Logo
Logo
×

রাজনীতি

১২ জুন ধামগড়ের সম্মেলনের দাবি

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৩, ০৫:৩৯ পিএম

১২ জুন ধামগড়ের সম্মেলনের দাবি
Swapno

# রাতের আধারে যেন কাউকে এই পদে বসানো না হয় : মাসুম

# তারিখ পেছালে তাতে বিভিন্ন নেতা কর্মীর দিকে অভিযোগ আসবে : আজিজ

# আমরা ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে বিশ বছরে নিয়ে গেলাম : ভারপ্রাপ্ত সভাপতি
 

সর্বশেষ ২০০৩ সালে হয়েছিল বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। তারপর একে একে কেটে যায় ২০ বছর। এরমধ্যে নির্বাচিত সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন মৃত্যুবরণ করায় সেই পদগুলো শূন্য হয়ে পড়েছে। একই সাথে এর মধ্যে বেশ কয়েকবার গঠন করা হয় বন্দর আওয়ামী লীগের কমিটি।

 

 

কিন্তু ইউনিয়ন কমিটিগুলো সেই পুরানো সদস্য ও ভারপ্রাপ্তদের দিয়েই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে কার্যক্রম। এগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমে আপডেট করার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য খুঁজে পাওয়া যায়নি কাউকে। তবে গত বছরের ২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার পর সেই হালে বাতাস পেতে শুরু করেছিল।

 

 

বন্দরসহ মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিগুলো নতুন করে গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করার তাগিদ দেওয়া হয় কেন্দ্র থেকে। তারপর গত বছরের মধ্যেই বন্দরে অবস্থিত ৫টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ।

 

 

তবে বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর বন্দর উপজেলার একমাত্র মুসাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন করতে সক্ষম হয় বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে গত ৩০ মে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় আগামী ১২ জুন ধামগড় ইউনিয়ন এবং ১৭ জুন বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

 

 

সেই মোতাবেক গতকাল সোমবার ধামগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে একটি জরুরী সভার আয়োজন করা হয়। সভায় যেকোন ভাবেই হোক ১২ জুন এই সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীকে সর্বোচ্চ চেষ্টার অনুরোধ জানান স্থানীয় নেতা কর্মী ও সমর্থকগণ। তবে আগামী ১২ জুন সম্মেলনের তারিখ থাকলেও এখন পর্যন্ত সম্মেলনের কাউন্সিলরদের তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। 

 

 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, এখানে ব্যালটের ব্যাপার আছে, পোস্টারিংয়ের ব্যাপার আছে অথচ সময় খুবই কম। ভোটারদের তালিকা যদি প্রার্থীদের কাছে না যায়, তাহলে ভোট চাওয়ার জন্য প্রার্থীরা প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি কিভাবে যাবে। আমরা বারবার চাচ্ছি যেন ১২ তারিখের সম্মেলন না পেছানো হয়।

 

 

তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সম্পাদককে অনুরোধ করেন আগামী কালের (আজকের মধ্যে) মধ্যে যেন ভোটার তালিকাটি আনার ব্যবস্থা করে তা প্রার্থীদের হাতে পৌছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তা না হলে এই অল্প সময়ের মধ্যে সম্মেলন করা সম্ভব হবে না। এই সম্মেলনের তারিখ কোন কারণে পেছালে তাতে বিভিন্ন নেতা কর্মীর দিকে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ হবে। ধামগড় ইউনিয়ন বন্দরের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। জেলা ও উপজেলা কমিটির বিভিন্ন পদে এখানকার বাসিন্দাদের নাম আছে। 

 

 

এই বিষয়ে ধামগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, যখন একটি কাউন্সিলদের একটি তালিকা জমা দেওয়া হয় তখন অনেকেই বিরূপ মন্তব্য শুরু করে। পরে ইউনিয়ন কমিটির নেতাদের সাথে আলাপ করে রেজুলেশনের মাধ্যমে কমিটির তালিকাটি আমরা বাতিল করি।

 

 

এরপর প্রত্যেক ওয়ার্ডের সভাপতি সম্পাদকের সাথে আলাপ করে তাদের কাছ থেকে নাম সংগ্রহ করি। সেখানে পক্ষ এবং বিপক্ষ দুটি তালিকাই সংগ্রহ করি। তারপর আমাদের সাধারণ সম্পাদকসহ আরও বেশকিছু নেতাকে সাথে নিয়ে এই দুটি তালিকা থেকে নিরপেক্ষভাবে একটি তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করি।

 

 

তবে আমার বক্তব্য হলো ২০০৩ সালের মতো রাতের বারোটা বাজে কিছু নেতৃবৃন্দ ওমক শোককে নেতা বানাবে এটা কিন্তু এবার মানা হবে না। আমরা যে কাউন্সিলর বানাইছি সেই তালিকা কালকের মধ্যে অনুমোদন নিয়ে কালকের ভোটার লিস্ট দিয়ে দেওয়ার জন্য সাধারণ সম্পাক আব্দুল আলীকে আহবান জানাচ্ছি।

 

 

তিনি বলেন, দীর্ঘ ২০টি বছর চলে গেল আমরা ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে বিশ বছরে নিয়ে গেলাম। আমরা যদি ক্ষমতার লোভে এভাবে সময় ক্ষেপণ করি তাহলে সেটা ঠিক না। আমরা এখন অপেক্ষা করতেছি আমাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, প্রধান বক্তা এবং উদ্বোধক কে থাকবেন সইে তালিকাটা যেন আমাদের দিয়ে দেয়া হয়। তাহলে সেইভাবেই আমরা আমন্ত্রণ কার্ড করতে পারবো। আমি আশা করি এখানে যোগ্য লোকই নেতৃত্বে আসবে। 

 

 

এই সময় সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ বলেন, কাউন্সিল কাউন্সিলের সময় মতোই হবে। আমি কাউন্সিলরদের তালিকা দেখে কাউন্সিলরদের সাথে, আমাদের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সাথে, আমার ইউনিয়নের মুরুব্বীদের সাথে এবং আমাদের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করবো।

 

 

তারা যদি আমাকে ধামগড় ইউনিয়নের কোন পদে রাখার পরামর্শ দেয় তাহলে আমি আপনাদের মাঝে আসবো। না হলে আমি আপনাদের মাঝে আসবো না। ধামগড়ের মানুষের যদি আমাকে কোন কেন্ডিডেট হিসেবে প্রয়োজন মনে করে তাহলেই আমি আসবো। আগামীতে আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করতে হলে নির্বাচন কাউন্সিল সবকিছু দরকার।

 

 

তবে সবার কাছে অনুরোধ রাখবো, রাতের আধারে নিধিরাম সর্দারের মতো যেন কাউকে এই পদে বসানো না হয়। যে দিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন। আমাদের সাথে পরামর্শ না করে কাউকে যেন এই পদে বসানো না হয়। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা যেন ধামগড় আওয়ামী লীগের জন্য একটি সুন্দর কমিটি উপহার দেন। 

 

 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, এখানে ব্যালটের ব্যাপার আছে, পোস্টারিংয়ের ব্যাপার আছে অথচ সময় খুবই কম। ভোটারদের তালিকা যদি প্রার্থীদের কাছে না যায়, তাহলে ভোট চাওয়ার জন্য প্রার্থীরা প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি কিভাবে যাবে। আমরা বারবার চাচ্ছি যেন ১২ তারিখের সম্মেলন না পেছানো হয়।

 

 

তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সম্পাদককে অনুরোধ করেন আগামী কালের (আজকের মধ্যে) মধ্যে যেন ভোটার তালিকাটি আনার ব্যবস্থা করে তা প্রার্থীদের হাতে পৌছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তা না হলে এই অল্প সময়ের মধ্যে সম্মেলন করা সম্ভব হবে না।

 

 

এই সম্মেলনের তারিখ কোন কারণে পেছালে তাতে বিভিন্ন নেতা কর্মীর দিকে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ হবে। ধামগড় ইউনিয়ন বন্দরের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। জেলা ও উপজেলা কমিটির বিভিন্ন পদে এখানকার বাসিন্দাদের নাম আছে।  এন. হুসেইন রনী  /জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন