খুব শীঘ্রই প্রকাশ হতে পারে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা। আর এই জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই গত ১৮ মার্চ এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল (ভিপি বাদল) গত ৩০ এপ্রিল কমিটির বিভিন্ন পদে তাদের নিজেদের চাহিদা মতো আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী নামের প্রস্তাবনা তালিকা পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট।
যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেই সব প্রকাশিত সংবাদের উপর ভিত্তি করেই এখন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদের পর গুরুত্বপূর্ণ যে দুটি পদ অর্থাৎ সহসভাপতি এবং যুগ্ম সম্পাদক পদ নিয়ে দুই জনের পছন্দের তালিকা নিয়ে চলছে আলাপ আলোচনা নিয়ে চলছে বিচার বিশ্লেষণ।
এই তালিকায় একদিকে যেমন দুইজনের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য বা দ্বিমত পোষণের বিষয়টি দেখছেন অন্যদিকে দুই জনের কাছের মানুষগুলোকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকগণ সেই তালিকায় তাদের পছন্দের নেতাকে মিলিয়ে নিতে আছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার অপেক্ষায়।
সদ্য বিলুপ্ত হওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির ১১টি সহসভাপতি পদের মধ্যে একটি পদ খালি রেখে ১০টি পদ পূরণ করা হয়েছিল। তারা হলেন ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, আরজু রহমান ভুইয়া, মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির, মোহাম্মদ শিকদার গোলাম রসুল, আদীনাথ বসু এবং খাজা রহমত উল্লাহ।
এর মধ্যে সহসভাপতি খাজা রহমত উল্লাহ মৃত্যুবরণ করেছেন। তাছাড়া যুগ্ম সম্পাদক পদের তিনজন হলেন জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, ইকবাল পারভেজ। তবে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তালিকাভূক্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো প্রস্তাবনা কমিটিতে জেলা কমিটির সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের পাঠানো নামের প্রস্তাবনা তালিকায় ধারাবাহিক নিয়মেই পূর্বের কমিটির অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে সংযুক্ত করা হয়েছে নতুন নাম।
তবে দুজনের নামের তালিকার প্রস্তাবে তাদের নিজেদের আলাদা পছন্দের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। গত ১৮ মার্চ আবদুল হাইয়ের পাঠানো প্রস্তাবনা কমিটিতে সহসভাপতির পদের জন্য পূর্বের কমিটির ৬ জনের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. কাদির, আদিনাথ বসু ও মো. ছানাউল্লাহ।
একই সাথে আবদুল হাইয়ের তালিকায় সহসভাপতি পদের জন্য নতুন যে পাঁচটি নাম প্রস্তাব করা হয়েছে তারা হলেন, মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, এডভোকেট হোসনে আরা বাবলী (সাবেক এমপি), এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, খন্দকার আবুল বাসার টুকু ও হাজী জসিমউদ্দিন।
অন্যদিকে গত ৩০ এপ্রিল ভিপি বাদলের পাঠানো প্রস্তাবনা কমিটিতে সহসভাপতির পদের জন্য পূর্বের কমিটির তালিকায় থাকা সহসভাপতির মধ্য হতে মাত্র দুই জনের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। বাকী নয়জনের নামই নতুন অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
তারা হলেন, বাবু চন্দন শীল, ফয়েজ আহমেদ উদ্দিন লাভলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মনির হোসেন, শরফুদ্দিন আহমেদ, মো. সিরাজুল ইসলাম, খন্দকার আবুল বাশার টুকু, কাজী বেনজীর আহমেদ, অনুপ কুমার সাহা ও মাসুদ চৌধুরী মজনু। অন্যদিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদেও সেই একই অবস্থা। সদ্য বিলুপ্ত হওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে তিন জন। তারা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম, অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু ও ইকবাল পারভেজ।
আবদুল হাইয়ের পাঠানো প্রস্তাবনা কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক পদের জন্য পূর্বের কমিটির ২ জনের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম ও আলহাজ্ব ইকবাল পারভেজ। ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর নামের জায়গায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মফিজউদ্দিন আহমেদের নাম প্রস্তাব করা হয়।
অন্যদিকে ভিপি বাদলের পাঠানো প্রস্তাবনা কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক পদের জন্য পূর্বের কমিটির ১ জনের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তিনি হলেন ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু। জাহাঙ্গীর আলম ও ইকবাল পারভেজের জায়গায় নাজমুল আলম সজল ও মীর সোহেলের নাম প্রস্তাব করা হয়। এন. হুসেইন রনী/জেসি


