সোনারগাঁয়ের বিতর্কিত চেয়ারম্যানরাও প্রস্তাবিত কমিটিতে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৩, ০৭:৩২ পিএম
# সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশেই পদায়ন বিতর্কিতদের
সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে ইউনিয়ন পরিষদের বিতর্কিক তিন চেয়ারম্যানের পদায়নে নিন্দার ঝড় বইছে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগে। কারণ তাদের কারোরই সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে অতীতে ছাত্রলীগ যুবলীগ করে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে উত্থান ঘটেনি। এছাড়া সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি ছাড়া কোন রকম ভূমিকা ছিল না এই বিতর্কিত চেয়ারম্যানদের।
সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় থেকে বারদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন বাবুল যিনি প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি এবং জাতির পিতার হত্যাকারীদের জান্নাত কামনায় সারাদেশ ব্যাপী বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। এছাড়া নৌকা না পেয়ে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন সেই আরিফ মাসুদ বাবুকে ফের আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদে পদায়ন। অপরদিকে বিএনপি-জাতীয় পার্টি রাজনীতির করা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে পরাজিত করা সেই সামসুল আলম সামসুকে থানা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে পদায়ন করা হয়েছে।
সূত্র বলছে, সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুল ওরফে চুম্মা বাবুল। তিনি হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বনে যান। এছাড়া সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে আদিষ্ট হয়ে যায়। মূলত তখন থেকেই সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূইয়ার পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন হওয়াতে বিশেষ আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে কমিটিতে আদিষ্টিত হয়ে যান।
তবে চেয়ারম্যান হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নিয়ে কটুক্তি করে বসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তি করে বলেছিলেন ‘আমি বারদীর ম্যাজিস্ট্রেট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারদী আসলেও আমার হুকুম লাগবে। প্রশাসন আমার পক্ষে কাজ করবে কারো ফোনে প্রশাসন আসবে না। আমি বাবুল যদি বলি সুইচ অফ, দিস ইজ অফ। কারণ আমার যোগ্যতায় আমি চেয়ারম্যান হয়ে আসছি’। এরপর দল থেকে বহিষ্কৃত হন।
পরবর্তীতে দল থেকে ক্ষমা পেয়ে ফের বিতর্কে জড়ান। সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড ও উপজেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে নেতাকর্মীরা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে। সেখানে মোনাজাত পরিচালনা করেন বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মাহাবুব রহমান বাবুল বলেন, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের যারা নিঃস্বার্থ ভাবে হত্যা করেছে তাদের সকল সদস্যকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তি জাতির পিতার খুনীদের জান্নাত কামনা আওয়ামীলীগের এমন বিতর্কিত চেয়ারম্যান হয়ে ফের সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের ৮নং সদস্য পদে আদিষ্টিত হয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের অভিমত সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূঁইয়ার আশীর্বাদে ফের থানা আওয়ামীলীগের সদস্য পদে পদায়ন করা হয়েছে।
অপরদিকে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাতের চাচা আরিফ মাসুদ বাবু সোনারগাঁয়ে ইতিমধ্যেই আওয়ামীলীগের বিতর্কিত নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। কারণ মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক কমিটি থাকা অবস্থায় আহ্বায়ক কমিটি সদস্য দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হোন আনারস প্রতীকে।
পরবর্তীতে নৌকার মনোনীত প্রার্থী সোহাগ রনিকে পরাজিত করে চেয়ারম্যানও হয়ে যান। কিন্তু নৌকার পরাজিত প্রার্থী সোহাগ রনি নির্বাচনের পর অভিযোগ করেছিলেন সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সার হাসনাত স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে গোপনীয় ভাবে কাজ করেছে। তবে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে পদত্যাগ করা আরিফ মাসুদ বাবুকে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের কায়সার হাসনাতের সুপারিশে ২নং সদস্য পদে পদায়ন করা হয়। তার পদায়নে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের অনেক প্রবীণ নেতারা তীব্র সমালোচনা করেছেন।
আরেক বিতর্কিত চেয়ারম্যান নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল আলম সামসু। যিনি সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছত্রছায়ায় নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চশমা প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থীও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কারণ সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূঁইয়ার বাড়িও নোয়াগাঁও ইউনিয়নে।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন নৌকার মনোনীত প্রার্থী আব্দুল বাতেনকে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া চক্রান্ত করে চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সামসুল আলম সামসুকে নির্বাচিত করান এমনও অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে কেঁদে কেঁদে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নৌকার মনোনীত প্রার্থী আব্দুল বাতেন। তবে তাদের অভিযোগই পরবর্তীতে সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়। কারণ এই বিতর্কিত চেয়ারম্যান সামসুল আলম সামসুকে জাতীয় পার্টি থেকে সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া ফুল দিয়ে আওয়ামীলীগের বরণ করে নেন।
মূলত এই সামসু চেয়ারম্যান ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টি, ৯১-৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি, ৯৬-২০০০ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, ২০০১-২০০৭ পর্যন্ত আবারও বিএনপি এবং ২০১৪-২০২০ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির রাজনীতি করে। এর আগেও বিভিন্ন দলের ছত্রছায়ায় চেয়ারম্যান হয়েছিলেন তিনবার। তবে আওয়ামীলীগের যোগ দেয়ার পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের হুমকি দামকি দেন। এছাড়া তার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদেরকেও পিস্তল দিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠে।
পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। এছাড়া তিনি ঢাকার ওয়ারীতে প্রভাব প্রতিপত্তর থাকায় সেখানেও ক্যাডার হিসেবে বিবেচিত এই চেয়ারম্যান। তবে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি করা এই চেয়ারম্যানকে সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে ১০নং সদস্য পদে পদায়ন করা হয়েছে। সোনারগাঁয়ের তৃণমূলের নেতাদের অভিমত ফের সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতির সুপারিশেই পদায়ন হয়েছে এই বিতর্কিত সামসুল আলম সামসু চেয়ারম্যান। এস.এ/জেসি


