# নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও ভোটের প্রস্তুতি নেই শামীম ওসমানের
দেশে আর মাত্র পাঁচ ছয় মাস পরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করবে নির্বাচন কমিশন। বছর শেষেই নির্বাচন। এবারও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একেএম শামীম ওসমান। আপাতত এই আসনে তার বিকল্প কাউকে দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু মজার বিষয় হলো এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখেও শামীম ওসমানের কোনো প্রস্তুতি নেই। কম পক্ষে জনগনের জন্য শামীম ওসমানের কোনো দায়বদ্ধতা নেই বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে। তিনি বিদেশে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এলেন। আরামে দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি।
কিন্তু তার নির্বাচনী এলাকা ফতুল্লায় কোনো উন্নয়ন করছেন না শামীম ওসমান। তিনি বিগত নির্বাচনে এমপি হওয়ার পর বিগত সাড়ে চার বছরে তেমন কোনো উন্নয়ন করেননি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই এমপি। তাকে যদি প্রশ্ন করা হয় আপনি এমপি হওয়ার পর আপনার নির্বাচনী এলাকায় কি উন্নয়ন করেছেন। তখন রাস্তাঘাটের কিছু রুটিন কাজ ছাড়া আর কোনো উন্নয়নের কথা বলতে পারবেন না তিনি। বরং সামান্য বৃষ্টি হলেও এখন বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় ফতুল্লার বিশাল এলাকা।
জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি কোনো কাজ করেছেন এমনটা বলতে পারবেন না। এক কথায় গোটা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন জুড়ে উন্নয়নে শামীম ওসমানের কোনো ভূমিকা নেই বলেই মনে করেন এই আসনের সাধারণ মানুষ। তাই সাধারণ মানুষ মনে করেন যেহেতু নির্বাচনে জিততে শামীম ওসমানের কারো কোনো ভোটের দরকার পরেনা তাই তিনি কোনো উন্নয়নও করেন না। তার যদি এমপি হতে ভোট লাগতো তাহলে নিশ্চয়ই তিনি জনগণের মন জোগাতে চেষ্ঠা করতেন।
তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় এই থানায় ব্যাপক উন্নয়ন করে চলেছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী। জনগন মনে করেন আইভীকে সরাসরি তাদের ভোটে নির্বাচিত হতে হয় বলেই তিনি জনগনের জন্য কাজ করেন। আর এ কারনেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের দুটি থানা এলাকায় উন্নয়নের এতো পার্থক্য। আইভীকে জনগনের জন্য উন্নয়ন করেই ভোটে জিততে হয়। তাই পাঁচ বছর পর পর জনগনের কাছে জাবাবদিহীতা করতে হয় তাকে। কিন্তু শামীম ওসমানকে সেটা করতে হয় না।
এদিকে ফতুল্লা থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান তারা তাদের এমপি শামীম ওসমানের আচরনে একেবারেই হতাশ। তারা মনে করেন, চলে যাচ্ছে আরো পাঁচটি বছর। কিন্তু শামীম ওসমান তাদের জন্য কিছুই করলেন না। বরং আরো একটি ভোটারবিহীন নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। শামীম ওসমান হয়তো আরো একটি কারচুপির নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। তাই তিনি ভোটারদের জন্য কিছু করা জরুরী মনে করছেন না।
তবে অনেকে আবার মনে করেন আগামী নির্বাচনে বিএনপি না এলেও সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারে। আর সেই ক্ষেত্রে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখে পরতে পারেন শামীম ওসমান। আর সেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা হতে পারে চরমোনাই পীরের ইসলাম আন্দোলনের কোনো প্রার্থী বা জাতীয় পার্টির কোনো প্রর্থীর সাথে। এর ফলে এলাকার উন্নয়নে শামীম ওসমান কিছু না করায় তিনি এদের সাথেও হেরে যেতে পারেন।
অপরদিকে বিএনপি সারা দেশে একটি ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। আর এই আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে আসতে পারে। ফলে ফতুল্লা থানা এলাকা বিএনপির ঘাটি হওয়ায় তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পারে বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে উন্নয়নবঞ্চিত ফতুল্লাবাসী শামীম ওসমানের হাত থেকে তাদের এলাকাকে বাঁচাতে আন্দোলনে শরীক হতে পারেন। তাই আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী দিনগুলিতে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এখনই সেটা বলা যাচ্ছে না।
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা রকম মতামত প্রকাশ করছেন বিভিন্ন পর্যায়ের সাধারণ জনগণ। কিন্তু শামীম ওসমানের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন অধিকাংশ মানুষ। তাই নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হয় তাহলে তিনি জয়ী হতে পারবে না বলেই অনেকে মতামত ব্যক্ত করছেন।
এস.এ/জেসি


