Logo
Logo
×

রাজনীতি

হাইয়ের প্রস্তাবিত কমিটিতেও রয়েছে মনগড়া নাম

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৩, ০৭:০১ পিএম

হাইয়ের প্রস্তাবিত কমিটিতেও রয়েছে মনগড়া নাম
Swapno

 

# চেনা-জানা নেই এমন ব্যক্তিও কমিটিতে
# পরীক্ষিত আ.লীগ নেতাদেরও জায়গা হয়নি তালিকায়

 

 

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের এই মুহুর্ত্বে সবচাইতে চর্চিত বিষয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পৃথকভাবে কেন্দ্রে জমা দেয়া জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ খসড়া তালিকা। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলের জমা দেয়া কমিটিতে প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানের ছায়া বড় আকারে ধরা পড়েছে। এছাড়া এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর ঘনিষ্টরা সেখানে প্রাধান্য পেয়েছে। আর ভিপি বাদলের নিজের পছন্দের ব্যক্তিরাও বাদ পড়েনি।

 

অপরদিকে আবদুল হাইয়ের জমা দেয়া জেলা আওয়ামীলীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট খসড়া কমিটিও যে তুখোড় হয়েছে এমনটি নয়। জেলার ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতাদের নাম বাদ পড়লেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুইজনই একটি জায়গায় একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছেন। সেটি হলো ভিপি বাদল যেখানে কমিটিতে তার স্ত্রী নাহিদা হাসনাতকে সদস্য পদে প্রস্তাব করেছেন, আবদুল হাই তার ছেলে মো. তানভীর হাইকেও সদস্য পদে প্রস্তাব করেছেন।

 

খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে আওয়ামীলীগের তৃণমূলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে সূত্র। ২০২২ সালের অক্টোবরে জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে আগের কমিটির সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলকে বহাল রাখা হয়। কিন্তু কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা নিয়ে তাদের দুইজনের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক বিরাজ করছিল। এমনকি দুইজনের জেলা আওয়ামীলীগের কর্মসূচিও পৃথকভাবে পালন করতে দেখা গেছে।

 

নারায়ণগঞ্জের প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল হাইয়ের প্রস্তাবিত ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও নানা আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। আবদুল হাইয়ের কমিটিতে শামীম ওসমান ফলাও করে প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও এই কমিটিতে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির থাকা আর ত্যাগী আওয়ামীলীগ নেতাদের বাদ পড়ে যাওয়া নিয়ে কঠোর সমালোচনা চলছে তৃণমূলে।

 

আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতার অভিমত নিয়ে জানা গেছে, ভিপি বাদল যেখানে সহ-সভাপতি পদে বেশ কিছু ব্যক্তি যারা আওয়ামীলীগ থেকে দীর্ঘদিন দূরে আছেন, কিংবা সক্রিয় রাজনীতিতে নেই, প্রবাসী জীবন যাপন করছেন সেই ধরণের ব্যক্তিদের সহসভাপদি পদে আবদুল হাইয়ের প্রস্তাবিত কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি। কিন্তু কিছু বিষয় আলোচনায় এসেছে, সাধারণত সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, সাবেক সাংসদদের নাম সদস্য পদে প্রস্তাব করা হয়।

 

আবদুল হাইয়ের কমিটিতেও এমনটি হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম শুধু সাবেক সংরক্ষিত আসনের সাংসদ এড. হোসনে আরা বাবলির ক্ষেত্রে। ঠিক কী কারণে তাকে সহ-সভাপতি পদে আবদুল হাই কমিটিতে নাম প্রস্তাবনায় নিয়ে আসলেন সেটি পরিষ্কার বোধগম্য হচ্ছেনা আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে। তারা বলছেন, সর্বশেষ জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতেও হোসনে আরা বাবলী সদস্য পদে ছিলেন।

 

তবে মজার বিষয় হচ্ছে, আবদুল হাই কিংবা ভিপি বাদলের দুইজনের কমিটিতে ঠাঁই হয়নি আওয়ামীলীগের দুর্দিনে লাগাতার সার্ভিস দেয়া দুই জাদরেল নেতার। বয়োজ্যষ্ঠ আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে আবদুল হাইয়ের কাছে প্রত্যাশাও বেশি করেন আওয়ামীগ নেতারা। জেলা আওয়ামীলীগের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে থাকা এড. আসাদুজ্জামান আসাদ এবং আরজু রহমান ভূঁইয়া কেন আবদুল হাই কিংবা ভিপি বাদলের খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা নিতে পারলোনা এটি নিয়ে বিস্ময়ের সাথে ক্ষোভের কমতি নেই তৃণমূলে।

 

আওয়ামীলীগ নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এড. আসাদুজ্জামান যিনি আওয়ামীলীগের সময়কালে পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে আওয়ামীলীগের দুর্দিনে অর্থাৎ ৭৫ পরবর্তী সময়ে মহানগর আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেন যখন সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন তৎকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আসাদুজ্জামান আসাদ।

 

এছাড়ার এর দুই বছর পর সরকারি তোলারাম কলেজের ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন আরজু রহমান ভূঁইয়া। তিনি বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। তাছাড়া এরশাদ আমলে তিনি আওয়ামীলীগের হয়ে উপজেলা নির্বাচনও করেছেন। জেলা আওয়ামীলীগের বিগত কমিটিতে সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

আসাদুজ্জামান আসাদ পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে আওয়ামীলীগ প্যানেলের প্রার্থী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দুইজন ডাক সাইটের আওয়ামীলীগের নেতাকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের প্রস্তাবিত দুই কমিটিতে কেন এড়িয়ে গেলেন এটি বোধগম্য নয় তৃণমূলে।

 

জেলা আওয়ামীলীগের গত কমিটিতে সদস্য পদে থাকা শামসুজ্জামান ভাষানীরও নাম প্রস্তাব করেননি সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক। অথচ আওয়ামীলীগের দুঃর্দিনে আন্দোলন সংগ্রামে লাগাতার ভূমিকা রেখেছেন ভাষানী। চিলেন নারায়ণগঞ্জ যুবলীগের সভাপতি। শুধু যে নারায়ণগঞ্জ। কেন্দ্রেও রেখেছেন পারফর্মেন্স। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে (শেখ সেলিম- এড. ইকবাল পরিষদ) তিনি সদস্য হিসেবে ছিলেন।

 

আবদুল হাইয়ের কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নাম প্রস্তাব করা মুক্তিযোদ্ধা এড. মফিজউদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় নন। রাজনীতির চাইতে তিনি আইনপেশা নিয়েই স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। এছাড়া আবদুল হাইয়ের প্রস্তাবিত কমিটিতে কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. সেলিম সম্পর্কে তৃনমূল নেতাকর্মীদের ধারণা নেই। তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ নার্গিস আক্তারের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কেও আওয়ামীলীগ নেতারাই মনে করতে পারছেননা।

 

সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজও বেশ কয়েকবছর যাবৎ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন। আবদুই হাইয়ের প্রস্তাবিত কমিটিতে থাকা ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এড. কবির হোসেন রূপগঞ্জে পরপর দুই বার আওয়ামীলীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিরোধীতা করে নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তিনি কী করে আবদুল হাইয়ের প্রস্তাবিত কমিটিতে আসলেন তাও বিরাট প্রশ্ন। এছাড়া ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবু দাইয়ান সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল নন আওয়ামীলীগ নেতারা।

 

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আবদুল হাইয়ের কমিটিতে এই পদে সালাউদ্দিন সিকদারের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ মাত্র কয়েকবছর আগেও সালাউদ্দিন শিকদার কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক পদে ছিলেন। এত দ্রুত অটো প্রমোশন নিয়ে কী করে জেলা আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে বিবেচনা করা হলো সেটিও নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রস্তাব করা রূপগঞ্জের আবদুল কাইউম খানও কখনো পদ-পদবি নিয়ে রাজনীতি করেছেন কেউ শোনেননি।

 

এমনকি তাকে হাইব্রীড নেতা হিসেবেও আখ্যা দেন অনেকে। হাইয়ের কমিটিতে শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আলমকে চিনতে পারছেন না আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এছাড়া সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে রূপগঞ্জের মোতাহার হোসেন ভূঁইয়া নাদিম সম্পর্কেও জানা শোনা নেই তৃণমূলে। এছাড়া আবদুই হাইয়ের কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে প্রস্তাবিত জসিমউদ্দিনের সাথে জাপা নেতা সাংসদ সেলিম ওসমানের সাথে দহরম-মহরম সম্পর্কের কথাও স্পষ্ট।

 

প্রসঙ্গত, গত ১৮ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের স্বাক্ষরিত জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির প্রস্তাবনায় যাদের নাম দেওয়া হয় তারা হলেন, সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই, সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. কাদির, এডভোকেট হোসনে আরা বাবলী (সাবেক এমপি), আদিনাথ বসু, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন।

 

খন্দকার আবুল বাসার টুকু, মো. ছানাউল্লাহ ও হাজী জসিমউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ্ব ইকবাল পারভেজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মফিজউদ্দিন আহমেদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মাসুদ-উর রউফ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. সেলিম, তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ নার্গিস আক্তার, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এড. কবির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক এমএ রাসেল, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবু দাইয়ান।

 

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সালাউদ্দিন সিকদার, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাইউম খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. জালালউদ্দিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মরিয়ম কল্পনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এড. নুরুল হুদা, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এরফান হোসেন দীপ, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোনতাজউদ্দিন মর্তুজা।

 

শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক উদ্দিন জার্জিস, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আলম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন ভূইয়া নাদিম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সুন্দর আলী, আবু সুফিয়ান ও তাবিবুল কাদির তমাল, উপ দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জুলহাস মিয়া, কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান (সাবেক চেয়ারম্যান)।

 

সদস্য পদে একেএম শামীম ওসমান (এমপি), গাজী গোলাম দস্তগীর (এমপি), নজরুল ইলাম বাবু (এমপি), আব্দুল্লাহ আল কায়সার (সাবেক এমপি), এনাজুর রহমান চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা মহিউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন টুলু, এড. আনিসুর রহমান দিপু, এমএ সালাম (চেয়ারম্যান), আজিজুল হক আজিজ, মেজর (অবঃ) মশিহুর রহমান, মো. শাহজালাল মিয়া, মিয়া আলাউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া।

 

ইঞ্জিনিয়ার মাসুম রহমান, মাহফুজুর রহমান কালাম, কাওছার আহমেদ পলাশ, এড. সেলিনা আক্তার, মো. আবদুল মান্নান, ব্যারিস্টার খান মোহম্মদ শামীম আজিজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফাজ খান, হাজী আমজাদ হোসেন, মো. তানভীর হাই, মো. খোরশেদ আলম, আশরাফ আলম ফিরোজ, শাহজাহান ভূঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সাইফুল ইসলাম, মাহবুবুল ইসলাম রাজন, ডা. আউয়াল, হালিম সিকদার, এড. তায়েবুর রহমান, মতিউর রহমান, আলতাফ হোসেন, আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর মাস্টার চেয়ারম্যান, মো. শাহজাহান মিয়া।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন