বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে গিয়ে কর্মী সংকটে মামুন মাহমুদ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৩, ১২:৫৪ পিএম
# সাত মাস বিরোধিতা করে বর্তমানে দিশেহারা মামুন মাহমুদ
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে বর্তমানে অনেকটাই স্বচ্ছ রাজনীতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন জেলা বিএনপির রাজনীতি। বিগত দিনে এই সংগঠনের রাজনৈতিক তৎরপতা না থাকায় অনেকটাই আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। আর দফায় দফায় দলীয় সকল কর্মসূচিতে দেখা মিলতো বিশৃঙ্খলার।
তাই সংগঠনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও শক্তিশালী করতে গত বছরের ৯ নভেম্বর সংগঠনের দায়িত্ব গিয়াস-খোকেনের হাতে তুলে দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে পরা সংগঠনটি উঠে দাড়ানো শুরু করে আর বর্তমানে ব্যাপক উজ্জ্বীবিত। কিন্তু সংগঠনকে আবারো বিশৃঙ্খলা করতে উঠে পরে লাগে।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও বর্তমান কমিটির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যপক মামুন মাহমুদ তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সবচেয়ে সমালোচিত ব্যক্তিতে পরিনত হয়েছে। যাকে নিয়ে বিগত দিন এবং বর্তমানে ও বিতর্কের শেষ নেই। বর্তমানে তিনি নানা কৌশলে কমিটির দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দদের গায়েল করার চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু কোন সুবিধা করতে নানা পারায় নিজেই ঝিমিয়ে পরেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা গেছে, ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না মামুন মাহমুদ।
এমনকি বর্তমানে তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে নিস্কীয় হয়ে যাওয়া শুরু করেছেন। আর কিছু দলীয় কর্মসূচি পালনে আলাদা ব্যানারে দেখা গেল ও সেখানে গুটিকয়েকজন নেতাকর্মীই থাকে। যার কারণে তৃণমূলের দাবি, ঠেকানোর কৌশলে হেরে বিতর্কিত মামুন মাহমুদ ঝিমিয়ে পরেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যপক মামুন মাহমুদ নিজেকে নানা সময় ত্যাগী নেতা হিসেবে দাবি করে থাকে। কিন্তু এই মামুনের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ রয়েছে নেতৃবৃন্দ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী এমপির সঙ্গে নানাভাবে আঁতাত করে রাজনীতি করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এর আগের জেলা বিএনপির সদস্য সচিব থাকাকালীন কমিটি বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ উঠে ছিল এই মামুন মাহমুদের বিরুদ্ধে। এছাড়া ও কমিটি বানিজ্যে করেও সংগঠনে শক্তিশালী করার কোন পদক্ষেপই ছিল না তারা। সে থাকাকালীন জেলা বিএনপিতে ছিল নানা অনঐক্য ও বিভেদ যার কারণে দেখা মিলতো বিএনপির দলীয় সকল কর্মসূচিগুলোতে জেলা বিএনপির নানা বিশৃঙ্খলা।
কিন্তু গত বছরের ১৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে এক বিশাল রদ-বদলের দেখা মিলে। কিমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম ফারুক খোকনকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট বুষ্টার আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র।
কিন্তু গিয়াস-খোকন জেলা বিএনপির নেতৃত্বে আসার পর থেকেই মামুন মাহমুদ কোনোভাবেই গিয়াস-খোকনের নেতৃত্ব মেনে নিতে পারছেন না। যার কারণে কমিটি থেকে বিদ্রোহী হয়ে তিনি অনেকটাই ব্যাকফুটে বনে গেছেন। কমিটি গঠনের পর থেকেই দেখা গেছে জেলা বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে তিনি অংশগ্রহণ না করে নিজ ব্যানারে গুটিকয়েক নেতাকর্মী নিয়ে কর্মসূচি পালন করেন।
আবার কিছু কর্মসূচিতে তাকে আলাদাভাবেও কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। যা নিয়ে অনেক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি তা পাত্তা না দিয়ে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন। জেলা বিএনপির নেতা হওয়ার জন্য তিনি গিয়াস উদ্দিনকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। তবে তার এমন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কেন্দ্রীয় বিএনপিও অবগত রয়েছেন।
তার এই ধরনের কর্মকাণ্ডে তিনি যেমন দলচ্যুত হচ্ছেন ঠিক এমনিভাবে জনবিচ্ছিন্নও হয়ে পড়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সর্বশেষ কমিটি হওয়ার পর মামুন মাহমুদ দিশেহারা হয়ে পরেন। যার মুল কারণ হিসেবে নেতাকর্মীদের দাবি, তিনি আর আগের মতো মূল কমিটির দায়িত্ব নিয়ে ছড়ি ঘুরাতে পারবেন না।
আর বিগত দিনের মতো করে বিভিন্ন নেতাকর্মীদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার লালসা দেখিয়ে পদ বানিজ্যে ও করতে পারবেন না। এছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সাথে আতাঁত করে ও কিছু সুফল ভোগ করতে পারবেন না। যার কারণে তিনি বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।
তবে ৭ মাস এই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকেও তিনি কোন সুবিধা ভোগ করতে পারেননি। এমন কর্মকাণ্ডে বিগত দিনে তার যে একটা লোক দেখানো জনপ্রিয়তা ছিল সেটা ও তিনি তার কর্মকান্ডে হারাতে বসেছে। নেতৃবৃন্দরা আরো জানান, কমিটি গঠনের পর জেলা বিএনপির বিদ্রোহী নেতা হিসেবে আলোচনায় আসে এই মামুন মাহমুদ।
কিন্তু জেলা বিএনপির এত সময়ের সদস্য সচিব থাকার কারণে অনেক সংখ্যক নেতাকর্মীই তখন তার হয়ে জেলা বিএনপির মূল কমিটির সাথে বিরুদ্ধতা করে। জানা যায়, রবি- মামুন যখন জেলা বিএনপির দায়িত্বে ছিল তখন তারা সংগঠন গোছাতে অবহেলা করেছেন আর জেলা বৃত্তিক কমিটি ঘোষনায় ব্যর্থতার খাতায় নাম লিখিয়েছেন।
কিন্তু চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের ৪ মাসের মাথায় দফায় দফায় যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা শুরু করে গিয়াস-খোকন আর যার ফলে নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে বিগত দিন থেকে আরো বেশি আন্দোলনমুখী হয়ে উঠে।
বর্তমানে ইউনিয়ন কমিটি নেতৃবৃন্দরা দফায় দফায় তাদের আওতাধীন ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করা শুরু করেছে এমনকি অনেকগুলোর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও শুরু করেছে যার ফলে নিচ থেকে উপর পর্যন্ত দল গোছানো সম্পূর্ন হচ্ছে এবং নেতাকর্মীরা উৎফুল্ল হয়ে বিদ্রোহী মামুন মাহমুদের সঙ্গ ছেড়ে গিয়াসের সাথে জেলা বিএনপির ব্যানারের সাথে যুক্ত হচ্ছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, একই কমিটির হওয়ার পরে ও বর্তমানে একঘরে হয়ে গেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবং বর্তমান আহবায়ক কমিটির প্রথম যুগ্ম আহবায়ক মামুন মাহমুদ। আহবায়ক কমিটি গঠন হওয়ার পর থেকে তিনি কোনো সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করার সুযোগ পাননি।
জেলা বিএনপির আহবায়ক মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন হওয়ার পর থেকেই বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়।আগে তার সঙ্গে অনেক নেতাকর্মীর দেখা মিললেও এখন গুটিকয়েক নেতাকর্মী ছাড়া নেই বললেই চলে। তৃণমূল বলছে, গিয়াসউদ্দিন ও সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন কে ঠেকাতে নানা কৌশলে উঠে পরে লেগেও সুবিধা করতে না পেরে নিজেই কর্মী সংকটে ভুগছে।
আর মামুন মাহমুদ সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে জেলার শীর্ষ নেতা হয়েও কর্মীদের মূল্যায়ন করতে পারেনেই যেটা গিয়াস খোকন প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। তাই নেতাকর্মীরা বলছে নানা চক্রান্ত করেও এই গিয়াস উদ্দিন ও গোলাম ফারুক খোকন এর জনপ্রিয়তা কমাতে পারবে না এই বিতর্কিত নেতা মামুন মাহমুদ। এন.হুসেইন রনী /জেসি


