Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘তবে কি তারা আলাদিনের চেরাগ পেয়েছেন’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৩, ১১:৫৩ এএম

‘তবে কি তারা আলাদিনের চেরাগ পেয়েছেন’
Swapno


# জবাদিহিতা না থাকায় তারা এখন লাগামছাড়া


ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফ উল্লা বাদলকে নিয়ে দৈনিক যুগের চিন্তায় প্রকাশিত রিপোর্ট নিয়ে গোটা ফতুল্লা জুড়ে তোলপাড় চলছে। বিশেষ করে কাশীপুর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের ভূক্তভোগী সাধারন মানুষ দৈনিক যুগের চিন্তা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

 

তারা জানান সাইফ উল্লা বাদল নিজেকে সাধু দাবি করলেও প্রশ্ন উঠেছে তার আয়ের উৎস নিয়ে। বিগত বহু বছর ধরে তিনি ঠিক মতো চলাফেরা করতে পারেন না। কিন্তু তিনি এতো টাকার মালিক হলেন কি করে? এতো গুলো বাড়ির মালিক তিনি কিভাবে হলেন? কাশীপুরের বেশ কয়েকটি সুরম্য অট্টালিকার মালিক তিনি। তিনি তার দুটি ভবন নির্মাণেই খরচ করেছেন অন্তত দশ কোটি টাকা।

 

 

রয়েছে কোটি কোটি টাকার জমি। শারীরিকভাবে একজন অচল ব্যাক্তি কি তাহলে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছেন? এলাকাবাসীর মতে যেকোনো নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসবে চাঞ্চল্যকর তথ্য। একটি সূত্র জানিয়েছে এর আগে তার বহুতল ভবনগুলি নির্মান করতে তিনি কোথা থেকে টাকা পেয়েছেন এ টাকার উৎস জানতে চেয়েছিলো ইনকাম ট্যাক্স অফিস।

 

 

তখন তিনি সরকারী দল করার সুবাধে এবং স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ঠ লোক হওয়ার সুবাধে প্রভাব খাটিয়ে গোঁজামিল দিয়ে পার পেয়ে যান।
এদিকে এলাকাবাসী আরো জানায় বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি এতোটাই অসুস্থ্য যে প্রতিদিন সকালে তিনি ঘুম থেকেই উঠতে পারেন না। তার ঘুম থেকে উঠতে বেলা বারোটা বেজে যায়।

 

 

ফলে একজন চেয়ারম্যান হিসাবে বহু মানুষ তার বাড়িতে গিয়ে তার সাক্ষাৎ পান না। সাক্ষাৎ প্রার্থী বেশির ভাগ মানুষকেই তিনি দেখা করতে পারবে না বা অসুস্থ্য বলে তাড়িয়ে দেয়া হয়। তিনি ইউনিয়ন পরিষদে জাননা বহু বছর হলো। তাই তার আচরন দেখলে মনে হয় কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদটি তার বাপ দাদার সম্পত্তি। তিনি কারো কাছে কোনো রকম জবাবদিহি করতে রাজি নন।

 

 

আর জবাবদিহি করবেনই বা কার কাছে? স্থানীয় প্রভাবশালী এমপি তাকে বড় ভাই বলে ডাকেন। বিগত ইউপি নির্বাচনে তিনি শারীরিক ভাবে অক্ষম হওয়া সত্বেও সাবেক চেয়ারম্যান মোমেন শিকদারকে বাদ দিয়ে তাকেই দেয়া হয়েছে মনোনয়ন। আর চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে তার আচরনে মনে হয় তিনি কোনো চেয়ারম্যান বা রাজনীতিবিদ নন, যেনো তিনি একজন পীর আর বাকী অনেকে তার মুরিদ।

 

 

পীর সাহেব তার আস্তানায় (বাড়িতে) বসে থাকেন আর ভক্তরা তাকে ভোগ দিতে চলে যান তার বাড়িতে। ফলে কাশীপুরে বাস্তবে এখন আর কোনো ইউনিয়ন পরিষদ নেই বা তার কোনো কার্যক্রম নেই। তাই এভাবে আর কতোদিন চলবে কেউ বলতে পারছেন না। সাইফ উল্লা বাদলের পোষ্যরা বলে থাকেন যতোদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে, শামীম ওসমান এমপি থাকবেন ততোদিন সাইফ উল্লা বাদল কাশীপুরের চেয়ারম্যান এবং ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকবেন।

 


এদিকে গত দুই দিন সাইফ উল্লা বাদলের শেল্টারে থেকে কথিত ‘ডাকাত গিয়াস’ এবং তার ছেলে সুমনকে নিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে তাতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে গোটা কাশীপুর জুড়ে। বিশেষ করে উত্তর নরসিংপুর, চরনরসিংপুর, নবীনগর, মুসলিমনগর এলাকা সহ আশাপাশের এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক ইকিবাঁচক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে।

 

 

সাইফ উল্লা বাদলের উকিল জামাই সুমন তার দালাল সিন্ডিক্যাটের মাধ্যমে ওয়ারিশ কিনার নামে নাম মাত্র মুল্যে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন। উত্তর নরসিংপুর এলাকাবাসী জানিয়েছে এই সুমনের দৌরাত্ম্য এখন এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে ওই এলাকার মানুষ তার বাহিরে অন্য কারো কাছে তাদের জমিজমা বিক্রী করতে পারেন না।

 

 

আবার তাকে ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে কিনতেও পারেন না। সুমন নীরিহ সাধারন মানুষকে নানা রকম ট্রাপে ফেলে দশ লাখ টাকার জমি দুই/এক লাখ টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছে। কিন্তু বিক্রি করার সময় মোটা দামে বিক্রি করছে। এভাবেই সে এখন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। আর আগেই বলা হয়েছে যে এই সুমন হলো সাইফ উল্লা বাদলের জমি ব্যবসার পার্টনার।

 

 

গিয়াস ও তার পুত্র সুমন গংদের মতো আরো বেশ কয়েকটি ভূমি দস্যু সিন্ডিক্যাট গোটা কাশীপুর জুরে তৎপর রয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। তাই অনেকেই এখন মনে করেন যতোদিন সাইফ উল্লা বাদল বেঁচে আছেন ততোদিন ওই ইউনিয়নের সাধারন মানুষের কোনো মুক্তি নেই।   এন হুসেইন রনী/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন