# ক্ষমতা থেকে এদের নামাতে হবে : গিয়াস উদ্দিন
# নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা করতে হবে : সাখাওয়াত
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় এবং সরকার পতনের লক্ষ্য নিয়ে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করতে চাইছে বিএনপি। একই সাথে দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাসের দাম, তেলের সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের মুল্য বাড়ানোর প্রতিবাদে একের পর এক বিক্ষোভ সভা করে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি। সেই সাথে নতুন করে তৃণমূল থেকে আবার আন্দোলনের নতুন ঢেউ তুলতে চাইছেন দলটির নেতারা। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯ মে শুক্রবার চাষাঢ়া শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি ১০ দফা দাবী বাস্তবায়নে বিক্ষোভ সভা করেন। এই সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ঝাঁজালো বক্তব্য রাখেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে ব্যাপক ভুমিকা রেখে যাচ্ছেন। সেই সাথে তারা দলীয় ভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করে নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কেননা ইতোমধ্যে জেলা বিএনপি তাদের অধীনস্থ্য ইউনিটের বেশির ভাগ কমিটি ঘোষনা করেছেন। তাই আবার পুর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা হয়েছে। তাদের বিপরীতে থেমে নেই মহানগর বিএনপি। মহানগর বিএনপি বন্দর, সদর কমিটি ঘোষনা করে এখন সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগরের ওয়ার্ডের সম্মেলন করে যাচ্ছে। খুব দ্রুত তারা মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে ২১ মে রোববার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর লালমনিরহাট জেলা বিএনপি’র এক জনসভায় বলেছেন, আর দশ দফা নয়, এখন এক দফা শেখ হাসিনার পদত্যাগ। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে নতুন কমিশন গঠন করে নির্বাচন দিতে হবে। এছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। বিএনপির এই নেতার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি এই আন্দোলনে নতুন ঢেউ তুলতে চায়। দলীয় সুত্রমতে মাঠ পর্যায়ে শক্তি বাড়িয়ে চলমান আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি মাঠে নেমে নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে যাচ্ছেন।
শুক্রবার নারায়ণগঞ্জে এসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে বলেন, আমরা শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন চাই। সময় আছে দেশের মানুষের মুখের ভাষা ও প্রতিবাদকে বোঝার চেষ্টা করুন তা না হলে কিন্তু পলানোর সুযোগ পাবেন না। আপনারা কীভাবে পালাবেন চিন্তাভাবনা করেছেন। যদি আপোষে যান তাহলে যেতে পারেন। জোর করে যদি নামাই তাহলে কিন্তু পালাতে পারবেন না। আমরা না এদেশের জনগণ আপনাদের বিচারের পাল্লায় তুলবে। সম্প্রতি সরকার বিএনপির কয়েক হাজার নেতা কর্মীর জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন। নারায়ণগঞ্জেরও অনেক নেতা কারাগারে আছে। আমরা জেল থেকে তাদের মুক্ত করবো। আগামী দিনের আন্দোলনের জন্য নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে আন্দোলন করতে হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন বিক্ষোভ সভায় বলেন, এই দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পদ না। যেকোন মূল্যে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আমরা কাজ করে যাবো। আমরা ভোটাধিকারের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করছি। যদি নির্বাচন হয় জনগণ ভোট দেয় তাহলে তারা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই তারা আবারও জনগণের অধিকার খর্ব করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু তা আর হতে দেয়া হবে না। আন্দোলনের ঢেউ তুলে তাদেরকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা একটা কথা বলতে চাই। আর তা হলো ২০১৪-১৮ সালের মতো নির্বাচনের কথা চিন্তা করেও কল্পনা করে নিজেদের ঘুম হারাম কইরেন না। বাংলার মাটিতে ২০১৪-১৮সালের মতো নির্বাচন আর কোনদিন হবে না। কারন শেখ হাসিনার অধীনে আর কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে। নিরপেক্ষ নির্দলীয় ত্বত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা করতে হবে। যদি দেশের মানুষ আপনাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে তাহলে আমাদের কোন আপত্তি থাকবে না।
এস.এ/জেসি


