Logo
Logo
×

রাজনীতি

মোহসীন-সুইটির আগ্রাসী ভূমিকায় বিএনপি’র অনুষ্ঠান পণ্ড

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৩, ০৮:১৩ পিএম

মোহসীন-সুইটির আগ্রাসী ভূমিকায় বিএনপি’র অনুষ্ঠান পণ্ড
Swapno

 

# মাইক বন্ধ কর, তোদের এতো বড় সাহস বলেই তেড়ে আসেন সুইটি
# মোহসীন মিয়া সাউন্ড সিস্টেমের তার ছিঁড়ে ফেলে দেন
# তাদের দৈনন্দিন চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে : এড. সাখাওয়াত

 

 

আওয়ামীপন্থী প্যানেলের ব্যানারে নির্বাচিত সভাপতি এড.হাসান ফেরদৌস জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক এড. মোহসীন মিয়ার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অনুষ্ঠানে দফায় দফায় বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

 

এই ঘটনায় বিশেষ করে যুব মহিলা লীগ নেত্রী এড. সুইটি ইয়াসমিন এবং আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. মোহসীন মিয়ার আগ্রাসী ভূমিকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীর অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায় বলে অভিযোগ বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের। এড. সুইটি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের ভাগ্নী। এছাড়া খালেদ হায়দার খান কাজল প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত।

 

প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, গতকাল সোমবার জেলা আইনজীবী সমিতির বার ভবনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। বারভবনের নিচতলায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ। বার ভবনে বিএনপির আলোচনা অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী এড. সুইটি ইয়াসমিন এসে বলে মাইক বন্ধ কর নামাজ চলতাছে।

 

পরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মাইক বন্ধ করে দিয়ে মাইক ছাড়া বক্তব্য দিতে থাকেন। এরপর আবারও এসে এড. সুইটি বলেন, মাইক বন্ধ কর। তোরা বার ভবনে বসে আওয়ামীলীগকে গালাগালি করছোস তোদের এতো বড় সাহস। তখন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানসহ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এসে বলে কে মাইক বন্ধ করেছে জানতে চাইলে সুইটি বলেন আমি করেছি। তখন সুইটি বলে নামাজ চলে দেখেন না।

 

সাখাওয়াত হোসেন খান বলে নামাজ তো শেষ তারপরও কেনো তুমি মাইক বন্ধ করলা। কাজটি ভালো করলা না। তখন সুইটি উত্তেজিত হয়ে বলে কাজটা কি খারাপ করলাম, আপনি কি মারবেন আমারে। এই বলে সুইটি চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকে। এড. সুইটির চিৎকার চেঁচামেচির এক পর্যায়ে বারের সভাপতি এড. হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সেক্রেটারি এড. মহসিন মিয়ার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা দৌঁড়ে এসে সাখাওয়াত হোসেন খানসহ বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।  

 

এসময় বার ভবনে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয় ও সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করতে থাকে। আওয়ামীলীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে দফায় দফায় বাকবিতন্ডা ও হট্টোগোল চলতে থাকে। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে এড. মোহসীন মিয়া সাউন্ড সিস্টেমের তার ছিড়ে ফেলে দেন। এরপর আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা বিএনপির টানানো ব্যানার ফেস্টুনও ছিঁড়ে ফেলে।

 

এদিকে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আরও উত্তপ্ত হয়ে যায়। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের মাহমুদুর হাসান মুমিনের সাথে বিএনপিপন্থী আইনজীবী ওমর ফারুক নয়ন ও সায়েম রানার সাথে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তারা এসে বাধা দেয়।

 

জুয়েল ও মহসিনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা এসে আমাদের নেতাকর্মীদের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করেন এবং হাতও তুলেন। শুধু তাই নয় তারা আমাদের সাউন্ড সিস্টেম তার ও ব্যানার ফেস্টুন ছিড়ে ফেলে দেয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগ কিন্তু চিরদিন ক্ষমতায় থাকবে না। আমরা সবাই কিন্তু আইনজীবী। এই বারে সকলের সমান অধিকার রয়েছে। আর গণতান্ত্রিক দেশে সভা সমাবেশ করার সকলের অধিকার রয়েছে। কিন্তু আজকে তারা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যা করল তার জন্য একদিন তাদেরকেও এর মাশুল দিতে হবে।

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া বলেন, আইনজীবী সমিতির কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়া বার ভবনে বিএনপি অনুষ্ঠান পালন করছে। জোহরের নামাজের সময়ে তারা সাউন্ড সিস্টেম বাড়িয়ে দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে নানান বক্তব্য দিচ্ছেন। হুজুর কয়েকবার বলার পরেও তারা শুনেনি।  

 

এ সময়ে আমরা এসে তাদেরকে বলি সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ করেন। আর বারের অনুমতি ছাড়া বার ভবনে অনুষ্ঠান করছেন কার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছেন। এসময়ে সাখাওয়াত হোসেন খান উত্তেজিত হয়ে বলে আমাদের কোন অনুমতি প্রয়োজন নাই। তখন আমরাও বলেছি অনুমতি ছাড়া বার ভবনের ভিতরে কোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। এক পর্যায়ে তারা আমাদের সাথে হট্টগোল করার চেষ্টা করেন। পরে আমরা সাউন্ড সিস্টেম ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে দেই এবং এখানে কোন অনুষ্ঠান হবে না বলে বন্ধ করে দিয়েছি।

 

এ ব্যাপারে আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহানগর বিএনপির আহবায়ক সিনিয়র আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, আজ যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই ন্যাক্কারজনক। আইনজীবীদের ঘরে বসে দোয়ার অনুষ্ঠান আইনজীবীদের করতে দিবেনা, স্বৈরতন্ত্রী মনোভাব দেখিয়ে ধর্মীয় একটি অনুষ্ঠান বাঞ্চাল করে দিবে এটা খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এটাকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বলে মনে করি। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ আইনজীবীদের উপর হামলা চালিয়েছে।

 

মাইক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, ব্যানার ছিড়ে ফেলেছে এবং বারে বসে আইনজীবীদের খাওয়া-দাওয়া করতে বাধা সৃষ্টি করেছে। আরেকটি বিষয়ে আমি খুবই ব্যথিত ও লজ্জিত হয়েছি, সেটি হচ্ছে অনেক জুনিয়র ছেলেপেলে দাপট দেখিয়ে অনেক সিনিয়র আইনজীবীদের নাজেহাল করেছে। অনুষ্ঠানটা বাঞ্চাল করে দিয়েছে। এটা তাদের পূর্ব পরিকল্পিত এবং তাদের দৈনন্দিন চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তারা কোর্টে সবসময় সাধারণ ক্লাইন্ট, সাধারন আইনজীবীদের উপর এসব করে কোর্টে প্রভাব বিস্তার করে কোর্টকে কুক্ষিগত করে লুপেপুটে খেতে চায়, চেষ্টা করে।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এড. সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা বাধা দিয়েছে। আমাদের অনুষ্ঠান পণ্ড করেছে। তারা তাদের ক্ষমতা দেখিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, বিএনপির আইনজীবীরা সমিতির অনুমতি ছাড়াই কর্মসূচি পালন করেছিল। তাই সাধারণ আইনজীবীদের সুবিধার্থে তাদের কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য বলা হয়েছে।এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন