# মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এককভাবে মাঠে
# সাংগঠনিক তৎপরতায় অলসতা
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে জাতীয় পার্টির কাছে হারিয়ে যাওয়া আসনটি পুনরুদ্ধারে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগ ও সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা উদগ্রীব থাকলেও অনৈক্য ও ভেদাভেদে জড়িয়ে থাকার কারণে ফের আসনটি পুনরুদ্ধারে রয়েছে শঙ্কা। যার অন্যতম কারণ দলীয় প্রতীক নিশ্চিতকরণে সোনারগাঁয়ের স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে অনৈক্য।
বরাবরই বিভিন্ন সভা সমাবেশে ঐক্যের সুর তুললেও সেই সুরে এক হতে পারছে না সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগ নেতারা। তাদের অনৈক্য বিভেদের ফলে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতে সক্রিয় না থাকায় দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিতে ছিঁটকে পরে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামীলীগ নেতারা।
কারণ এখনো সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগ নেতারা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতিতে সক্রিয় না হতে পারার ফের সোনারগাঁয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে শঙ্কা তৈরী হয়ে আছে। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ আবারও জাতীয় পার্টির সাথে মহাজোট গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে আসলে ফের তাদের অনৈক্য বিভেদের জেড়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নৌকা হারাতে পারে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগ।
সূত্র জানা যায়, ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগে নবীন প্রবীণের সমন্বয়ে থানা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠিত হয়। তবে কমিটি গঠনের পর থেকে থানা আওয়ামীলীগের নয়া নেতৃত্ব বিভিন্ন ইউনিয়নের সম্মেলন এবং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তৎপরতা দেখালেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো থানা আওয়ামীলীগের কোন কমিটি মুক্তি পায়নি। তবে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন খুব সন্নিকটে থাকলেও থানা আওয়ামীলীগের কমিটি ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটিগুলো পূর্ণতা দিতে কোন রকম তোড়জোড় নেই।
কারণ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামছুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক কায়সার হাসনাত ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম এই প্রধান তিন নেতাকেই আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন এমনটাই স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। যার কারণে সংগঠনকে গোছানোর ক্ষেত্রে নেই কোন তোড়জোড় থানা আওয়ামীলীগের নেতাদের।
এছাড়া তাদের নেতৃত্বের উপর অসন্তোষ থানা আওয়ামীলীগের বেশকয়েকজন নেতা। এরমধ্যে অন্যতম হল থানা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম। কারণ প্রায় সময়ই তাদের নেতৃত্বে গড়িমসির ও সংগঠনকে শক্তিশালী করায় স্থবীরতা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন। তবে থানা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের সাথে বর্তমান নেতৃত্বে থাকা থানা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে থাকা নেতাদের সাথে রয়েছে চরম বিরোধ।
কিন্তু এ বিরোধ নিরসন না হলে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিপত্তি ঘটার শঙ্কা রয়েছে। অপরদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ড. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর সাথে থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাতের রয়েছে চরম আঁকারে বিরোধ। তাদের বিরোধের চিত্র সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ও ইউনিয়ন সম্মেলনে ফুঁটে উঠে।
কারণ থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে ড. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর সমর্থক ও কায়সার হাসনাতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এছাড়া জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলনে এই দুই নেতাদের সমর্থকদের মধ্যে স্লোগান দেয়া নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাদের এই বিরোধের প্রভাব আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও পড়ার শঙ্কা রয়েছে। যার কারণে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে অনৈক্য বিভেদের ফলে ফের প্রতীক নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
এস.এ/জেসি


