# কাউকেই প্রশ্রয় দিবেন না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি
# আমার পরিবারের নাম ব্যবহার করলে প্রশাসনকে জানান
বিসিকের ব্যবসায়ীদের লাগাতার অভিযোগের মুখে এমপি সেলিম ওসমানের পর মুখ খুলেছেন এমপি শামীম ওসমান। বিসিকের ব্যবসায়ীরা এরআগে সেলিম ওসমানের কাছে তার পরিবারের কোন কোন সদস্য প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ করেন। এরপর সেলিম ওসমান ডিসিকে ১৫দিনের আল্টিমেটাম দেন। এবার একই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শামীম ওসমানও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এবং তিনিবিসিক শিল্প এলাকায় ঝুট সন্ত্রাসীসহ অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।
প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীকেও এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জে আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এসময় বিসিকে অবস্থিত বহু গার্মেন্টস মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিসিকের সন্ত্রাসীদের প্রভাব বিস্তার রোধে নানা ধরণের উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জে র্যাবকে নিয়ে আসবো, পুলিশ সুপারকে নিয়ে আসবো, দরকার পরলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়কেও নিয়ে আসবো। এখানে যাতে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো ব্যাবসা করতে পারে। আপনি মাল দিবেন না ফালাইবেন, নাকি আগুন দিয়ে ধরায় দিবেন এটা আপনার ইচ্ছা।
আপনারা কাউকেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দিবেন না। 'শামীম ওসমান বলেন, ‘ঈদের পর নারায়ণগঞ্জে একটা প্রোগ্রাম করেন। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিল্প মন্ত্রীকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করেন। আমি ওই প্রোগ্রামে বলবো যদি শিল্প মন্ত্রণালয় আমার বিসিকের সমস্যা যদি সমাধান না করে, তাহলে আমার এই এলাকার মানুষ শিল্প মন্ত্রণালয়কে আর ট্যাক্স দিবে না। এখান থেকে তাদের হাজার হাজার কোটি টাকা কামায়া দিবো কিন্তু তারা আমাদের সমস্যা সমাধান করবেন না; এটা হবে না।’
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি শামীম ওসমান কখনো কোন ব্যাবসায়ীর কাছে কোন লোক পাঠায় নাই, কোন লোক পাঠাবে না। কেউ যদি আমার কিনবা আমার পরিবারের নাম ব্যবহার করে, তাহলে প্রশাসনকে জানান নয়তো আমাকে জানান। আমি ব্যবস্থা নিবো। আমি ভাত খাইয়াই ভালো আছি। এখানে এত বড় বড় ব্যবসায়ী, এখানে কোথাকার কোন মাস্তান এসে মাস্তানি করে কিভাবে। আমি ব্যবসায়ীদের বলবো, আপনারা নিশ্চিন্ত থাকেন।
আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, যে যেই দল করুক না কেন, যেই হোক না কেন; আই ডোন্ট কেয়ার ড্যাম। আমি সাদাকে সাদা বলি, কালোকে কালো বলি।’ শামীম ওসমান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, মানুষ শান্তি চায়। একটা ব্যবসায়ী যখন ব্যবসা করে, তখন যদি দেখে সামনে আইসা তিনটা মাস্তান দাঁড়ায় গেছে; ওই মাস্তান কে? শামীম ওসমানের সাথে ছবি তুইল্লা রাস্তায় ছাপায় রাখছে। ইচ্ছের বিরুদ্ধে যখন কোন ব্যবসায়ীকে মাথা নত করতে হয়, তখন কোন উন্নয়নই তার ভালো লাগে না।’
শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘যারা বিসিক এলাকায় কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঝামেলা করছেন, আপনারা সাবধানে থাকবেন। একদিন যদি সব মালিক দরজা লাগাইয়া হুঙ্কার দিয়া নিচে নাইম্মা আসেন আর বলেন আয় কে আসবি; এরপর থেকে আমার মনে হয়না আর কারো দরকার আপনাদের পরবে না। একদিন নামেন দেখবেন সব ঠাণ্ডা।’
বিসিক শিল্প মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি ও বিকেএমইএর নিবার্হী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের সভাপতিত্বে, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বিসিক শিল্প মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মনির, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি সহ-সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স এসোসিয়েশন (বিকেওএ) সভাপতি মো.মাহবুবুর রহমান স্বপন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপুসহ সহ বহু প্রতিষ্ঠানের মালিক, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রয়োজনে জুট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লাল পতাকা নিয়ে রাজপথে নামা হবে বলে জানিয়েছেন পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, জুট সন্ত্রাসী যদি আমার বাবাও হয় ছাড় দেওয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সভায় বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ কথা বলেন সেলিম ওসমান। এ সময় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে জুট সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।
সেলিম ওসমান বলেন, হরতালের বিরুদ্ধে ২০০০ সালে আমরা সাদা পতাকা নিয়ে রাজপথে নেমে ছিলাম। লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়ে ছিল। কোন রাজনৈতিক সমাবেশে এতো মানুষ হয় না। এখন অনেক ব্যবসায়ীর বুক ফাটছে কিন্তু বলতে পারছে না। তাই আমি বলছি, বর্তমানে কিছু উশৃঙ্খল ছেলে পেলের জন্ম হয়েছে এই নারায়ণগঞ্জে। সেখানে আবার নেতৃত্ব দেওয়া হয়। সেই নেত্রীকে বলা হয় হাম্মাজান। হাম্মাজান যেই হোক না কেন, কোন অবস্থায় কোন ব্যবসায়ীর ক্ষতি করা যাবে না।
আরেকটা আছে ভাইজান গ্রুপ। মোটরসাইকেল দেওয়া হয়, কে, কবে, কোথায় থেকে মোটরসাইকেল কিনলো, কিভাবে মোটরসাইকেল রাস্তার মধ্যে নামে। কিভাবে বিভিন্ন কারখানায় কারখানায় জুট ব্যবসার সৃষ্টি হয় দেখেন। নতুন নতুন গাড়ি কোথা থেকে আসে, তদন্ত করেন।’ সেলিম ওসমান আরও বলেন, ‘আমি এখনও মরি নাই। ওটা যদি আমার বাপও হয়, কোন রকমের ছাড় দেওয়া হবে না। আপনারা সরাসরি বলতে না পারলে লিখিত ভাবে অভিযোগ বিকেএমইএ ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের কাছে জমা দিবেন। কারখানা গুলোতে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখবেন।
সেই ২০০০ সালে যে ভাবে শক্ত হয়েছিলেন, সেভাবে শক্ত হন। সাদা পতাকা না, এবার প্রয়োজনে লাল পতাকা নিয়ে আপনাদের সাথে বের হবো। আমরা এত গুলো মানুষ একত্রিত হলে এমন কোন মায়ের বেডা জন্মাইছে, তারা বাহাদুরি করবে। নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাস করবে। মোটরসাইকেল বাহিনী চলবে না। সে যদি আমার বাপও হয়, তাহলেও ছাড় দেওয়া হবে না। কোন রকমের ছাড় নাই। কেউ কোন দিন বলবেন না ওসমান পরিবারের সদস্য।
হাতের পাঁচ আঙ্গুল যেমন এক হয় না। ওসমান পরিবারের ৫টা আঙ্গুলও আলাদা আলাদা রকমের আছে, সবগুলো এক সমান না। সুতরাং, আপনাদের ভয়ের কোন কারণ নাই। এক ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘এখান থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে আহ্বান করবো, আমার নারায়ণগঞ্জের মানুষ এই কষ্টে থাকতে পারবে না। তারা লম্বা লম্বা চুল রেখে, মোটরসাইকেল দিয়ে গিয়ে, আমার ফ্যাক্টরীর ভিতরে প্রবেশ করে আমার মালিককে ধমকা-ধমকি করবে। আমার জুটের দাম নির্ধারণ করবে। কারা তারা, ব্যবস্থা নিন।এস.এ/জেসি


