Logo
Logo
×

রাজনীতি

দ্বন্দ্বে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরির মিমাংসা ঘরোয়া সালিশে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৩, ০৩:৩০ পিএম

দ্বন্দ্বে ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরির মিমাংসা ঘরোয়া সালিশে
Swapno

 

# ক্ষতিপূরণ পুষিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সাংসদ পুত্র অয়ন
# বিস্ফোরণ কিংবা গুলি এমনকি চড়-থাপ্পড় দেয়ার ঘটনা ঘটেনি : ওসি
# আজ কোন মিমাংসার ঘটনা ঘটেনি : ছাত্রলীগ নেতা রাফেল প্রধান
# এই ঘটনা মিমাংসায় সালিশ হয়েছে বলে শুনেছি : কাউন্সিলর খোরশেদ

 

 

ইন্টারনেট ব্যবসা দখলে নিতে নাসিক ১৩নং ওয়ার্ডের মাসদাইরে জেলা ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুল ইসমাইল রাফেল প্রধানের বিরুদ্ধে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ইফাদুর রহমান তুষারের বাড়িতে হামলার ও গুলি চালানোর যে অভিযোগ উঠেছিল তা শেষ পর্যন্ত মিমাংসা হয়েছে ঘরোয়া সালিশে। গুলি ছোঁড়া এবং ককটেল বিস্ফোরণ করে জনমনে আতঙ্ক তৈরির ঘটনায় পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে।

 

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিজাউল হক দিপু এ ব্যাপারে জানান, ‘গুলি কিংবা ককটেল বিস্ফোরণের কোন ঘটনা কিংবা চড় থাপ্পড় দেয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি। আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম, সেখানে তারা দেখেছে, একই এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা।’

 

এদিকে একই ঘটনার ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে আমরা ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গেলে ওই ব্যবসায়ী গুলি এবং ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে অভিযোগ করেন। আজ এই ঘটনায় মিমাংসায় সালিশ হয়েছে বলে শুনেছি, তবে আমি সেখানে যাইনি, আমাকেও কেউ এ ব্যাপারে ডাকেনি।’

 

এদিকে এই ঘটনায় রহস্যজনক কারণে হামলায় আহত নারায়ণগঞ্জ সিটির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাসদাইর এলাকার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ইফাদুর রহমান তুষার (৩২), তার বড়বোন শান্তা রহমান বৈশাখী (৩৬), মামা মতিন আহমেদ (৭০) ও কামাল আহমেদ (৬০) এ ব্যাপারে মুখ খোলেন নি।

 

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধান যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা, মুরব্বীদের সাথে কথা বলেন। আজ কোন মিমাংসার ঘটনা ঘটেনি। মাসদাইর এলাকায় গুলি ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসআই জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমি সে স্থানে কোন গুলি বা বোমার আলামত পাইনি। তাই পুলিশ বাদি হয়ে কোন মামলা বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে আমাদের কাছে যদি তাদের পক্ষে থেকে যদি কোন অভিযোগ আসে তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

 

অন্যদিকে ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে বিচার সালিশে সাংসদ শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন। ছাত্রলীগ নেতা রাফেল প্রধান অয়ন ওসমানের ঘনিষ্ঠ অনুষ্ঠিত বলে পরিচিত। গতকাল নারায়ণগঞ্জে বৃহত্তর মাসদাইর এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা দখলে নিতে দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে মারামারির ঘটনায় বিশদ জানতে সরেজমিনে গেলে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রাসেল নারায়নগঞ্জ-৪ এর সাংসদ শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে স্থানীয় নেট ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে নেট ব্যবসার আধিপত্য নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা চালায়।

 

বিষয়টি অয়ন ওসমান জানতে পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে হামলাকারী ও তার বাহিনীকে কঠোর হুঁশিয়ারী প্রদান করে বলেন, যারা আমার ও আমার পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে অন্যের উপর জুলূম করে, অবিচার করে, অন্যের ব্যবসা ও অন্যের জায়গা দখলে নেয়ার চেষ্টা চালায় তারা কখনো আমার বন্ধু বা আমার কর্মী হতে পারে না। আমি কোনো সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেইনি আর কখনো দেবো না। তাই আমি এলাকার মুরব্বিদের আহ্বান জানাই তারা যেন বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

 

সেই সাথে যারা এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তারা যেন অতি সত্ত্বর ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ পুষিয়ে দেয়। সেই সাথে ফের এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে সে ব্যাপারে হামলাকারী সহ এলাকার সবাইকে কঠোর হুশিয়ারি আরোপ করেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, কারো কোন ব্যবসা দখলে নেয়া চলবে না, যার যার ব্যবসা সে সে স্বাধীনভাবে পরিচালনা করবে। ব্যবসায়ীরা যেন নির্ভয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে সে ব্যাপারে আমার সব রকম সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে।

 

তার এমন বার্তায় ইতিমধ্যে এলাকাবাসী মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি। এ ঘটনা নিয়ে একটি সালিশও অনুষ্ঠিত হয়। বিচার সালিশের মাধ্যমে এলাকার সকল ব্যবসায়ীদের পাশে থাকায় আশ্বাস দেয়া হয়। সেইসাথে বলা হয় যে, যদি কেউ কোন রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে বা বিশেষ কারো নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় কেউ ত্রাস সৃষ্টির পায়তারা করে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সালিশে উপস্থিত ছিলেন- ইব্রাহীম চেঙ্গিস, আলহাজ্ব ফয়েজউদ্দিন আহমেদ লাভলু, এহসানুল হক নিপুসহ আরো অনেকে।

 

প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে শহরের মাসদাইর এলাকায় পরপর দুই দফা হামলায় ওই ব্যবসায়ী এবং তার পরিবারের আরও ৩ সদস্য আহত হন। আহত তুষারকে খানপুরের ৩০০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকিরা চাষাঢ়ার বেসরকারি হাসপাতাল মেডিহোপ ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। শান্তা রহমান জানান, মাসদাইর এলাকায় তার ছোটভাই তুষারের 'রান অনলাইন' নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে।

 

তিনি মাসদাইরসহ আশেপাশের এলাকার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার। একই এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা রাফেল ও তার ভাই রাসেলের ইন্টারনেটের ব্যবসা আছে। তারা তুষারের ব্যবসা দখলে নিতে চান। শান্তা বলেন, 'শুক্রবার রাফেলের লোকজন আমার ভাইয়ের ইন্টারনেট লাইন কেটে দেয়। আজ শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাফেল ও তার ভাই রাসেলের নেতৃত্বে অর্ধশত সশস্ত্র সন্ত্রাসী পিস্তল, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা হাতে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আমার ভাইকে তারা রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পেটায়।'  

 

‘পরে ৯টার দিকে আবারও একই সন্ত্রাসী বাহিনী এসে আমাদের বাড়ির সামনে গুলি করে, বোমা ফাটায়। ঢিল ছুঁড়ে আমাদের বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলে। বাড়ির সামনে আমাদের ভাড়াটিয়ার একটা মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে। বাধা দিলে আমাকে ও আমার দুই মামাকে তারা মারধর করে। বড়মামার দিকে পিস্তল তাক করে গুলি করারও হুমকি দেয় রাফেলের লোকজন,' বলেন তিনি।

 

স্থানীয় দুজন প্রত্যক্ষদর্শী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, তারা অন্তত ৩ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন এবং অন্তত ২ বার ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তারা বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা ইন্টারনেট ব্যবসায়ী তুষারের বাড়িতে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। এ সময় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।' ঘটনাস্থলের পাশে স্থানীয় কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের বাড়ি। তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে শুনেছি। আমি নিজেও ককটেলের মতো কিছু বিস্ফোরণ হয়েছে এমন শব্দ ২ বার শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসেছে। তারা তদন্ত করছে।’

 

শান্তা রহমান বলেন, ‘অয়ন ওসমানের কাছ থেকে ইন্টারনেটের লাইন নিয়ে আমার ভাই তুষার ব্যবসা করে। রাফেল ও রাসেল অয়ন ওসমানেরই লাইন চালায়। কিন্তু আমার ভাইয়ের লাইন দখলে নিয়ে তারা শুধু নিজেরাই ব্যবসা করতে চায়। এর আগেও আমার ভাইয়ের ওপর হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল তারা।’ এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন