অনেকটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামকে চাঙা করতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তৃণমূল পর্যায়ে থেকে সংগঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জ- ৪ আসন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

এলাকা হিসেবে পরিচিত ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটিতে রদ-বদল করে যোগ্য নেতৃত্ব দ্বারা কমিটি গঠন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন নেতৃত্ব আসার সাথে সাথেই ফতুল্লার থানা বিএনপির আওতাধীন ৫টি ইউনিয়ন ফতুল্লা, কুতুবপুর, বক্তবলী, এনায়েতনগর, কাশীপুর ইউনিগুলোর মধ্যে রদ-বদল করে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে সংগঠন চাঙা করেছেন।

 

 

সেই সাথে ইউনিয়নগুলোতে নেতৃত্ব পাওয়া নেতৃবৃন্দরা দফায় দফায় সকল ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করা শুরু করে দিয়েছে। তারপর পরই আবার ইউনিয়নগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত ফতুল্লা থানা বিএনপি শক্তিশালী হওয়া শুরু করেছে। তবে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কমিটি দীর্ঘ দেড় যুগ যাবৎ একই নেতৃত্ব দ্বারা পারিচালিত হচ্ছে।

 

 

আর সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগকে চাঙা করার লক্ষ্যে নিয়ে কোন কাজ করে না। যার ফলে ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে পরছে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ। অপর দিকে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের আওতাধীন ৫টি ইউনিয়নে নতুন মুখ দ্বারা নেতৃত্ব অনেকটাই কম যার কারণে সংগঠনটি চাঙা হতে পারছে না। আর বিএনপির রাজনীতির সাথে টক্করে পিছিয়ে পড়ছে।

 

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বিরোধী দল হিসেবে সংগঠন গোছাতে বর্তমানে অনেকটাই ব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াসউদ্দিন ফতুল্লা থানা বিএনপিতে রদ-বদলের মাধ্যমে নতুন কমিটির অনুমোদন দেয়। আর কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়া আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দফায় দফায় ইউনিয়ন কমিটিগুলো গঠন করে ফেলছে যার কারণে ফতুল্লা থানা বিএনপি অনেকটাই উজ্জ্বীবিত।

 

 

এছাড়াও বর্তমানে রাজপথে ফতুল্লা থানা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক ভাবে অংশ গ্রহণ করছে। আর সকল সময় সকল আন্দোলণ সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ফতুল্লার দিক থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল অনেকটাই চাঙা আর রাজপথকেন্দ্রীক রাজনীতিতে এগিয়ে।

 

 

অপর দিকে ৩ বছরের জন্য গঠিত ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কমিটি দেড়যুগের ও বেশি সময় ধরে চলছে। দলের বেশিরভাগ নেতা-কর্মী এতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দল ক্ষমতায় থাকা সত্বেও রদ-বদল হয়ে কমিটি না হওয়ার পেছনে সিনিয়র নেতাদের ব্যর্থতা বলে মনে করেন নেতা কর্মীরা। দলের মূল শক্তি হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা।

 

 

তৃণমূলের ধারণা, এই ধরনের কর্মকান্ডে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব সংকট চলছে। দ্বাদশ নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও এখন ও টনক নড়েনি ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী দল গোছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কেন্দ্র। ঠিক এর উল্টো পথে হাটছে ফতুল্লা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা।

 

 

জানা গেছে, বর্তমানে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের মাঠের কর্মীদের নিয়ে ভাবার চিন্তা তাদের নেই! ফতুল্লার নেতৃবৃন্দ দলের প্রভাব বিস্তারকে কাজে লাগিয়ে আখের গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে বসে আছে কাশীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ এম সাইফুল্লাহ বাদল। তিনি প্রায় সময় অসুস্থ থেকে বাসায় থাকে যার কারণে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে সে বেশি একটি কৌশল বিনিময় করতে পারে না।

 

 

অপর দিকে বর্তমানে ফতুল্লা থানার আওতাধীন যে ইউনিয়নগুলো রয়েছে সেগুলোর কিছু কিছুতে লোক দেখানো কমিটি দিয়ে কোন রকম বুঝ দিয়ে যাচ্ছে। লোক দেখানো কমিটি হওয়ার কারণে সেই নেতাকর্মীরা রাজপথে কোন ভূমিকা রাখতে পারে না। যার কারণে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পরছে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছে, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের এই কমিটি দিয়ে যেনতেনভাবে চলছে দলের কার্যক্রম। দলের কাজে গতি নেই।

 

 

বেশিরভাগ নেতা-কর্মীর মধ্যে গা-ছাড়া ভাব। জাতীয় দিবস ও দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, দু-চারটি আলোচনা সভার মধ্যেই দলের সাংগঠনিক তৎপরতা আটকে আছে। এভাবে চলতে থাকলে দলের ১২টা বেজে যাবে। যার মেয়াদ ১৫ থেকে ১৭ বছর আগে শেষ হয়ে রয়েছে। এখনো পর্যন্ত নতুন কমিটি গঠিত হয়নি। এতে নেতা-কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

 

 

আর আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ফতুল্লা থানা বিএনপির কোন ভূমিকা বেশি একটা চোখে পরেনি। দীর্ঘদীন ধরে ফতুল্লার বিভিন্ন্ ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামী লীগের মেয়াদত্তীর্ণ কমিটিগুলোর মাধ্যমে দল পরিচালিত হলেও নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে তাদের উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। ফতুল্লার সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অবহেলায় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে ব্যঘাত ঘটার পাশাপাশি ত্যাগী নেতারা অবমূল্যায়ন হচ্ছে না বলেও বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জানান। আরো জানা গেছে, ফতুল্লা থানা কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর পরই ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়নের কমিটি ঢেলে সাজানোর কথা ছিল।

 

 

কিন্তু থানা পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দীর্ঘদীন অতিবাহিত হলেও নজর নেই ইউনিয়ন কমিটি গঠনে। ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সবকটি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। অনেক ইউনিয়নে কমিটি সর্বশেষ কবে হয়েছে তাও ভুলতে বসেছেন খোদ ওই কমিটির নেতারা।

 

 

কবে নাগাদ কমিটি হবে তাও জানেন না নেতারা। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠন করে ও কোন সুবিধা গ্রহন করতে না পারায় অনেক নেতাকর্মীই ছিটকে পড়ছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ থেকে। কিন্তু অপর দিকে ফতুল্লা থানা বিএনপির জেলা বিএনপিকে সর্বক্ষেত্রে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বিশাল একটি অংশ নিয়ে নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুত থাকেন।

 

 

আর দফায় দফায় আন্দোলণ সংগ্রামে  ফতুল্লা থানা বিএনপির ভূমিকা অনেকটাই দেখার মতো। যার কারণে তৃণমূলের দাবি, বর্তমানে ফতুল্লা থানার আওতাধীন এলাকায় বিএনপির রাজনীতি আবারো গর্জে উঠছে যার পরিপ্রেক্ষিতে ভীত হয়ে পড়ছে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন