মহানগর বিএনপির পদযাত্রায় চার দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৩, ০৭:২৬ পিএম
# সংঘর্ষে ১০ জন আহত, নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পদযাত্রায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সামনেই জেলা যুবদল, মহানগর যুবদল, মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে মারাত্মকভাবে আহত করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চার বাহিনীর তিনজন গুরুতর জখম ও সাতজনসহ সর্বমোট ১০জন নেতাকর্মী আহতের ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, আজকের সভাস্থলে বিএনপি পদযাত্রার নামে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খেলা খেলেছে। এক প্রোগ্রামেই চার দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে বর্তমানে নেতাকর্মীদের মাঝে নানা ক্ষোভ বিরাজমান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল ২৩ মে চাষাড়া খানপুর হাসপাতাল রোডে কেন্দ্রে ঘোষিত মহানগর বিএনপির পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এই পদযাত্রায় বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা, সংঘর্ষ ও আহতের ঘটনা ও ঘটে। জানা গেছে, প্রথমে যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফের নেতাকর্মীরা সভাস্থলে মিছিল নিয়ে সামনে আসলে মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদ তাদের ধাক্কা দিয়ে সামনে দিকে সরিয়ে দেয় তা নিয়ে শাহেদ ও জোসেফের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এই সময়ে মহানগর ছাত্রদল মিছিল নিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হলেই শাহেদ সাথে কথাকাটি থেকে তারা চাড়াও হয়ে উঠে।
পরবর্তীতে জোসেফের লোকজন ও চড়াও হয় এক পর্যায়ে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পরে এতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সৃষ্টি হয় এতে যুবদল নেতা শাহেদের নিজস্ব লোকজনসহ চড়াও হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এতে কিছুসংখ্যক নেতাকর্মী আহত হয় ও প্রায় ২০/২৫ জন নেতাকর্মীর ফোন সভাস্থল থেকেই হারিয়ে যায়। এমতাবস্থায় পদযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কিন্তু তাকে উপেক্ষা না করেই পরিস্থিতির কোন উন্নতি ঘটে না আরো চরম আকারে পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
পরবর্তীতে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত ও সদস্য সচিব টিপু কোন মাইকে সবাইকে চুপ থাকতে বললে পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা হয়। একই সময়ে সাথে সাথেই রিজভীর পাশে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও আড়াইহাজার থানা বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান সুমনের লোকজনদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ঘটে। তখন সুমনের পক্ষে যুবদলের জেলার সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির লোকজন মিলে আজাদের লোকজনদের উপর চড়াও হলে শুরু হয় ফের মারামারি।
প্রধান অতিথি রুহুল কবির রিজভী মাইক হাতে নিয়ে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে মশিউর রহমান রনি মিছিলে মাধ্যমে তার নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে সভাস্থল থেকে একটু সামনের দিকে যায়। এমতাবস্থায় নেতাকর্মীরা মশিউর রহমান রনির আদেশ অমান্য করে আবার ও আজাদের নেতাকর্মীদের উপর ঝাঁপিয়ে পরে। এতে আরেক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কোন নেতাকর্মীই সভাস্থলে তাদের মূল্যবান বক্তব্য দেওয়া থেকে বঞ্চিত হন।
এ সময় ঘটনায়স্থলে উপস্থিত থাকা পদযাত্রার প্রধান অতিথি রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্য বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের নগর হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ। এখানে অনেক অন্যায় হয়েছে সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করে কে সবচেয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল বিএনপি। আমরা সকল নেতাকর্মী সকলে ঐক্যবদ্ধ। আমাদের আরো দূরবার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পরতে হবে। আর আজকে মহানগর বিএনপির যে পদযাত্রা এটা আমরা শন্তিপূর্ণভাবে পালন করবো। সকল সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা থাকবেন সামনের দিকে আর তাদের পিছনে প্রত্যেকে শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা দাঁড়াবেন। কেউ ঝগড়া জাটি করবেন না। আজকের এখানে যে সংঘর্ষ হলো এখানে আমি অনেককে দেখেছি চিনেছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সকল নেতাকর্মীদের হুশিয়ারি দিয়ে যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয় সংঘর্ষধারী নেতাকর্মীরা যে যার যার মতো করে ক্ষোভ নিয়ে শহরের খানপুর থেকে মিছিলের নিয়ে প্রেসক্লাব পর্যন্ত যান পরে সভাপতি বক্তব্য দিয়ে পদযাত্রা কর্মসূচি শেষ করেন। পরবর্তীতে সকল নেতাকর্মীরা মিশনপাড়া বৈশাখী রেস্তোরার সামনে চলে আসে। এতে মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দেওয়া কঠিন হুঁশিয়ারির পরে ও আরেক দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। জানা গেছে, সভাস্থলে থাকা সেই ক্ষোভকে কেন্দ্র করে আড়াইহাজার বিএনপি নেতা সুমনের পক্ষে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির লোকজন মিলে নজরুল ইসলাম আজাদের লোকজনদের উপর চড়াও হলে শুরু হয় ফের মারামারি।
এ পর্যায়ে রনির লোকদের হাতে দেখা মিলে লোহার লাঠি তা দিয়ে এলো পাথারী তারা আজাদের নেতাকর্মীদের উপর আঘাত করা শুরু করে। এতে দুই পক্ষের কিছু সংখ্যক লোক আহত হয়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হয় জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। যা দেখে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব তার লোকজনদের নিয়ে রনিকে আক্রমন করে তখন আরেক দফা সংঘর্ষ হয় ও মশিউর রহমান রনি দৌঁড়ে গাড়িতে উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ও তার নিজস্ব নেতাকর্মীরা ও দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।
এ সময় মহানগর যুবদলের নেতকর্মী, মহানগর বিএনপির নেতাকর্মী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীবসহ সকলে একত্রিত হয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসনকে বলে মশিউর রহমান রনি যাতে মহানগর বিএনপির কোন অনুষ্ঠানে আর আসতে না পারে। এই বলে সকল নেতাকর্মী ক্ষিপ্ত অবস্থায় খানপুর হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। এই সময় জেলা ছাত্রদল নেতা আতাই রাব্বিকে দেখে চড়াও হয়ে পরে রাজীব ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাকে মশিউর রহমান রনির লোক বলে আখ্যা দিয়ে মারতে চেষ্টা করে তখন সকলে বাধা দেয়। তখনই রাজীব তাকে রাব্বি বলে ডাক দিয়ে নেতাকর্মীদের ইশারা দিয়ে দেয় তখনই সকল নেতাকর্মী তাকে এলোপাথারী মারধর শুরু করে।
এতে তার নিজস্ব লোক চলে আসলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত রাব্বিকে খানপুর গেইট পর্যন্ত দিয়ে আসে আর সে সেখান থেকে চলে যায়। এ নিয়ে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা সকল নেতাকর্মীই বলছে, বর্তমানে বিএনপির দূর সময়ে নিজেরা নিজেরাই সংঘর্ষ করে একটি হাস্যকর গল্প সৃষ্টি করছে। আর বর্তমানে জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির সকল প্রোগ্রামেই এমন সংঘর্ষের ঘটনা দেখা যায়। যা নিয়ে বর্তমানে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এস.এ/জেসি


