# নারায়ণগঞ্জের সব ক’টি আসনে নৌকার দাবিতে এক আ.লীগ নেতৃবৃন্দ
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সূথিকাগার নারায়ণগঞ্জ। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও বিভিন্ন সভায় তাদের বক্তব্যে এই কথা অকপটে বলে থাকেন। এমনকি বঙ্গবন্ধর আত্মজীবনীতেও তদা উল্লেখ্য রয়েছে। এক সময় রাজনীতির শক্তি ঘাটি বলা হত নারায়ণগঞ্জকে।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আবর্তনে রাজনৈতিক দল গুলো তাদের সেই ঐতিহ্য হারাতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জে। কেননা মাস সাতেক আগেও জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন এই নারায়ণগঞ্জ এক সময় আওয়ামী লীগের ঘাটি ছিল। সম্মেলনে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
কিন্তু কে শুনে কার কথা।তাদের মাঝে আরও কোন্দল তৈরী হয়ে আছে। তখন ওই অনুষ্ঠানে এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন আমাদের এখানে আওয়ামী লীগের ঘাটি ছিল তা আর শুনতে চাই না। এখনো আছে তা শুনতে চাই। আমাদের গেন ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই।
সেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ এদিকে স্থানীয় ভাবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ বলতে উত্তর দক্ষিন মেরু দুই কর্ণধারকে বুঝে থাকেন। নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলয়ের নেতা কর্মীদের দক্ষিন মেরু হিবেসে চিনে থাকেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহল। একই ভাবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান অনুসারীদের উত্তর মেরু হিসেবে বলে থাকেন।
এই দুই মেরুর মাঝে স্থানীয় ভাবে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে ব্যপক প্রভাব বিস্তার রয়েছে। তাদের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ একাধিক বার একতা করার চেষ্টা করলেও তা আর হয়ে আর উঠে নাই। তাদেও কোন্দলের প্রভাব জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মাঝেও রয়েছে।
বিশেষ করে জেলা মহানগরে দুই কর্ণধার উত্তর দক্ষিন মেরুর দুই দিকে অবস্থান করছেন। তারা দলীয় কর্মসূচি গুলোও পৃথক ভাবে পালন করছেন। আর এতে করে তাদের মাঝে দলীয় ভাবে দূরত্ব তৈরী হয়ে রয়েছে তা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্রমতে জানাযায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাল এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা সাংসদ শামীম ওসমান ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বলা হয়ে থাকে এই এমপি শামীম ওসমানের আশীর্বাদেই তারা দুজন দলের শীর্ষ পদে এসেছে। অপর দিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে মেয়র আইভী চাচা বলে ডাকেন। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই দুনো মন তিন সব দিক মিল রেখে চলেন।
জানাযায়, সম্প্রতি সময়ে জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আলাদা ভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছেন। বিশেষ করে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল আলাদা ভাবে কেন্দ্র ঘোষিত দলীয় কর্মসূচি পালন কর আসছেন।
জেলা সভাপতি সকালে সভা করলে ভিপি বাদল করেন বিকেলে। গত ২০২১ সনের স্থানীয় নির্বাচনে তাদের একসাথে দেখা গেলেও সম্মেলনের পর থেকে তারা আলাদা হয়ে সভা করছেন। এমনকি শান্তি সমাবেশে একই জায়গায় দুজনকে আলাদা ভাবে পাল্টা পাল্টি সভা করতে দেখা গেছে।
সর্বশেষ গতকাল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জেলার দুই শীর্ষ নেতা আলাদা ভাবে কর্মসূচি পালন করেন। সকাল ১১টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়।
একই ভাবে বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদলের নেতৃত্বে আলোচনা সভা ও শহরে র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। আর এতে করে বুঝা যায় তারা ঐক্যবদ্ধ না হয়ে পৃথক ভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন।
অপর দিকে একই ভাবে মহানগর আওয়ামী লীগের দিকে তাকালেও একই অবস্থা দেখা যায়। এখানকার দুই নেতাও আলাদা ভাবে গতকালকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলাদা ভাবে আলোচনা সভা করেছেন ।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সন্ধার পর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া ও আলোচনা সভা হয়। তার বিপরীতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড খোকন সাহার নেতৃত্বে তার কালিবাজার পুরান কোর্ট এলাকায় কার্যালয়ে দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
তাদের আলাদা ভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন নিয়ে খোদ ক্ষমতাসীন দল থেকে শুরু করে অন্যান্য দলের রাজনীতিবিদদের মাঝে আলোচনা সমালোচনা তৈরী হয়েছে। তাদেরকে যতই ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার জন্য বলা হয় ততোই তাদের মাঝে যেন দূরত্ব তৈরী হয়। এছাড়া তাদের কোন্দলের সুযোগ নিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা নিজের শক্ত অবস্থান তৈরী করতে চান।
কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা এক জায়গায় এসে একমত পোষন করেছেন। আর তা হলো নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে তারা নৌকা চান। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৩ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিতে চান। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা ৫টি আসনে নৌকা চাই।
দলের ভিতরে থেকে যারা আমাদের বদনাম করে তারা আমাদের কেউ না। যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং এমপি শামীম ওসমানের বদনাম করবে তাদেরকে আমাদের দরকার নাই। একই ভাবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইও তার বক্তব্যে দীর্ঘ দিন যাবত নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নৌকার দাবী জানিয়ে আসছেন। সেই সাথে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের মাধ্যমে তারা জেগে উঠতে চান।
উল্লেখ্য, ৪২ বছর আগে ১৯৮১ সনের ১৭ মে এই দিনে দেশে ফেরেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ প্রবাসজীবন কাটিয়ে তাঁর দেশে ফেরার এই দিনটিতে (১৯৮১ সালের ১৭ মে) লাখো মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান।
এর পর থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটিকে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনগুলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশের তুলনায় গতকাল নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এন.হুসেইন রনী /জেসি


