# আতঙ্ক পেরিয়ে শীঘ্রই মাঠে নামার ঘোষণা
ঈদের আগে রমজান মাসেও সারা দেশেই বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন চালিয়ে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যাপক ভাবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেকটা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে গেছে। নেতাকর্মীরাও ব্যাপক উজ্জীবিত হয়ে সক্রিয় হয়ে কাজ করছে।
ডিসেম্বরের আগেই হবে সাংসদ নির্বাচন তাই এ জেলার বিএনপি নেতাকর্মীরাও সেই মোতাবেক নিজেদেরকে আগে থেকেই তৈরী করে নিচ্ছে। তবে ঈদের পর আর তেমনী ভাবে আন্দোলনের দেখা না মিললেও নেতাকর্মীদের প্রতিদিনই কোন না কোন মামলার হাজিরা দিতে কোর্ট রিতীমতই দেখা যাচ্ছে।
আর এই হাজিরা দিতে আসা নেতাকর্মীরা জামিন নিতে আসলে নেতাকর্মীদের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিনকে নিয়ে মিডিয়ায় মনগড়া বক্তব্যে দিচ্ছে।
যা ইতিমধ্যে বিএনিপর নেতাকর্মীরাও প্রতিবাদও জানিয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের এমন গ্রেফতার আন্দোলনে অনেকটাই ধীরগতি নেমে এসেছে। তবে জেলার বিএনপ নেতারা মনে তারা কোন ভীত অবস্থানে নেই। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী খুব শিঘ্রই কঠোর আন্দোলন করে এই সরকারের পতন ঘটানোর ঘোষনা দেয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায় ,দীর্ঘ দের যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতায় নেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলটির চেয়ারপার্সর বেগম খালেদা জিয়া দূর্নীতির মামলায় প্রায় তিন বছর জেলে থাকার পর বর্তমানে অসুস্থতার কারনে তাকে প্যারলে মুক্তি দেওয়া হয়।তবে বর্তমানে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান কিন্ত তিনিও মামলার কারনে দেশে আসতে পারছে না। তবে দেশে থাকা সকল নেতাকর্মীদের সাথে প্রতিনিয়তই যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।তবে দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতারা আন্দোলন সংগ্রামে তেমন ভাবে সক্রিয় না থাকলে সাপ্রতিক সময়ে তারা আন্দোলন সংগ্রাম দিয়ে মাঠ গরম রাখার চেষ্টা করছে।
জানা যায়,গত বছরের ১লা জানুয়ারী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাক্ষরিত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৪১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি দেওয়া হয়।আর এই আহবায়ক কমিটিতে এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে আহবায়ক ও মামুন মাহমুদকে সদস্য সচিব করা হয়।
তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারনে এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে বিএনপির দলীয় সকল পদ থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়।এর পর এই জেলা কমিটির সহ সভাপতি মনিরুল ইসলাম রবিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।কিন্ত প্রায় ২ বছর পর পূনরায় আবারো গত ১০ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন।এই এ আহবায়ক কমিটিতে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনকে আহবায়ক ও গোলাম ফারুক খোকনকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যের কমিটি ঘোষনা করে।
আর আইে কমিটি বিগত দিনের কমিটিগুলো থেকে অনেক শক্তিশালী এমটাই মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জে যে সকল কমিটি নিয়ে জেলার নেতৃত্ব চলতো তারা সাংগঠনিক ভাবে দলকে সুগংগঠিত করতে পারেনি।দলের ভেতর কোন্দল হাতাহাতি ,মারামারি সহ বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা হতো নেতাদের সামনেই কিন্ত বর্তমানে যে আহবায়ক কমিটি হয়েছে এই কমিটি দলের সকল বিশৃঙ্খলা কোন্দল সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছে এবং দলকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
তবে জেলা বিএনপিতে গিয়াস উদ্দিন ও খোকনের নেতৃত্ব আশার পর পরই পাল্টে যায় জেলা বিএনপির দৃশ্যপট। নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রেখে একের পর এক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতঙ্ক নিয়ে সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী দেশের দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ,নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অবস্থান কর্মসূচির ঘোষনা দেয়।
আর এই ঘোষনা দেওয়ার পরপরই তার নেতাকর্মীদের ওপর প্রসাশনের নজরদারি বাড়ানো হয় এবং কর্মসূচির আগের দিন রাতেই নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন সহ থানা ও জেলা বিএনপি ও অংগসংগঠনের অনেক নেতাকর্মীদের বাড়িতে ডিবি পুলিমের ব্যাপক ভাবে অভিযান চালানো হয়।
তবে কোন ভাবেই থামানো যায়নি এই কর্মসূচি সঠিক সময়েই কর্মসূচি সফল করেছে নেতাকর্মীরা এমনকি জেলা বিএনপির আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন সহ যে সকল নেতাকর্মীদের বাড়িতে আগের দিন রাতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়েছিলো যে সকল নেতাকর্মীরা পুলিশের সামনে দিয়েই সেই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করে।
শুধু তাই নয় এ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ আন্দোলনে অংশগ্রহন করে যা অনেকটাই চোখে পরার মতো। জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের আর বেশ কয়েকমাস বাকি এরই মধ্যে নেতাকর্মীরা অনেকটাই শক্ত অবস্থানে আছে।
জেলার আন্দোলনের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটি। আর এই আহবায়ক কমিটিতে যোগ্য নেতৃত্বের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফতুল্লা থানা বিএনিপর আহবায়ক শহিদুল ইসলাম টিটু ও বারী ভূইয়াকে সদস্য সচিব করে কমিটি এ আহবায়ক কমিটি দেওয়া হয়।
আর এই কমিটি দেওয়ার পর পরই নেতাকর্মীদের আরও শক্রিয় করতে ইতিমধ্যে থানার ৫ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩ ইউনিয়নের কমিটি দেওয়া হয়। বাকি দুইটি ইউনিয়নের কমিটি নিয়ে কাজ চলছে হয়তো খুব শিঘ্রই হয়ে যাবে। শুধু ফতুল্লাতেই নয় জেলার প্রতিটি থানা ,উপজেলা ,পৌরসভার ওয়ার্ড গুলোতেও কমিটি দিয়ে নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় করছে।
নেতাকর্মীদের দাবি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আস্তে আস্তে ভয়ানক ভাবে রুপ নিয়েছে। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া উচিৎ আর তা না হলে সেই নির্বাচনে অংশ নিবেনা বিএনপি। আর তারা এটাও বলেন এই সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটাতে হবে। তাই বিএনপির নেতাকর্মীরা রমজান মাসে ইফতার পার্টিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি রাজপথেও আন্দোলনে নেমেছে। এন.হুসেইন/জেসি


