Logo
Logo
×

রাজনীতি

ব্যর্থতায় জেলা ছাত্রলীগ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৩, ১১:৫০ এএম

ব্যর্থতায় জেলা ছাত্রলীগ
Swapno


# ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ বন্দরে বুড়ো কমিটি নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই
# রূপগঞ্জ-আড়াইহাজারে নেই কোন সাংগঠনিক কার্যক্রমে


নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বের সাংগঠনিক দূর্বলতার কারণে আওয়ামীলীগের জন্মস্থান জেলায় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব এখন প্রশ্নবিদ্ধ। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বের সাংগঠনিক তৎপরতা নেই বললেই চলে দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে একের পর এক সাংগঠনিক দূর্বলতার জানান যাচ্ছে।

 

 

কারণ জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি নেতৃত্বে আসার পর জেলা ব্যাপী ছাত্রলীগের রাজনীতিকে ত্বরান্বিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে জেলা ছাত্রলীগ বিভিন্ন সভা সমাবেশে সক্রিয় ভূমিকা দেখালেও সভা সমাবেশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতৃত্ব। দীর্ঘ একে যুগেরও অধিক সময়ের তিনটি মেয়াদোত্তীর্ণ থানা কমিটি নেতৃত্ব ফেরাতে নেই কোন ব্যাথা।

 

 

এছাড়া জেলার অদূরের থানা গুলোতে নেই জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম। যার কারণে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বের ব্যর্থতার অন্ত নেই। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগে আজিজুর রহমান আজিজকে সভাপতি এবং আশরাফুল ইসলাম রাফেলকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রলীগের দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

 

 

পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের ১৮৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। তবে নেতৃত্বে প্রধানের পর থেকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বারা একটি থানা কমিটি কলেজ কমিটি কয়েকটি ইউনিয়ন কমিটি ছাড়া অজস্র থানা ইউনিয়ন ওয়ার্ড কমিটিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ থাকলে দীর্ঘ ৫বছর জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্ব অতিক্রম করলেও কমিটিগুলো গঠন করতে পারেনি।

 

 

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো মধ্যে অন্যতম হল জেলা ছাত্রলীগের অর্ন্তগত ফতুল্লা থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, বন্দর থানা ছাত্রলীগের কমিটি দীর্ঘ এক যুগেরও অধিক সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ থাকলেও এখনো এসকল থানার কমিটিগুলো গঠনে কোন রকম নজর দিচ্ছে না জেলা ছাত্রলীগ। যার কারণে এই থানাগুলোতে অনেকটাই বিলিনের পথে হাটছে ছাত্রলীগের রাজনীতি।

 

 

এছাড়া শহরের অদূরের দুটি থানা রূপগঞ্জ আড়াইহাজার থানায় নেই জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম। কারণ রূপগঞ্জ এবং আড়াইহাজারে বছরেরও একটি কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় না জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে। এছাড়া কমিটি গঠনের স্বার্থেও রূপগঞ্জ থানা কমিটি গঠনে জেলা ছাত্রলীগের অবদান থাকলেও আড়াইহাজার থানায় সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক কমিটি ঘোষণা করেন।

 

 

সেখানে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের অনুপুস্থিতির কথাও শোনা যায়। অপরদিকে সোনারগাঁ থানা ছাত্রলীগের কমিটি মেয়াদোউত্তীর্ণ থাকলেও এবং সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও নয়া নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে নেই জেলা ছাত্রলীগের কোন তৎপরতা। যার কারণে বিবাহিত বুরুদের দ্বারাই চলছে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব।

 

 

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ শুধু নারায়ণগঞ্জ শহর ব্যাপী সক্রিয় রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকে শহরের গন্ডি পেরিয়ে জেলার অন্যান্য থানাগুলোতে বর্তমান সময়ে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই বললেই চলে। যার কারণে পুরো জেলা ব্যাপী জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্ব দূর্বলতার রূপ নিয়েছে।

 

 

তবে ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সাথে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির গুঞ্জন উঠে। শেষ পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব টিকে গেলেও বিগত সময় থেকে এখনো পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগ সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হতে পারেনি।

 

 

তবে ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর ছাত্রলীগের বিশেষ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রলীগের সে কর্মী সমাবেশের পরে জেলা এবং মহানগর ছাত্রলীগের নয়া নেতৃত্বের গুঞ্জন উঠলেও সেটি আর দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

 

 

তবে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হাতেগোনা বেশ কয়েকমাস থাকলেও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গুলো নতুন নেতৃত্ব ফেরাতে নেই কোন তোড়জোড়। যার কারণে জেলা ছাত্রলীগের অর্ন্তভুক্ত পাঁচটি থানায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দ্বারা জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতিক্রম হওয়ার শঙ্কা তৈরী হয়েছে। যার কারণে জেলা ব্যাপী জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক দূর্বলতার কারণে ব্যর্থতার দিকে এগুচ্ছে জেলা ছাত্রলীগ।    এন.হুসেইন রনী/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন