# এককভাবে যুবদলের ১০ ইউনিটের দায়িত্ব রনির কাঁধে
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলকে আরো গতিশীল করার লক্ষে শীঘ্রই কেন্দ্র থেকে আসতে যাচ্ছে জেলা যুবদলের নয়া কমিটি ঘোষণা। জানা গেছে, জেলা যুবদলের কমিটির আহ্বায়ক গোলাম ফারুক খোকন মূল দলে চলে যাওয়ায়। দীর্ঘ ৭ মাস যাবৎ জেলা যুবদলের কমিটিতে আহ্বায়কের পদ ফাঁকা রয়েছে। কিন্তু সকল সময়েই জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খোকন সংগঠনটিকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
কিন্তু সর্ব সময় জেলা যুবদলের হাল ধরে রেখেছে সংগঠনটির সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। তিনি এককভাবে জেলা যুবদলের ১০ ইউনিটের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় হিসাবে জেলা যুবদলের একটি তরুন্যের কমিটি প্রয়োজন সেই লক্ষ্যে আসছে জেলা যুবদলের কমিটি। যার পরিপ্রেক্ষিতে আহ্বায়কের দায়িত্ব নিতে যোগ্য ও অযোগ্য অনেক নেতাকর্মীরই নানাভাবে গ্রুপিং ও লবিং করে যাচ্ছে।
যে যার যার মতো করে বলয় দ্বারা নেতাকর্মী নিয়ে যুবলদের আলাদা ব্যানারে দলীয় সকল কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় নানা অলসতায় কমিটি গঠন আর হয়ে উঠেনি। কিন্তু বর্তমানে জেলা যুবদলের ভিতরে নেতৃত্বের প্রতিযোগী হতে পারে কিন্তু সকল নেতাকর্মীই ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। আর নয়া কমিটির মাধ্যমে আরো গতিশীল হয়ে উঠবে জেলা যুবদল।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০২২ সালের ১৬ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষনা করা হয়েছিল, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের তিন সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি। কমিটিতে গোলাম ফারুক খোকনকে আহবায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে সদস্য সচিব করা হয়। গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক করা হয় ভিপি কবিরকে।
তার পর থেকেই ব্যাপক ভূমিকাভাবে পালিত হচ্ছিল জেলা যুবদলের রাজনীতি। সকল আন্দোলন সংগ্রামে দেখা গেছে গোলাম ফারুক খোকন ও মশিউর রহমান রনির নেতৃত্বে নগরীতে বিশাল বিশাল শোডাউন। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি বেশিদিন, কমিটি হওয়ার ছয় মাসের মাথায় গত বছরের ১৫ নভেম্বর ঘোষনা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৯ সদস্যের আহবায়ক কমিটি যেখানে সদস্য সচিব করা হয় জেলা যুবদলের আহবায়ক গোলাম ফারুক খোকনকে।
ফলে জেলা যুবদলের আহবায়ক পদটি খালি হয়ে যায়। তারপর থেকেই জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির একক নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে জেলা যুবদলের ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি। কিন্তু গোলাম ফারুক খোকন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হওয়ার পর থেকেই তার মাথায় আলাদা একটা চাপ প্রয়োগ হওয়া শুরু করে। যার ফলে একলা দুই সংগঠনের মূল পদে বসে সংগঠন পরিচালিত করা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না।
কিন্তু যখনই একটু সময় পায় তখনই জেলা যুবদলের সাথে দলীয় আলাপ আলোচনা করে থাকে গোলাম ফারুক খোকন তার পাশাপাশি জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিকে ও নানা দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে সংগঠন পরিচালনার লক্ষ্যে। কিন্তু সংগঠনের আহ্বায়ক পদে যোগ্য নেতা পদায়ন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষে কেন্দ্রীয় যুবদল বলেছে অতি শীঘ্রই জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
সেই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা যুবদলের নয়া কমিটিতে আসতে ইতিমধ্যেই অনেক নেতা নিজস্ব কর্মীবান্ধব নিয়ে দলীয় সকল কর্মসূচিতে আলাদা আলাদাভাবে জেলা যুবদলের নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে জেলা যুবদলের ব্যানারে চালিয়ে আসছে জেলা যুবদলের রাজনৈতিক কার্যক্রম। জেলা যুবদলের নেতৃত্ব প্রত্যাশী প্রায় ডজন খানেক নেতা দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
নানা বলয় ও গ্রুপিংয়ের কারণে জেলা যুবদলের কমিটি গঠন জটিল আকার ধারণ করেছে, যার ফলে জেলা যুবদলের কমিটি আসছেনা বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। যার কারণে আহ্বায়ক পদায়ন করে নয়া কমিটি গঠনের জন্য বার বার পিছিয়ে পরছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যে প্রায় ৭ মাস চলছে নয়া কমিটি গঠনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন কেন্দ্র্র। কিন্তু এখনও কোনভাবেই কমিটি গঠনের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের জাগিয়ে তুলতে পারছে না কেন্দ্র।
অপরদিকে জেলা যুবদলের বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি এককভাবে সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটিতে স্থান পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন অনেকেই। দলের বিরোধীতাকারী কাউকে নতুন কমিটিতে স্থান না দিতে এবং যুবদলের গঠণতন্ত্র অনুযায়ী পদপ্রার্থী নেতাদের জীবনবৃত্তান্ত, দলীয় কর্মকাণ্ডে ভূমিকা, তৃণমূলে যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে যাচাই বাছাই করে এমন নেতাদের কমিটিতে দায়িত্ব দিতে কেন্দ্রীয় যুবদলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
আর জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের খবরে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচঞ্চলতা ফিরে আসলে ও কেন্দ্রের নানা গড়িমসিতে এটা আর হয়ে উঠছে না। কিন্তু এখন আবার জানা গেছে আসছে ঈদুল আযহার আগেই যোগ্য নেতৃত্ব দ্বারা জেলা যুবদলের কমিটি গঠন হতে পারে। জানা গেছে, বিগত দিনে জেলা যুবদলের যতগুলো কমিটি গঠন হয়েছে সকল কমিটিই বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নেতৃত্বেই সকল কমিটিগুলো এসেছিল।
এবার কার হাত ধরে আসতে পারে জেলা যুবদলের কমিটি এটাই দেখার বিষয়। কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না কারাগারে থাকার কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নয়া কমিটি আসছে একটু ধীরগতি হচ্ছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু যদি সকল নেতাকর্মীদের মাঝে ঐক্য দেখা যায় তাহলে শীগ্রই কেন্দ্রীয কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরেই আসার সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
কারা আসছে জেলা যুবদলের দায়িত্বে এ নিয়ে যুবদল নেতাকর্মীর মধ্যে চলছে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা। এবার নতুন কমিটি গঠন হলে জেলা যুবদল আরও চাঙা হবে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে জেলা যুবদলকে ছায়া দিয়ে রাখা মশিউর রহমান রনিকেই আহ্বায়কের হিসেবে দেখতে চান তৃণমূল।
অপর দিকে কেন্দ্রীয় যুবদলের কার্যকরী কমিটির ১নং সদস্য সাদেকুর রহমান সাদেক, সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শহিদুর রহমান স্বপন, রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম প্রিন্স, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি আনিরুল ইসলাম ইমন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজিব, ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মাসুদ, আড়াইহাজার যুবদল নেতা জাহিরুল ইসলাম জহির, হারুনর রশিদ মিঠু, নূর ইয়াসিন নোবেল, সালাউদ্দিন।
এই সকল নেতাকর্মী ইতিমধ্যেই জেলা যুবদলের নয়া কমিটিতে আসার লক্ষে দৌঁড়ঝাপসহ যে যার যার মতো করে লবিং করে যাচ্ছেন। এছাড়া ও অনেক নেতৃবৃন্দের নাম প্রকাশে না আসলেও তারাও নিজ নিজ বলয় দ্বারা লবিং ব্যাপক তৎপর রয়েছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের দাবি, এই চূড়ান্ত আন্দোলনের বছরে জেলা যুবদলের যোগ্য নেতৃত্ব দ্বারা একটি কমিটি অত্যন্ত জরুরী। যার পরিপ্রেক্ষিতে যাতে জেলা যুবদলের আওতাধীন সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠে।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা র্দীর্ঘদিন প্রায় পনেরো-ষোলো বছর যাবৎ রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল নারায়ণগঞ্জ শাখা সব সময় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। আর বর্তমান রাজনীতির যে প্রেক্ষাপট সেই প্রেক্ষাপট অনুযায়ী। আমাদের যে ১০টি ইউনিট সকল ইউনিটগুলো আমাদের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল বিগত দিন থেকে আরো ব্যাপক শক্তিশালী।
আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য আমি আর আমরা আহ্বায়ক সমন্বয় হয়ে প্রতিটা ইউনিটের সাথে এক সাথে যোগাযোগ রেখে আন্দোলন সংগ্রাম এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্মসূচিগুলো পালন করে যাচ্ছি। সকল কর্মসূচিতে জেলা যুবদল সবচেয়ে বেশে ভূমিকা পালন করে থাকে। আর বর্তমানে আমরা নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। যার কারণে প্রত্যেকটি ইউনিটের বিগত দিন থেকে বর্তমানে ব্যাপক শক্তিশালী।
এছাড়াও আমরা জেলা যুবদল কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে সকল প্রোগ্রামেই অনেক প্রশংসা করে যাচ্ছে। আর বর্তমানে যে জেলা যুবদল রয়েছে সেটার গতি আরো বৃদ্ধি করার জন্য আমাদের পূর্নাঙ্গ কমিটি প্রয়োজন। আশা অতি শীঘ্রই এই পূর্নাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রীয় যুবদল দিয়ে দিবে।এস.এ/জেসি


