# চাটুকারিতা করে প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতে এই মন্তব্য : সাখাওয়াত
# জিনিসপত্রের দাম কেন বাড়ছে তার জবাবদিহিতা নেই কেন : মামুন
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপিকে নিয়ে হুঙ্কার দিয়ে বক্তব্য রাখেন। তবে তার এই বক্তব্যকে পাত্তা না দিয়ে ড্যামকেয়ার হিসেবে দেখছেন বিরোধী দল বিএনপির নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি সময়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ বিএনপি পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে মাঠ উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি চান বিএনপির সাথে খেলতে, তার বিপরীতে বিএনপির নেতারা বলেন এখন খেলার বয়স। তবে ভোটের মাঠে তাদের খেলাকে জনগণকে নিয়ে জবাব দিতে চায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
এদিকে শনিবার ৩ জুন সাংসদ শামীম ওসমান বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিএনপিকে আওয়ামী লীগ থেকেই কেউ কেউ টাকা দিয়ে সাহায্য করছে বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু কে দেয় কিংবা কার মাধ্যমে টাকা দেয় কারো নাম উল্লেখ্য করেন নাই এই নেতা। এছাড়া তিনি বলেন, গত নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ২০টা সিট পেয়েছে। এবার যদি নির্বাচনে আসে, যদিও তারা বলছে নির্বাচনে আসবে না তবে তারা নির্বাচন করতে চায়, মা বলে নির্বাচন করবে, কিন্তু ছেলে বলে করতে দিবে না।
যে ছেলে মায়ের খবর রাখে না, সে দেশের জন্য কি করবে। বিএনপির বেশ কিছু কর্মী আগামীতে ঝামেলায় পড়ে যাবে। কিন্তু বিএনপির স্থানীয় নেতা কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রতিটি সভায় বলে আসছে তারা এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন না। কেননা তারা ত্বত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবী জানিয়ে আসছেন। তাদের এই দাবী আদায়ের জন্য এখনো আন্দোলন চলমান রেখেছেন।
তিনি বিএনপি নেতাদের হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আগামী নির্বাচন তো দূরের কথা, এরপরের নির্বাচনেও বিএনপি আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিএনপিকে মোকাবেলা করতে আমাদের দলের মহিলারাই যথেষ্ট। বিএনপিদের ঝাড়ু দিয়ে পরিস্কার করতে হবে।
কারণ তারা বর্তমানে দেশের জন্য ময়লা। আমি খবর পেয়েছি সিদ্ধিরগঞ্জের দুই একটি জায়গায় বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি বানানো হয়েছে। তাদের বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি। আমাদের সাচ্চা আওয়ামী লীগের কর্মী দরকার। যারা গাঁ বাঁচাতে বিএনপির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখবেন তাদের আমার দরকার নাই।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা কর্মীরা সাংসদ শামীম ওসমানের বক্তব্যকে পাত্তা না দিয়ে তাকে গঠন মূলক কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে ক্ষমতাসীন দলের এই সাংসদের মন্তব্যকে ড্যামকেয়ার হিসেবে নিয়েছেন বিরোধী দলের নেতা বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
এই প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয় যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, এগুলো শামীম ওসমানের নন পলিটিক্যাল বক্তব্য। পরিবারের অভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলতে পারেন না। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন শক্তিশালী। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাংসদ শামীম ওসমানের এখন চালের দাম কেন ৪০ টাকা থেকে ৭০ টাকা হলো তার জবাব দিহিতা করা উচিৎ।
এছাড়া আমেরিকা কেন বাংলাদেশ শ্যাসন দিল তাদের সেই বিষয়ে কোন জবাব দিহিতা কেন নেই। অথচ তিনি মা ছেলে নিয়ে অভ্যন্তরীন মন্তব্য করছেন। যা রাজনীবিদ হিসেবে তার এই মুখে এই ধরনের কথা মানায় না।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, শামীম ওসমান কখন কি বলে তিনি নিজেও জানেন না। তিনি না জেনে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করছেন। তাছাড়া মা ছেলের অভ্যন্তরীন কথা কী করে তিনি জানেন। কেননা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজের মায়ের সকল খোঁজ খবর রাখার সাথে ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিটি নেতা কর্মীর খোঁজ রাখেন তিনি।
আওয়ামী লীগের কিছু এমপি চাটুকারিতা করে প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য এই ধরনের মন্তব্য করছেন। তারা রাষ্ট্রের ব্যাংক গুলোকে দেউলিয়ার পথে নিয়ে গেছে। তার হুঙ্কারকে বিএনপি পাত্তা দেয় না। তাদের বুকে সাহস থাকলে প্রশাসন ছাড়া রাস্তা নেমে দেখাক। আমাদের আন্দোলনের সাথে জনগণ রয়েছে। আগামী নির্বাচন হবে ত্বত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।
সাংসদ শামীম ওসমান রাজনীতি প্রসঙ্গে বলেন, হঠাৎ করে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসছে। ওই খুনিরা টাকা দিয়ে হোক কিংবা যেভাবেই হোক, ১২-১৩ বছর গর্তে লুকায় ছিলো; এখন বের হয়েছে। আমাদের কেউ কেউর সাথে হয়তো ভালো সম্পর্কও আছে। আমাদের সাচ্চা আওয়ামী লীগার দরকার।
আমাদের ওই আওয়ামী লীগার দরকার নাই, যে ভালো সাজার জন্য গোপনে গোপনে বিএনপির সাথে যোগাযোগ রাখবে; কিংবা জিয়াউর রহমানের জন্মদিনে টাকা দিয়া সাহায্য করবে। কিন্তু জিয়াউর রহমানের জন্ম দিনে কে টাকা দিয়ে সাহায্য করছে তা তিনি উল্লেখ্য করেন নাই। তার এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এস.এ/জেসি


