Logo
Logo
×

রাজনীতি

সভাপতি-সাধারন সম্পাদক পদের কাউন্সিল  

Icon

লিমন দেওয়ান

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৩, ০২:০৬ পিএম

সভাপতি-সাধারন সম্পাদক পদের কাউন্সিল  
Swapno


 
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির জাঁকজমক সম্মেলন ঘিরে বর্তমানে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎফুল্লতা দেখা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে এক ঝাঁক নেতা। জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকল নেতাকর্মীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন ভোটাভুটির মাধ্যমে যাতে কাউন্সিল হয়। আর দলের তৃণমূল ও তরুন্যেরা যারা কর্মীবান্ধব নেতা তারই যাতে স্থান পায়।

 

 

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এমন বার্তায় নেতাকর্মীদের মাঝে একটি জৌলস ফিরে এসেছে যা বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে দেখা যায়নি। আগামী ১৭ জুন জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বর্তমানে নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির কাউন্সিলকে ঘিরে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করে ফেলেছেন।

 

 

আরো জানা গেছে, জেলা বিএনপির সম্মেলনে বর্তমানে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক কে হবে সেটা নিশ্চিত করা হবে কাউন্সিলের মাধ্যমে। আর বাকি পদগুলোর শূর্নস্থান পরে পূরন করা হবে। এছাড়াও ১০টি ইউনিটের সকল নেতাকর্মী ও অংঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরাসহ অংশ গ্রহন করবে যার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটাই জাঁকজমকভাবেই সম্মেলন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

 

 

আর সম্মেলনে যাতে কোন প্রকারের জোট ঝামেলা না হয় সেই লক্ষে ৭টি উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে সকল ইউনিট থেকে নেতা ঝাঁচাই বাছাই করে প্রতিটি কমিটিতে ১৫জন নেতা রাখা হয়েছে। যার কারণে কোন প্রকারের বিশৃঙ্খলা না হওয়ারই সম্ভবনা বেশি রয়েছে। কারণ সকল ইউনিট থেকে ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদল, কৃষকদলের নেতাকর্মীদের উপ-কমিটিতে পদায়ন করা হয়েছে।

 

 

ইতিমধ্যে সভাপতি নির্বাচনে বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন রয়েছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাউকে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। কিন্তু আহ্বায়ক কমিটির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ সভাপতি প্রার্থীতা করার সম্ভবনা রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন করলেও জেলা বিএনপির গিয়াস উদ্দিনের গুছিয়ে উঠতে পারবে না বলে মনে করছে নেতাকর্মীরা।

 

 

অপর দিকে সাধারন সম্পাদক পদে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন, যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান খোকা, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব তিন ত্যাগী নেতার লড়াইয়ে কে নির্বাচিত হয় এটাই দেখার বিষয়। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ধারনা কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত যারা হবে তারই তো কর্মী বান্ধব হিসেবে সুপরিচিত।

 

 

আর তাদের দ্বারাই কমিটির গতি বিগত দিন থেকে আরো বৃদ্ধি পাবে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২৫শে নভেম্বর শহরের আলী আহমেদ চুনকা পৌর মিলনায়তনে জেলা বিএনপি’র তৈমূর আলম খন্দকারকে সভাপতি ও কাজী মনিরুজ্জামানকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধরণ সম্পাদক করা হয়েছিল।

 

 

যা আবারো গিয়াস উদ্দিনের মাধ্যমে ১৪ বছর পর হওয়ার স্বপ্ন পোষন করছেন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। যার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনিপর নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ উল্লাস দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও গত বছরের ১৫ নভেম্ববর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনকে আহ্বায়ক ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম ফারুক খোকনকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

 

 

যার পর পরই দফায় দফায় দলীয় কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির ভূমিকা দেখা অনেকটাই উচ্ছাসিত হয়ে উঠে নেতাকর্মীরা। সকল পোগ্রামেই জেলা বিএনপি সফল হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী কাছ থেকে। এমনকি সেই পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষে জেলা বিএনপির আওতাধীন ১০টি ইউনিটে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

 

যা বিগত ২২ বছরে ও জেলা বিএনপির দায়িত্বে আসা কোন নেতাকর্মী করতে পারেনি। কিন্তু গিয়াস-খোকনের নেতৃত্বেই বিগত দিনে দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দের ব্যর্থতা সকলের চোখের সামনে। সবশেষে সম্মেলনও করে ফেলছে জেলা বিএনপি। ইতিমধ্যে কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ১০টি ইউনিটে কমিটির ১০১ জন করে কাউন্সিলর রয়েছে। সে হিসেবে সারা জেলাজুড়ে ১ হাজার ১০ জন কাউন্সিলর ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

 

 

এছাড়াও আগামী ৯জুন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যালয়ে জেলা বিএনপির সম্মেলন নিয়ে একটি বৈঠ্যক রয়েছে। আর ১০ জুন নির্বাহী সদস্যদের সাথেও জেলা বিএনপির সম্মেলন নিয়ে আলোচনা সভার আভাস পাওয়া গেছে। এই দুই বৈঠ্যকের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে আরো কি কি তৎপরতা আসতে পারে তা দেখা যাবে।

 

 

কিন্তু ইতিমধ্যে জেলা বিএনপির পূর্নাঙ্গ কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে না হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আপাদত সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের পদের নির্বাচন শুধু হবে বলেই শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সভাপতি নির্বাচন না হওয়ার সম্ভবনাই বেশি কারণ ইতিমধ্যে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির যে আহ্বায়ক রয়েছে গিয়াস উদ্দিন উনার বিপক্ষে লড়াই করাটা মামুন মাহমুদের বোকামী বললেই চলে।

 

 

অপর দিকে সাধারন সম্পাদক পদে গোলাম ফারুক খোকনকে দেখতে চায় কেউ কেউ অপর দিকে আহ্বায়ক কমিটির লুৎফর রহমানকে ও অনেক নেতাকর্মী সাধারন সম্পাদক পদেই চাচ্ছেন। এছাড়ও সাবেক ছাত্র নেতা বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল রাজীবকে ও কেউ কেউ পদে দেখতে চাচ্ছেন। তাই এই পদ নিয়ে চলছে নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব।

 

 

কিন্ত পদপদবীর প্রতিযোগিতা থাকলে ও সকল নেতাকর্মীই বর্তমানে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আর কাউন্সিলে ভোটাভুটির মাধ্যমে যাকে বেঁছে নিবে কেন্দ্র তাকেই মেনে নিবে তৃণমূল এমনই দাবি করছে নেতাকর্মীরা। এছাড়াও ১৭ জুন জেলা বিএনপির সম্মেলনের পূর্বে ফতুল্লা থানা বিএনপির সম্মেলন হবে। যার মাধ্যমে জেলা বিএনপির সম্মেলন আরো সুসংগঠিত হবে।

 

 

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমানে জেলা বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীরা অনেকটাই উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেছে। আর সকল নেতাকর্মী বর্তমানে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিয়েছে। আর আমি বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে আছি আর সাধারন সম্পাদকের পদে নির্বাচন করবো।

 

 

যদি সকল ইউনিটের নেতাকর্মীরা আমাকে যোগ্য মনে করে থাকেন তাহলে আমাকে ভোটাভুটির মাধ্যমে সাধারন সম্পাদক পদে পদায়ন করবে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান খোকা যুগের চিন্তাকে বলেন, জেলা বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেকটাই উজ্জ্বীবিত হয়ে উঠেছে।

 

 

আর বর্তমানে জেলা বিএনপির সম্মেলনে ভোটাভুটির মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক কে হবে সেই নির্বাচনই হবে। আর বাকিগুলো পরবর্তীতে আলোচনা করে করা হবে। আর আমরা ইতিমধ্যে জেলা বিএনপির সম্মেলনকে নিয়ে জোরদার আলোচনা ও দফায় দফায় বৈঠ্যক হচ্ছে। আশা করছি যোগ্য নেতৃত্ব দ্বারাই পদে পদায়ন করা হবে।   এন. হুসেইন রনী/ জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন