Logo
Logo
×

রাজনীতি

কেন্দ্রের তলবে ভীষণ চিন্তিত আনোয়ার-খোকন সাহা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৩, ০৯:৪৯ এএম

কেন্দ্রের তলবে ভীষণ চিন্তিত আনোয়ার-খোকন সাহা
Swapno


# সম্মেলনে ফাঁকা থাকা নাম পূরণ করে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা

# সিদ্ধিরগঞ্জে সম্মেলনের না করার দায় সাংসদকে দিতে চান তারা
 

জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের পরপরই গতবছরের ২৫ অক্টোবর নির্ধারিত ছিল মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন। ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন স্থগিত করা হয়। আর যার দরুণ ২০১৩ সাল থেকে নেতৃত্ব দেয়া মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আর সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার কাছেই থেকে যায় মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব।

 

 

তবে এতো বছরেও ওয়ার্ড কমিটিগুলো কেন হলোনা এনিয়ে কেন্দ্রীয় প্রেসার বাড়ে দুজনের উপর। কেন্দ্রের চাপে আর তৃণমূরের ক্ষোভে সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ  সম্পাদক খোকন সাহা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সম্মেলনগুলো করতে নামেন। তবে নিজেদের দ্বন্দ্বে সেগুলো লেজে-গোবরে অবস্থায় রূপ নেয়।

 

 

এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে বাড়ে আরো তীব্র ক্ষোভ। তবে  এসব ছাপিয়ে আবারো আলোচনায় আসে সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার দ্বন্দ্ব নতুন করে। দুইজন আলাদা কর্মসূচি এবং বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যে ত্যক্ত বিরক্ত খোদ কমিটির নেতারা। তৃণমূলও তাদের উপর নাখোশ। এরই পাশে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ডাক পড়েছে কেন্দ্রে বলে জানিয়েছে সূত্র। 

 

 

সূত্র জানিয়েছে, জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা নিয়ে সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলের দ্বন্দ্ব এবং মনগড়া কিছু নামে আবারো নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগ। তার মধ্যে মহানগর আওয়ামীলীগের দৈন্যদশা নিয়ে নির্বাচনের আগে চিন্তিত কেন্দ্র।

 

 

মহানগর আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সম্মেলনগুলোতে কিছু ওয়ার্ডে অজ্ঞাত কারণে সভাপতির নাম আবার কোন ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়নি। আর সিদ্ধিরগঞ্জের কোন ওয়ার্ডে সম্মেলনই করতে পারেনি মহানগর আওয়ামীলীগের নেতারা। কেন্দ্রে যাওয়ার আগে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সূত্র।

 

 

সূত্র জানিয়েছে, যেসব ওয়ার্ডে সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়নি অদ্যবধি সেখানে শুন্যস্থানে নাম বসিয়ে কেন্দ্রে দেখানোর চেষ্টা চলছে। সাধারণ সম্পাদক পদে যেসব ওয়ার্ডে নাম ঘোষণা করা হয়নি সেগুলোও পূরণ করে কেন্দ্রে নিজেদের সাফল্য দেখানোর চেষ্টায় লিপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সম্মেলনে কেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা গেলনা তৃণমূলের এমন প্রশ্নের সদুত্তর এখন অবধি দিতে পারেননি সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক। 

 

 

সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রে যাওয়ার আগে সভাপতিকে বেকায়দায় ফেলতে ারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অর্ন্তভুক্ত ১১নং ওয়ার্ড থেকে ২৭নং ওয়ার্ড পর্যন্ত কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা।

 

 

তিনি ১১ থেকে ২৭ ওয়ার্ডের তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগঠন সুসংগঠিত ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বওে জানান। আগামী ৫ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত বন্দর ও শহর অঞ্চলের ১৭টি এই কর্মী সমাবেশ করবেন বলে ঘোষণা দেন। তাছাড়া সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা সভাপতি আনোয়ার হোসেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে  নিজের পোষ্টার ছাপানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

 

 

তবে কেন্দ্রে যাওয়ার আগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের অমিল ঢাকতেই সম্মেলনে নাম ঘোষণা না করা জায়গাগুলোতে ইচ্ছেমাফিক নাম বসানোর চেষ্টা করছেন বলে জানায় সূত্র। সূত্র জানিয়েছে, ২৬ ও ২৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে প্রথম মহানগর আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

২৬নং ওয়ার্ড সভাপতি মেছবাহউদ্দিনকে ছাড়া অন্য কারো নাম ঘোষণা ছাড়া সম্মেলনের অতিথিরা চলে আসেন। ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে এখানো ঘোষণা হয়নি। সেখানে সেলিম আহম্মেদ হেনা ও কামাল হোসেন প্রার্থী থাকলেও নীরবতা চলছিল। এই ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন।

 

 

১২নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নিয়াজুল ইসলাম খান ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। ১৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এম এ পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির। ১৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম ও সাধারণ সম্পাদক প্রতীক ঘোষাল পাল।  

 

 

১৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে আনিস মাহমুদ ও আব্দুর মন্টু প্রার্থী  থাকলেও নেতা নির্বাচন করা হয়নি। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আসাদউল্লাহ। ১৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কামরুল হাসান মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক কবির হোসাইন। 

 

 

সংশিষ্ট সূত্র বলছে, ১৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলন করেছে মহানগর আওয়ামীলীগ। এরমধ্যে বন্দর অঞ্চলের ১০টি ওয়ার্ডের মদ্যে একটি ওয়ার্ডে শুধু সভাপতির নাম ঘোষণা করতে পেরেছে সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা। সদরের ৬টি ওয়ার্ডে কয়েকটিতে সভাপতি আবার কয়েকটিতে সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করতে পেরেছেন তারা।

 

 

অপরদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ডগুলোতে কোন সম্মেলনই করতে পারেনি তারা। এখানে সাংসদ শামীম ওসমানের দোহাই দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করেছেন তারা। যদিও মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য হিসেবে রয়েছে সাংসদ শামীম ওসমান। তাহলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব কী এ নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলে।

 

 

১৮ মে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কেন্দ্রে তলব করা হয়েছে। সেখানে তারা নিজেদের কী অবস্থান তুলে ধরতে পারেন সেটিই দেখার বিষয় এখন। তবে অবস্থা যে বেগতিক তা ভালোই টের পাচ্ছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।   এন.হুসেইন রনী/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন