বিশৃঙ্খলায় কর্মীদের সামলাতে ব্যর্থতার প্রমাণ দিচ্ছেন নেতারা
লিমন দেওয়ান
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৩, ০৩:৩৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা বর্তমানে বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছেন দিন দিন নানা বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনার সমালোচনার সৃষ্টি দিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, প্রতিটি কর্মসূচিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন।
আবার কেউ কেউ পূর্ব শত্রুতার জেড় ধরে ও আরেক নেতার চোখে বড় হওয়া নিয়ে দফায় দফায় নিজেরা নিজেরাই্ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ করছে। আবার অনেকে উচ্চ পর্যায়ের নেতারা ও দলের বিশৃঙ্খলা চেষ্টা লেলিয়ে দিচ্ছে নিজ নেতাকর্মীদের। যা নিয়ে বর্তমানে চিন্তিত হয়ে পরেছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
নিজেদের মধ্যে এমন সংঘর্ষ, মারামারি ঘটনার ফলে কর্মসূচিসহ নানা দলীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। আর সকল কর্মকাণ্ডে নেতাকর্মীদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করা নিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা হিমশিম খাচ্ছে ও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। ইতিমধ্যে ১ সপ্তাহের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কর্মসূচিগুলোতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসেছিলেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও মহানগর বিএনপির পদযাত্রায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তারা উভয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দদের তুলোধুনো ও নানাভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে এসব নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপই করে না বিএনপির কর্মী ও সমর্থকরা বরং বিশৃঙ্খলা চলা অবস্থায় নেতৃবৃন্দেরকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।
নেতৃবৃন্দরা বলছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সর্ব সময় বলে থাকে বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামে বিশৃঙ্খলা করে থাকে। তাদের কথাই সঠিক প্রমান দিতে যেমন উঠে পরে লেগেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আন্দোলনমুখী অবস্থায় রয়েছে বিএনপির। কিন্তু কয়েকজন নেতাকর্মীদের বিশৃঙ্খলা কারণে যে কোন সময় আবারো ঝিমিয়ে পরছে পারে বিএনপির রাজনীতি। জানা গেছে, বিএনপির সকল কর্মসূচিতে ছোট হোক বা বড় সংঘর্ষের কোন না কোন ঘটনা রয়েই যায়।
গত বছর বিএনপির মাঠে নামার পর থেকেই যেমন পূর্ব শত্রুতা ও নিজেদের মধ্যে কোন্দল নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ করে যাচ্ছে নিজেরা নিজেরাই। প্রসঙ্গত ১ এপ্রিল বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের অনুসারীরা নিজেরা নিজেরাই দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায়।
সে ঘটনায় অতন্ত ৫/৭ জন নেতাকর্মী আহতের ঘটনা ঘটে। কিন্তু সে সময় ও জেলা বিএনপির কোন নেতাকর্মীকে এগিয়ে এসে সংঘর্ষের কোন মিমাংসা করতে দেখা যায়নি। পরবর্তীতে বিএনপির আরো যে পোগ্রাম হয়েছে সকল পোগ্রামেই কিছু না কিছু বিশৃঙ্খলা দেখা গেছেই।
১৯ মে বিএনপির জন সমাবেশে রূগগঞ্জের কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর সমর্থকরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পরে। আর চেয়ার ও লাঠিসোটা নিয়ে নিজেরাই নিজেরাই মারামারি করে আবার অপর দিকে আড়াইজারের আজাদের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে তা নিয়ে সে সময়ে ও বিএনপির নেতাকর্মীদের আপোষ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।
এমনকি সেই সমাবেশে দেখা গেছে দফায় দফায় বিশৃঙ্খলার যার কারণে জনসমাবেশের প্রধান অতিথি মির্জা আব্বাস সে সময় মঞ্চ থেকে বেড়িয়ে ও যেতে চেয়েছিলেন বক্তব্যে না দিয়ে। তা নিয়ে ও নানা আলোচনা উঠেছে বিএনপির রাজনীতিতে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৩ মে) ছিল কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী মহানগর বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি।
এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এদিনও রক্তক্ষয়ী বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা। এদিন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে শহরের খানপুরে হাসপাতাল রোডে কয়েক দফা মারামারির পর পদযাত্রা শেষ করে ফের শহরের মিশনপাড়া এলাকায়ও মারামারির ঘটনা ঘটে। নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, সভা শুরুতেই যুবদল নেতা মাজহারুল ইসলাম জোসেফ মিছিল নিয়ে প্রবেশের সাথে সাথেই মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদের লোকজনদের সঙ্গে বাকবিতা ঘটে।
শাহেদ আহমেদের উপর চড়াও হয় জোসেফের লোকজন। পরে মহানগর ছাত্রদলের মিছিল আসার সাথেই সাথেই নেতাকর্মী আরো বৃদ্ধি পায়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি -মারামারি শুরু হয়। ওই সময়ে বিএনপির জেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীসহ আরো বেশ নেতাকর্মী মিলিয়ে ২৫/৩০টি মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটলে দোষ পড়ে জোসেফের সঙ্গে থাকা লোকজনদেও উপর।
এদিকে, গত ১৫ নভেম্বর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই আহবায়ক কমিটি গঠন হওয়ার পর প্রথম কর্মসূচিতে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেছিলেন, সামনে দাঁড়ানো নিয়ে কিংবা বিভিন্ন নেতার নামে স্লোগান দেওয়া নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোনো বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করবেন না। সিনিয়র নেতৃবৃন্দের প্রতি সম্মান দেখাবেন এবং তাদের নির্দেশনা মেনে চলবেন।
এই মুহূর্তে নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি না করে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। তার এই ধরনের বক্তব্যেকে কোন মর্যাদা না রেখে রুহুল কবির রিজভীর পাশে দাঁড়ানো নিয়ে বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ ও আড়াইহাজার থানা বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান সুমনের লোকজনদের মধ্যে বাকবিত-া ঘটে।
তখন সুমনের পক্ষে যুবদলের জেলার সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির লোকজন মিলে আজাদের লোকজনদের উপর চড়াও হলে শুরু হয় ফের মারামারি। প্রধান অতিথি রুহুল কবির রিজভী মাইক হাতে নিয়ে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এই কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে কোনো ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি।
পরর্তীতে পদযাত্রা শেষ হতেই মিশন পাড়া এলাকায় সেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুমনের হয়ে রনি ও আজাদের হয়ে রাজীব বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে প্রায় ১০জন নেতাকর্মীর আহতের ঘটনা ঘটে। কিন্তু সকল সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বলতে দেখা যায়। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে।
দিন শেষে তারাই আন্দোলন সংগ্রামের নামে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরছে। তা নিয়ে বর্তমানে চিন্তিত হয়ে পড়েছে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সকলেই বলছে, এই চূড়ান্ত বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐবক্যবদ্ধ হওয়া ধরকার তা না করে তারা নিজেরাই নিজেরাই সংঘর্ষ করে সংগঠনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


