দোষ চাপাতে বিএনপি নিজেরাই মারামারি করছে শামীম ওসমানের দাবি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৩, ০৮:০৭ পিএম
# শয়তান কখনো আল্লাহর রহমতের সাথে পারে না
সারাদেশের তুলনায় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন আওয়ামী লীগ বিএনপিতে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ নিয়ে উত্তেজনা চলছে। একই সাথে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে এই দুই দলের নেতাদের বক্তব্যের রাজনীতির মাঠ জমে উঠেছে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য মাঠে নেমে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি। তাদের বিপরীতে বিএনপিকে প্রতিহত করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা মহাগর আওয়ামী লীগও কোন অংশে পিছিয়ে নেই।
তারাও প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে রাজপথে রয়েছেন।এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ মহাগর বিএনপি ১০ দফা দাবী বাস্তবায়নের জন্য শহরের রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এসময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে পদযাত্রার আগে খানপুরে প্রথমে আলোচনা সভা হয়। এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজবির উপস্থিতিতে হট্রগোল তৈরী হয়। এমনকি হাতাহাতি পর্যন্ত হয়।
পরে পদযাত্রা শেষে জেলা বিএনপি নেতা মাসুকুল ইসলাম রাজিব এবং জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সমর্থকদের মাঝে পাল্টাপাল্টি হামলায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। তার আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহল কবির রিজবির সামনে হাতা হাতির ঘটনা ঘটে আজাদ এবং সুমনের সমর্থকদের মাঝে। তখন এই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাও বিরক্তি প্রকাশ করে।
অপরদিকে মহানগর বিএনপির পদযাত্রায় মারামারির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করে মন্তব্য করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি মঙ্গলবার রাতে জালকুড়ি এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিএনপির মধ্যে কোন শৃঙ্খলা নেই। কেন্দ্রীয় নেতার সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপি বিএনপি মারামারি করছে।
নারায়ণগঞ্জে আমি দেখলাম (বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচীতে) একজনকে মারতে মারতে রাস্তায় ফেলে রেখেছে। আর যদি মারা যেত তাহলে বলতো আওয়ামী লীগ মারছে। যে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয় সেই দলের মধ্যে এর থেকে ভালো কিছু আমরা আশা করতে পারি না। আওয়ামী লীগের উপর দোষ চাপাতে বিএনপি নিজেরাই মারামারি করছে।
শামীম ওসমান আরও বলেন, ওরা যা করে আমরা যদি তাই করি তাহলে শয়তানের সাথে আমাদের পার্থক্যটা কি। শয়তান শয়তানি করবে। শয়তান কখনো আল্লাহর রহমতের সাথে পারে না। সুতরাং আমি বিশ্বাস করি ওদের শয়তানি বেশিদিন টিকবে না। যারা আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারে গণতন্ত্রের কথা বলে তারা গণতন্ত্র দিয়ে কি করবে। তাদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা উচিতও না। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদেরকে কোন গণতান্ত্রিক দল হিসেবে মনে করি না।
যারা ক্ষমতায় থেকে একুশে আগস্টের মতন বোমা হামলা করে তারা যাই হোক গণতান্ত্রিক দল হতে পারে না। আমরা একটা কথাই বলতে চাই জনগণ বুঝতে পারে এ ধরনের কোনো বক্তব্যে ভদ্র লোক ভালো মানুষ গ্রহণ করে না। তারা বাংলাদেশ একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। বাহিরের দেশ থেকে টাকা আসছে। তারা দেশটিকে পিছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। তারা দেশটাকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে চায়।
পাকিস্তান যেভাবে ব্যর্থ রাষ্ট্র হয়েছে বাংলাদেশকে তারা সেদিকে নিয়ে যেতে চায়। তবে আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের মানুষ বর্তমান ইয়ং জেনারেশন অনেক সচেতন। আল্লাহর রহমতে তারা কিছুই করতে পারবে না। আগামী নির্বাচন সঠিক সময়ে হবেই। আমার বিশ্বাস এ আল্লাহর ঘর মসজিদে দাঁড়িয়ে দৃঢ়তার সাথে বলছি শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবে।
এছাড়া তার আগে মহানগর বিএনপির পদযাত্রায় এসে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজবি তার বক্তব্যে বলেন, নারায়ণগঞ্জে অনেক অনিয়ম হয়। এই জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ করে বিএনপি। এখানে নিষ্পাপ শিশু ত্বকীকে জীবন দিতে হয়েছে। শীতলক্ষ্যায় সাতটি লাশ ভেসে উঠেছে। এগুলো কাদের কাজ আমরা সবাই জানি। সুতরাং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পরতে হবে। আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব, নির্বাচন ফিরিয়ে আনবো। এটাই আমাদের অঙ্গীকার।
রাজনীতি বিদদের মাঝে আওয়ামী লীগ বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ বক্তব্য নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বলছেন যেই দলের নেতা কর্মীরা নিজেরা নিজেরাই মারা মারিরে লিপ্ত তাদের কাছে কি শিখবে। এছাড়া বিএনপি নেতা নেতদারা বলছেন সরকারি দল প্রশাসনের উপর ভর করে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। তাদের এই পাল্টা পাল্টি মন্তব্যে জেলার রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা তৈরী হয়েছে। তা নিয়ে এখন সাংসদ শামীম ওসমান পর্যন্ত সমালোচনা করে মন্তব্য করছেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি পদযাত্রার নামে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খেলা খেলেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে। এক প্রোগ্রামেই চার দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে বর্তমানে নেতাকর্মীদের মাঝে নানা ক্ষোভ বিরাজমান রয়েছে। জানা গেছে, প্রথমে যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফের নেতাকর্মীরা সভাস্থলে মিছিল নিয়ে সামনে আসলে মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদ তাদের ধাক্কা দিয়ে সামনে দিকে সরিয়ে দেয় তা নিয়ে শাহেদ ও জোসেফের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
পরে পদযাত্রা শেষে সভাস্থলে থাকা সেই ক্ষোভকে কেন্দ্র করে আড়াইহাজার বিএনপি নেতা সুমনের পক্ষে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির এবং নজরুল ইসলাম আজাদের পক্ষে জেলা বিএনপি নেতা রাজিবের সমর্থকদের মাঝে ফের মারামারি ঘটনা ঘটে। তাদের এমন কর্মকান্ড নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতারাও বিব্রত বোধ করেন। যার সুযোগকে সমালোচনা করতে ছাড় দেন নাই আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমান। তিনিও এখন তাদের মারামারির ঘটনা নিয়ে বিব্রত বোধ করেন।এস.এ/জেসি


