# মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি
# জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিতেও সহ-সভাপতি
# আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য
# নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান
# ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির না.গঞ্জের সভাপতি
আগামী জাতীয় দ্বাদশ নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা তৈরী হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রায় আট মাস পর জেলার দুই শীর্ষ নেতা পৃথক ভাবে কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা পাঠিয়েছেন। আর এই তালিকা নিয়ে তৈরী হয়েছে নানা সমালোচনা। অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রে পাঠানো তালিকার নামের অনেককে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ চিনেনই না। যা নিয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ২০২২ সনে ২৩ অক্টোবর হাক ডাক করে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তখন ওই সম্মেলনে পরিবর্তনের আশা নিয়ে নেতা কর্মীরা যোগদান করলেও পুরাতনরা বহাল থাকায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেন। সম্মেলন পূবের কমিটির সভাপতি আব্দুল হাইকে আবারও সভাপতি এবং আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদলকে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষনা করা হয়। কিন্তু তিন মাসের মাঝে পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেয়ার নির্দেশনা থাকলেও দীর্ঘ আট মাস পরে দুই তালিকা পাঠানো হয়েছে। এই তালিকা নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মাঝে হৈ চৈ শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রমতে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদলের পাঠানো প্রস্তাবিত কমিটির তালিকায় জেলা আওয়ামী লীগের ১নং সহ সভাপতি হিসেবে ডা. সেলিনা হায়াত আইভী অথবা বাবু চন্দন শীলের নাম রয়েছে। অর্থাৎ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র আইভী অথবা চন্দন শীলের নাম রাখার জন্য প্রস্তাবিত কমিটি তালিকায় পাঠিয়েছেন তিনি।
কিন্তু বাবু চন্দন শীল বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি পদে রয়েছেন। একই সাথে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়া চন্দনশীল মহানগরের কোটাতেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য। এছাড়া চন্দনশীল ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি। যেটির মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। অপর দিকে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্বের কমিটিতে নাসিক মেয়র আইভী সিনিয়র সহ সভাপতি পদে ছিলেন। কিন্তু এবার তাকে জেলা থেকে সরিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগ পদে রাখতে চান খোদ দলের একটি অংশ।
দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে বলাবলি হচ্ছে বাবু চন্দন শীলে ইতোমধ্যে দীর্ঘ দিন যাবৎ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি পদে থেকে দলের হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাকে আবার জেলা আওয়ামী লীগের পদেও প্রস্তাবিত কমিটিতে রাখা হয়েছে। তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। চন্দন শীলের সমর্থকদের দাবী তিনি জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকলে জেলার ৫টি উপজেলার ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নিয়ে কাজ করতে পারবেন।
তাদের এই যুক্তিতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সমর্থকরা বলেন, তিনি যখন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তখন জেলার সকল নেতা কর্মীদের নিয়ে উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে আনোয়ার হোসেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে থেকে দেখিয়ে গেছেন কিভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নিয়ে কাজ করতে হয়।
তিনি যদি মহানগর আওয়ামী লীগের পদে থেকে কাজ করতে পারেন তাহলে বাবু চন্দন শীল কেন পারবেন না এমন প্রশ্ন উঠেছে তৃনমূল নেতা কর্মীদের মাঝে। তাই স্থানীয় নেতা কর্মীদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে বাবু চন্দন শীলের হঠাৎ করে এত কদর বেড়ে গেলো কেন। আর মেয়র আইভী কে কেন জেলা থেকে মাইনাস করার পায়তারা চলছে। আর মেয়র আইভীকে কোন কমিটিতে দিতে চান তারা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত বছরের জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বলেছেন, এবার যাচাই বাছাই করে কমিটি দেয়া হবে। কোন বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির ইশারায় এই প্রস্তাবিত কমিটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য ২০১৬ সনে আব্দুল হাইকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, তখনকার জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদলকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং নাসিক মেয়র আইভীকে সিনিয়র সহ সভাপতি করে আংশিক কমিটি ঘোষনা করা হয়। পরবর্তিতে ২০২২ সনের ২৩ অক্টোবর ফতুল্লার ইসদাইর ওসমানি পৌর স্টোডিয়ামে সম্মেলনের মাধ্যমে পুর্বের কমিটির সভাপতি আব্দুল হাইকে পুনরায় সভাপতি এবং ভিপি বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
এস.এ/জেসি


