Logo
Logo
×

রাজনীতি

শামীম ওসমানের অস্তিত্ব কী বিপন্ন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৩, ০৮:২৭ পিএম

শামীম ওসমানের অস্তিত্ব কী বিপন্ন
Swapno

 

# ভিপি বাদলও আওয়ামীলীগের পোড় খাওয়া নেতাদের এড়িয়ে গেলেন

 

 

নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে শামীম ওসমানের নাম আসে শুরুতেই। সর্বশেষ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে শামীম ওসমান সভাপতি হিসেবে আসার সম্ভাবনা দেখেছিল কেউ কেউ। ঘটা করে আয়োজন করা সেই সম্মেলনে সেটি না ঘটে আগের কমিটির সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলকেই স্বপদে বহাল রাখার ঘোষণা দিয়ে যান আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল।

 

এরপর সময় গড়িয়েছে, জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে জলও কম ঘোলা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা নিয়ে আবদুল হাই ও ভিপি বাদলে স্নায়ু যুদ্ধ এক সময় প্রকাশ্যেও আসে। এসব সমাধানের কেন্দ্রীয় কমিটি  তাদের দুইজনকে নিয়ে বসেও তেমন কোন সুরাহা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য ৭৫ জনের কমিটি ধরে দুইজনকে পৃথকভাবে ৩৮ জনের নামের তালিকা পাঠাতে চাপ দেয় কেন্দ্র।

 

এই তালিকায় সবাই অনুমান করেই রেখেছিল তালিকা হবে ভিন্ন। নাম নিয়ে দ্বিমত থাকলেও আওয়ামীলীগের পোড় খাওয়া নেতারা দুই নেতার সম্ভাব্য কমিটিতে ঠাঁই পাবে এমনটাই আশা করেছিলো আওয়ামীলীগের তৃণমূল। সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের কমিটিতে শামীম ওসমানের পছন্দসই ব্যক্তিদের আধিক্য থাকবে এটিও আঁচ করেছিলেন অনেকে। যেই কমিটিতে শামীম ওসমানকে সভাপতি হিসেবে ভাবা হয়েছিল, সেই কমিটিতে শামীম ওসমানের নাম সদস্য হিসেবে প্রস্তাব করে পাঠান সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল।

 

তবে তার পাঠানো  ৩৯ জনের নামের তালিকায় যাদের নাম পাঠানো হয়েছে তাদের বেশিরভাগই রাজনীতিতে সরব নন বলে অভিযোগ খোদ আওয়ামীলীগ নেতাদের। অনেকে থাকেন দেশের বাইরে, আবার অনেকের সাথে জেলার ত্যাগী ও সম্মুখ সারির নেতাদের চেনাজানাও নেই। ভিপি বাদলের পাঠানো নামের তালিকায় শামীম ওসমান ও আড়াইহাজারের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর পছন্দসই ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বলে আওয়ামীলীগ নেতারা জানিয়েছেন।

 

তবে দুই জন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার পছন্দের তালিকায় জেলার ত্যাগী ও সম্মুখ সারির আওয়ামীলীগ নেতারা থাকবেনা এটিকে বেমানান বলছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। তারা বলছেন, শামীম ওসমান তোলারাম কলেজের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৮১ সালে এছাড়া নজরুল ইসলাম বাবুও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাহলে শামীম ওসমানের সমসাময়িক এবং দুই চার ব্যাচ আগের ও পরের ছাত্রলীগ নেতাদের কেন ভিপি বাদলের প্রস্তাবিত তালিকায় নাম লিখাতে পারলো না এনিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

 

নজরুল ইসলাম বাবুর পছন্দসই ব্যক্তিরাও কেন এতো অচেনা ধাঁচের সেটিও আরেক প্রশ্ন। তাহলে কী শামীম ওসমানের সাথে জেলার ডাকসাইটের আওয়ামীলীগের নেতাদের দুরত্ব আরো বেড়েছে। না কি রাজনীতিতে অমনোযোগী হয়ে শামীম ওসমান অতীতে দলের জন্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের নিজের সাথে তালিকায় নিতে চাচ্ছেননা। তিন তিনবারের ভিপি নির্বাচিত হওয়া ভিপি বাদলও কী করে আওয়ামীলীগের ডাক সাইটের নেতাদের পাশ কাটিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের নাম তালিকায় প্রস্তাব করেছেন।

 

গত ৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল (ভিপি বাদল) স্বাক্ষরিত জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির প্রস্তাবনায় যাদের নাম রাখা হয়েছে তারা হলেন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই, সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভী/বাবু চন্দন শীল, ফয়েজ আহমেদ উদ্দিন লাভলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনির হোসেন, শরফুদ্দিন আহমেদ, মো. সিরাজুল ইসলাম, খন্দকার আবুল বাশার টুকু, কাজী বেনজীর আহমেদ, মো. সানাউল্লাহ (খাদেম), অনুপ কুমার সাহা, মাসুদ চৌধুরী মজনু, সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল।

 

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, নাজমুল আলম সজল, মীর সোহেল, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুদ-উর রউফ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক দীপক কুমার বণিক দিপু, তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হক জুয়েল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলমাছ ভূইয়া, দপ্তর সম্পাদক এমএ রাসেল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সামসুদ্দিন খান আবু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন নাসির, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন পান্নু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মেজর মশিউর রহমান বাবুল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদা আক্তার ফেনসি।

 

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদনী টুলু, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মীর্জা সোহেল, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. হায়দার আলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক আরমান হোসেন জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রোমান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আলহাজ্ব ফায়জুল ইসলাম, উপ দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম রাজন, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জিল্লুর রহমান লিটন, কোষাধ্যক্ষ কাজী সুমন।

 

সদস্য পদে একেএম শামীম ওসমান (এমপি), নজরুল ইলাম বাবু (এমপি), গাজী গোলাম দস্তগীর (এমপি), বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. শামসুল ইসলাম ভূইয়া, আব্দুল্লাহ আল কায়সার (সাবেক এমপি), মো. শাহজাহান ভূইয়া, এমএ রশিদ, মো. সাইফুল্লাহ বাদল, মো. শওকত আলী, তোফাজ্জেল হোসেন মোল্লা, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, কাজিম উদ্দিন প্রধান, মানজারী আলম টুটুল, আজিজুল হক ভূইয়া, খোরশেদ আলম, মিয়া মো. আলাউদ্দিন, হালিম শিকদার, মনির শিকদার।

 

এড. আবু তাহের ফজলে রাব্বী, মনিরুজ্জামান বুলবুল (পিপি), নাহিদা হাসনাত, প্রফেসর শিরিন বেগম, ফেরদাউসি নীলা, সীমা রানি পাল, এহসানুল হক নিপু, শাহাদাত হোসেন সাজনু, এড. হাসান ফেরদাউস জুয়েল, এড. মো. মোহসিন, সুন্দর আলী, নজরুল ইসলাম, আলী হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজির উদ্দিন আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম ভূইয়া, শেখ সাইফুল ইসলাম, মো. আলী হোসেন ও আবু মো. শরিফুল হক।

 

আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শামীম ওসমান যেসকল নেতাকে নিয়ে তার কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ কিংবা উঠাবসা করেন তাদের বেশিরভাগই ভিপি বাদলের প্রস্তাবিত নামের তালিকায়। যারা তুলনামূলকভাবে নবীন।  তাহলে শামীম ওসমানের কর্মী বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়া ব্যক্তিরা কী মুষ্টিমেয় ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে আওয়ামীগ নেতাদের মাঝে। না হলে ভিপি বাদলের প্রস্তাবিত নামের তালিকায় এর চেয়ে ভালো আওয়ামীলীগ নেতা কেন খুঁজে বের করতে পারলেন না তারা।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন