Logo
Logo
×

রাজনীতি

গ্রেফতার আতঙ্কেও উজ্জ্বীবিত হওয়ার আকাঙ্খা না.গঞ্জ বিএনপির

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৩, ০৮:৪৫ পিএম

গ্রেফতার আতঙ্কেও উজ্জ্বীবিত হওয়ার আকাঙ্খা না.গঞ্জ বিএনপির
Swapno

 

# দুইদিনে ২০ নেতার জামিন নামঞ্জুর

 

 

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে অনেকটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশের বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বর্তমানে রাজপথে দফায় দফায় আন্দোলন সংগ্রাম করে রাজপথ গরম রেখেছেন। এর মাঝে দীর্ঘ দেড় যুগ ক্ষমতার বাহিরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। যার পরিপ্রেক্ষিতে কোন আন্দোলন সংগ্রাম করতে রাজপথে থাকতে পারেনি তারা।

 

কিন্তু গত বছর থেকে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ইস্যূ নিয়ে রাজপথে আবারো গর্জে উঠা শুরু করেছে বিএনপি। তারা দফায় দফায় আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে রাজপথ নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তার কারণে তারা কেন্দ্রীয় ঘোষিত ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজপথে নানান কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের দাবিয়ে রাখার জন্য আবারো মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।

 

জানা গেছে, আগামী ১০ই ডিসেম্বরকে কেন্দ্রসহ সরকারি নানা নাশকতা মামলাগুলো দেয়া হয়েছিল সেগুলো আবার ও জেগে উঠেছে। যার ফলে একজন নেতা জামিনে বের হয়ে আসলে ও আরেকজনকে গ্রেফতার করে কারগারে পাঠাচ্ছে এ সরকারের প্রশাসন। এখন নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছে বর্তমানে দফায় দফায় আদালতে বিএনপির নেতাকর্মীরা কোন মামলার হাজিরা দিতে আসলে বেল কেটে দেওয়া হচ্ছে। আর যাদের বেল কাটা হচ্ছে তারা সকলেই হাই কোর্ট থেকে জামিন পাওয়া নেতৃবৃন্দ।

 

নেতাকর্মীরা বলছে গত দুই দিনে নারায়ণগঞ্জের কোর্ট থেকে প্রায় ২০ জন নেতাকর্মীদের বেল কেটে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও চলতি বছওে কয়েকশত নেতাকর্মীর বেল কেটে দেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের কোন বাধা বা মামলা গ্রেফতারী পরোয়ানা ও হাজিরা দিতে এলে বেল কেটে দিলে কোন লাভ হবে না বর্তমান সরকারের। তাদের এই ধরনের কর্মকান্ডে নেতাকর্মীরা আরো উজ্জ্বীবিত হচ্ছে আর দেশের জনসাধারণের ক্ষোভ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির বিভাগীয় গণ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।নেই সমাবেশকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে প্রতিদিনই দায়ের করা হচ্ছিল নানা গায়েবী মামলা। এই সমাবেশকে ঘিরে শহরের সাতটি থানায় বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

 

এ ছাড়া আবার নাশকতা মামলার ঘটনায় বিএনপির নেতা কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার আতঙ্ক তৈরী কওে রেখেছিল। এছাড়া ও নানা নাশকতা মামলাগুলো নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারো সক্রিয় হওয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দফায় দফায় বিএনপির নেতাকর্মীদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে চলতি বছরে প্রায় কয়েকশত নেতাকর্মীও জামিন না মঞ্জুর করেছে আদালত।

 

কিন্তু গত দুইদিনে প্রায় ২০ নেতাকর্মীও জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গত রোববার ৭ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নাশকতার মামলায় উচ্চ আদালতের জামিন বহালের আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের ১০ নেতাকর্মীকে।

 

তারা হলেন, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য ও বন্দর থানা বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান দুলাল, বন্দর থানা বিএনপির সদস্য সচিব নাজমুল হক রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল খান বাবু, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান দোলন, ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব রিয়াদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার আহমেদ রাজু, যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল শান্ত, ফতুল্লা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল কাদির, কাশিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত।

 

অপর দিকে ৮ মে নারায়ণগঞ্জের এক নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদসহ ১০ নেতা কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। তারা হলেন, আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম শিকারী, দুপ্তারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশাররফ, সাতগ্রাম ইউনিয়নের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন আতাউর, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব রিপন, সাতগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রনি মিয়া, ফতেহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, আলী হোসেন, ইমরান হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ।

 

কিন্তু নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, এ ধরনের সকল বাধা পেরিয়ে আগামীর সকল আন্দোলন সংগ্রামকে আরো জোরদার করার লক্ষ্যে নিয়ে রাজপথে থাকার আকাঙ্খা দিয়ে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃবৃন্দরা। নেতাকর্মীরা দাবি করছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নতুন কৌশলে সকল নেতাকর্মীদের জেল হাজতে বন্দী করছেন। চলতি বছর চূড়ান্ত আন্দোলন সংগ্রামের বছর আর এই বছরেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর সব মিলিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে চলতি বছর।

 

কিন্তু এখন ও তাদের নাশকতার মামলার অবসান ঘটেনি। তারা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে সরকার আবারও মামলা ও গ্রেফতার করে তাদের চাপের মুখে ফেলতে চাচ্ছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের। নিয়মিত দেশের নানা জেলা থেকে গ্রেফতার হচ্ছে বিএনপির শত শত নেতাকর্মী। কিন্তু সকল নেতাকর্মী বর্তমানে এই জামিন নামঞ্জুর ও স্বৈরাচারী সরকারের নানা কর্মকান্ডে অনেকটাই উজ্জ্বীবিত ও সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হওয়া শুরু করেছে। তাদের দাবি, কোনভাবেই বিএনপিকে আর দাবিয়ে রাখা যাবে না।

 

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, এই সরকার এই দেশের মধ্যে একটি ভৃতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। তারা দেশের বিএনপির নেতকার্মীদের দমন পীড়নের একটি মেসেজ দিয়ে দেশের জনগণকে ভৃতসন্তুষ্ট করতে চায়। বিরোধী দল যেহেতু ১ দফার আন্দোলে যাচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে তারা জনগণকে বাধা সৃষ্টি করতে ভৃতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে তারা বিচার বিভাগের উপরে বন্দুক রেখে তারা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করছে।

 

আর বর্তমানে যে মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি সব মিথ্যা মামলা। তিনি আরো বলেন, এই স্বৈরাচারি সরকার যেভাবেই নেতাকর্মীদের দামানোর জন্য উঠে পরে লাগুক না কেন কোন নেতাকর্মীকে আর দাবিয়ে রাখা যাবে না। আর বর্তমানে তার যে কর্মকান্ড করছে তার পরিপ্রেক্ষিতে নেতাকর্মীরা আরো উজ্জ্বীবিত ও ঐক্যবদ্ধ হওয়া শুরু করেছে।

 

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, চলতি বছর চূড়ান্ত আন্দোলনের বছর। তারই পরিপ্রেক্ষিতে নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ও আন্দোলন সংগ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেই সময় এই স্বৈরাচারি সরকার নেতাকর্মীদের মনোবল ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে নিয়ে বর্তমানে জামিন নামঞ্জুরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যা বিগত দিনে থাকলে ও এমন দফা দফায় দেখা যায়নি।

 

কিন্তু কোন কিছু করে বিএনপির নেতকার্মীদের দাবিয়ে রাখা বর্তমানে সম্ভব না। বর্তমানে সকল নেতাকর্মী উজ্জ্বীবিত রয়েছে। আর বর্তমান সরকার যে আচরণ সৃষ্টি করতে তার কারণে নেতাকর্মীরা আরো জোরদারভাবে আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর সাধারন জনগণ এই স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে।

এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন