Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘বজলুর জায়গা’ নিতে ভোটের মাঠে ১৬ প্রার্থী

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৩, ০৯:১০ পিএম

‘বজলুর জায়গা’ নিতে ভোটের মাঠে ১৬ প্রার্থী
Swapno

 

# চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকাকে একটি স্মার্ট এলাকা হিসেবে দেখতে চায় প্রশাসন

 

 

বুয়েটছাত্র ফারদিন নূর পরশের মৃত্যুর পর দেশব্যাপী আলোচনা উঠে আসা চনপাড়া পুনর্বাসন প্রকল্প এলাকাটি স্থানীয়ভাবে চনপাড়া বস্তি নামেই পরিচিত। ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই চনপাড়া বস্তি নিয়ে গড়ে উঠেছে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ ওয়ার্ড। তিন দিকে নদী পরিবেষ্টিত এই ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য ছিলেন ‘চনপাড়ার ডন’ হিসেবে কুখ্যাত বজলুর রহমান। তার নেতৃত্বে চনপাড়া ঘিরে গড়ে উঠেছিল অপরাধ ও মাদকের অন্ধকার এক সাম্রাজ্য।

 

বজলুর মৃত্যুর পর সেই সাম্রাজ্যের দখল নিতে উঠে পড়ে লেগেছে তার অনুসারীসহ স্থানীয় একাধিক সন্ত্রাসী চক্র। চক্রের সদস্যরা চনপাড়ার অপরাধ জগতের পাশাপাশি বজলুর মৃত্যুতে খালি হওয়া ইউপি সদস্যের পদটি দখলে নিতে নানা তৎপরতা শুরু করেছে। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে চনপাড়া, বাড়ছে হানাহানি। বজলুর অবর্তমানে চনপাড়া থেকে অপরাধ ও মাদকের দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশা করছিলেন যারা নতুন করে শঙ্কায় দিশেহারা এখন তারা।

 

স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, মাদক ও অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তারের হয়ে কারাবন্দি বজলু গত ৩১ মার্চ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে শূণ্য হওয়া ইউপি সদস্য পদে উপ-নির্বাচন হবে আগামী ১২ জুন। এ উপ-নির্বাচনে ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থীরা হলেন, সমসের আলী খান, জয়নাল আবেদীন, মো. শাহাবুদ্দিন, রবিন, ইব্রাহিম মোল্লা, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খলিলুর রহমান, মো. নূর আলম, জহিরুল ইসলাম, আবিদ হাসান চাঁন মিয়া, মো. ইব্রাহিম, শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. নুরুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, মো. আল আমিন ও মো. বাবুল।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বজলুর মৃত্যুর খবর চনপাড়ায় এসে পৌঁছাতেই তার অনুসারী এবং বিরোধীপক্ষসহ অন্যরা স্থানীয় অপরাধের সাম্রাজ্যের দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বজলুর মতো জনপ্রতিনিধি পরিচয়ের আড়ালে অপকর্ম চালানোর জন্য তাদের লক্ষ্য এখন ইউপি সদস্যের পদ দখল করা। তাই ইউপি সদস্য পদের উপ-নির্বাচন ঘিরেই পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে উঠেছে। যারা এ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তারা প্রত্যেকেই নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক কারবারসহ ভয়াবহ সব অপরাধের দায়ে একাধিক মামলাও রয়েছে।

 

উপ-নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক চনপাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, এরা কেউ জনসেবার জন্য প্রার্থী হয়নি, তা তো বোঝাই যায়। এদের মূল উদ্দেশ্য বজলুর জায়গায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। মানে এরা নতুন ইউপি সদস্য না, ‘চনপাড়ার নতুন ডন’ হওয়ার জন্য ভোটের মাঠে নেমেছেন। একাধিক মামলার আসামিরাও প্রার্থী হয়েছেন। এমন লোকজনের মনোনয়নপত্র কীভাবে বৈধ ঘোষিত হয়েছে তাও অনেকের মাথায় ঢুকছে না। এমন প্রার্থীদের কারণে ইউপি সদস্যের উপনির্বাচন ঘিরেও স্থানীয় পরিস্থিতি অশান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাসিন্দারা আতঙ্কে আছেন। আতঙ্কে নিজের নাম প্রকাশ করে কিছু বলতে রাজি নননি কেউ।

 

স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বজলুর মৃত্যুর পর বেশ কয়েকটি গ্রুপ চনপাড়ার দখল নিতে পায়তারা শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জয়নাল গ্রুপ, ইয়াছমীর গ্রুপ, সমসের গ্রুপ, সাহাবুদ্দিন গ্রুপ, রায়হান গ্রুপ, রবিন গ্রুপ, শাওন গ্রুপ ও দাত ভাঙ্গা রাব্বি গ্রুপ। এসব গ্রুপের মধ্যে কয়েকটির সদস্যরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের সমর্থন ও আশীর্বাদপুষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রয়াত ডন বজলুও সংসদ সদস্যের প্রশয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। বজলুর মৃত্যুর পর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এসব গ্রুপের মধ্যে গত দুই মাসে অন্তত ৫ দফা গোলাগুলি এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ১৩ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ৮০ জন। আসন্ন উপ-নির্বাচনে নিজেদের শক্তির জানান দিতেই সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৩ মে মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। মনোনয়পত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ২৭ মে। ১২ জুন অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সামনে রেখে চনপাড়ায় প্রাণহানিসহ বড় সংঘাতের আশঙ্কায় আছেন স্থানীয়রা। গত ২১ মে বিকেলে চনপাড়ায় এলাকায় বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এ নিয়েও আলোচনা হয়। সংঘর্ষ-সংঘাতে জড়িতদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে ওই সভায় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে চনপাড়ায় একটা টুঁ শব্দও হবে না।

 

৫০ থেকে ১০০ জন মানুষের আচরণের কারণে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার এত বদনাম। অনেক মাদকসম্রাগীর নাম শুনেছি। তাদের ছবিসহ আমাদের কাছে তালিকার রয়েছে এবং কারা কি করছেন রেকর্ড নিচ্ছি। এই উপনির্বাচনে ভোট নিয়ে ভয়-ভীতি বা জোরাজুরি করলে তাদের সাথে জেলখানায় দেখা হবে। নির্বাচনে প্রার্থীদের ১৬ জনের মধ্যে কয়জন জেলখানায় থাকবেন তা আমি জানিনা। কেউ যদি কোন ধরনের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন বা কাউকে হুমকি দেন তাহলে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া এই চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকাকে একটি স্মার্ট এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাই নতুন প্রজন্মকেও স্মার্ট হতে হবে। নির্বাচনে কোন প্রকার প্রভাবিত করার কথা যদি ভেবে থাকেন তাহলে ভুল করবেন, আমরা তাৎক্ষণিক এখানে উপস্থিত হয়ে যাব।এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন