সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই আনোয়ার-খোকনের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৩, ০৯:০১ পিএম
# সম্মেলন হওয়া ওয়ার্ডগুলোর নেতা নির্বাচনেও দ্বিমত দুই নেতা
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অন্তর্গত সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ড কমিটিগুলো নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই মহানগর আওয়ামীলীগের প্রধান দুই মোড়লের। সিদ্ধিরগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের সংসদীয় এলাকা হওয়াতে সর্বদাই নেতৃত্ব প্রদানের বিষয়ে তৃণমূল কর্মীদের প্রশ্নের সম্মুখীন হলে সাংসদের দোহাই দিয়ে পাশ কাটিয়ে যান মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা।
তবে ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্তক্রমে মহানগর আওয়ামীলীগের অন্তর্গত বন্দর ও সদরের ১৭টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিষয়ে এমপি সাহেবের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দেন। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের অঞ্চলের ১০টি ওয়ার্ডে একেবারে বিচরণ নেই বললেই চলে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের।
যেহেতু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন মহানগর আওয়ামীলীগের অন্তর্গত বন্দর-সদর এলাকার ১৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত উক্ত আসনে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রস্তুতি নেয়ার কারণে বন্দর-সদর আসনের নেতৃত্ব নিয়েই মনোযোগী তারা সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অন্তর্গত বন্দর ও সদর আসনের ১৭টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১৭টি ওয়ার্ডে সম্মেলন সম্পন্ন করেছেন। তবে মহানগর আওয়ামীলীগের অর্ন্তভুক্ত সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের ১০টি ওয়ার্ডের সম্মেলন বা কমিটিগুলো গঠনের বিষয়ে কোন রকম ব্যাথা নেই মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের।
কারণ বছরের শুরুতে ৮জানুয়ারি ১৭ ওয়ার্ডে সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নিলেও সিদ্ধিরগঞ্জের বিষয়ে কোন রকম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে না নেয়ার সে সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আগত এক নেতা প্রশ্ন করে বসেন সিদ্ধিরগঞ্জের বিষয়ে কি হল? তখন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের এক সুর ছিল স্থানীয় সাংসদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কিন্তু এরমধ্যে ১৭টি ওয়ার্ডের সম্মেলন সমাপ্তি হলেও সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ড সম্মেলনের বিষয়ে এখনো কোন রকম সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।
তবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা কেন্দ্রে তলব করা হলে সেসময় সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ড কমিটিগুলোর সম্মেলন করতে না পারার বিষয়টি উল্লেখিত হত। তলবের পর বন্দর-সদর এলাকার ১৭টি ওয়ার্ডের কমিটিগুলো প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পাশাপাশি সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ডগুলোর সম্মেলনের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসত। কিন্তু কেন্দ্রে তলব থেকে রেহাই মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক একেবারে নিশ্চুপ গোমট ভাব নিয়ে কৌশলী ভূমিকায় রয়েছেন।
তবে ইতিমধ্যেই গত ৩ জুন নারায়ণঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সিদ্ধিরগঞ্জের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন সেখানে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার উপস্থিতি দেখা যায়। তবে সিদ্ধিরগঞ্জে মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে থানা বা ওয়ার্ড ভিত্তিক কর্মী সভাও করতে দেখা যায়নি। এছাড়া মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে বিচরণ নেই বললেই চলে।
এছাড়া মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন তিনি বন্দরের ও সদরের ওয়ার্ডগুলোর নেতৃত্ব নিয়ে বেশি উদগ্রীব কারণ তিনি এই এলাকাগুলো থেকে আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যার কারণে সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ড কমিটিগুলো নিয়ে তার মাথা ব্যাথা একে বারে নেই বললেই চলে। যার কারণে সহসাই আলোর মুখ দেখছে না সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের ১০টি ওয়ার্ডের কমিটি। এস.এ/জেসি


